প্রভাত রিপোর্ট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা ঢাকা আসছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিতব্য এই রাজকীয় আয়োজনে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে এবং পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবালসহ সার্কভুক্ত দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত থাকবেন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্র এই বিশ্বনেতাদের ঢাকা সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত শনিবার ভারত, চীন ও পাকিস্তানসহ মোট ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
কূটনৈতিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারতের পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রিও প্রতিনিধিদলে থাকছেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে সরাসরি এই আয়োজনে অংশ নিয়ে নতুন সরকারকে শুভেচ্ছা জানাবেন। পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল।
এ ছাড়াও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা ও শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসা নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকায় পৌঁছাবেন। একটি কূটনৈতিক সূত্র আভাস দিয়েছে যে, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ খলিলের পরিবর্তে শেষ মুহূর্তে দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু নিজেই এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশে আসতে পারেন।
দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে থেকেও প্রভাবশালী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রা ইতিমধ্যে তার সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আজ আরও বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের চূড়ান্ত তালিকা পাওয়া যেতে পারে। নতুন এই সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক প্রটোকল অত্যন্ত জোরদার করা হয়েছে। বিদেশি মেহমানদের অভ্যর্থনা জানাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। আগামীকাল বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। বিএনপির এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতিবাচকভাবে দেখছে, যা এই উচ্চপর্যায়ের বিদেশি প্রতিনিধিদের উপস্থিতি থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশের প্রতিনিধিরা একই মঞ্চে উপস্থিত হওয়াকে বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক সফলতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের সঙ্গে প্রতিবেশী ও পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।