• সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ফিলিস্তিনের বহু এলাকা ইসরায়েলের ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে অনুমোদন দেশ ছেড়ে পালানোর সময় ইউক্রেনের সাবেক মন্ত্রী গ্রেপ্তার আগমীকাল বছরের প্রথম বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ ইরান থেকে সব ইউরেনিয়াম অপসারণ করতে হবে: নেতানিয়াহু ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার সমুদ্রবন্দর বিধ্বস্ত সিরিয়া-লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলের বোমা হামলায় ৪ জন নিহত বারবার জুতা–তোয়ালে–অন্তর্বাস গায়েব, ধরা পড়ল ‘বিড়াল চোর’ নতুন সরকার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে: অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনের আশা ব্যবসায়ীদের শেষ মুহূর্তে বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের আমদানি বেড়েছে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভ্যাট রিটার্ন দেওয়া যাবে, সময় বাড়িয়েছে এনবিআর

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে : প্রেস উইং

প্রভাত রিপোর্ট / ৩ বার
আপডেট : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

প্রভাত অর্থনীতি: দীর্ঘ আলোচনার পর শুল্কহার কমানো, পোশাক খাতে বিশেষ সুবিধা ও বাজার প্রবেশাধিকারের বিস্তার—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং গত রবিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী আদেশ জারির পর বাংলাদেশসহ প্রায় সব দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়। এরপর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ শুরু হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সমন্বয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলে। প্রায় ৯ মাসের দর-কষাকষির পর বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পারস্পরিক শুল্ক ২০ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।
প্রেস উইং বলেছে, এটি কেবল শুল্ক চুক্তি নয়; বরং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নীতিগত সমন্বয়ের একটি বিস্তৃত কাঠামো। চুক্তির সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের দক্ষতা, দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার ওপর।
চুক্তির কাঠামোতে পণ্য ও সেবাবাণিজ্য, শুল্কপ্রক্রিয়া ও বাণিজ্য সহজীকরণ, উৎসবিধি, স্বাস্থ্য ও উদ্ভিদ সুরক্ষা, কারিগরি বাধা, বিনিয়োগ, ই-কমার্স, সরকারি ক্রয়, শ্রম, পরিবেশ, প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সহযোগিতাসহ বিস্তৃত ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এতে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ বা শ্রম বিষয়ে নতুন করে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়নি; বরং বিদ্যমান আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চুক্তির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতে বিশেষ সুবিধা। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার, যেখানে মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাক। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানি করে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে পারস্পরিক শুল্ক হবে শূন্য, অর্থাৎ কোনো শুল্ক থাকবে না। এতে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে ভিয়েতনাম, ভারতসহ অন্যান্য উৎপাদক দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এই সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বাজার প্রবেশাধিকারের দিক থেকেও চুক্তিটি উল্লেখযোগ্য। এর আওতায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রায় ২ হাজার ৫০০ পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ওষুধ, কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক, কাঠ ও কাঠজাত পণ্য। অন্যদিকে বাংলাদেশ ৭ হাজার ১৩২টি ট্যারিফ লাইন যুক্তরাষ্ট্রকে অফার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৯২২টি ট্যারিফ লাইনে চুক্তি কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই শুল্কমুক্ত সুবিধা কার্যকর হবে, যার মধ্যে ৪৪১টি আগে থেকেই শূন্য ছিল। ১ হাজার ৫৩৮টি ট্যারিফ লাইনে পাঁচ বছরে এবং ৬৭২টি লাইনে ১০ বছরে ধাপে ধাপে শুল্ক শূন্যে নামানো হবে। তবে ৩২৬টি ট্যারিফ লাইন শুল্কমুক্ত সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। একই ধরনের চুক্তিতে এত স্পষ্ট ধাপ সাধারণত দেখা যায় না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
উৎস বিধির ক্ষেত্রে বিদেশি বা দেশীয় মূল্য সংযোজনের নির্দিষ্ট হার বেঁধে দেওয়া হয়নি। ফলে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে জটিল মানদণ্ড পূরণের চাপ তুলনামূলক কম হবে, যা রপ্তানিকারকদের জন্য বাস্তব সুবিধা তৈরি করতে পারে।
এ ছাড়া কাগজবিহীন বাণিজ্য, অশুল্ক বাধা কমানো, ডেটা সুরক্ষাকাঠামোর স্বীকৃতি এবং অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার যুক্ত হয়েছে। মার্কিন সনদ থাকলে চিকিৎসাযন্ত্র ও ওষুধ আমদানিতে পূর্বানুমতির শিথিলতা, কৃষি বায়োটেক পণ্যের দ্রুত নিবন্ধন এবং জীবন্ত পোলট্রি ও উদ্ভিদজাত পণ্যের আমদানিতে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের কথাও বলা হয়েছে। এতে আমদানির প্রক্রিয়া সহজ হলেও দেশীয় উৎপাদকদের প্রতিযোগিতার চাপ বাড়তে পারে।
চুক্তিতে তেল-গ্যাস ও টেলিযোগাযোগ খাতে মার্কিন বিনিয়োগের ইকুইটি সীমা উদারীকরণ, দুর্নীতিবিরোধী বিধান প্রয়োগ, পরিবেশ সংরক্ষণ, বন ও বন্য প্রাণী সুরক্ষা এবং অবৈধ মাছ ধরায় ভর্তুকি না দেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং বিমান, এলএনজি, এলপিজি, সয়াবিন, গম, তুলা ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানি বৃদ্ধির প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাণিজ্য ভারসাম্য আংশিকভাবে আমদানি বাড়িয়ে সমন্বয়ের কৌশল নেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও