খন্দকার মাহাবুবুর রহমান : নাটোর: পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে নাটোরের বৃহত্তম পাইকারি ও খুচরা বাজার ‘স্টেশন বাজারে’ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ইফতারের অপরিহার্য অনুষঙ্গ লেবুর দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বর্তমানে বাজারে মাঝারি আকারের একটি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়, যা গত মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ।
আজ সকালে স্টেশন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লেবুর পাশাপাশি অন্যান্য সবজির দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। প্রতি হালি লেবু মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মানভেদে বড় আকারের এক হালি লেবুর দাম ১০০ টাকাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
বাজারে আসা মো. রফিকুল ইসলাম নামের এক নিয়মিত ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কয়েকদিন আগেও যে লেবু ৫-৭ টাকায় কিনেছি, আজ তা ১৫-২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। রমজান শুরু হওয়ায় এই অবস্থা , তবে রোজায় সাধারণ মানুষ শরবত খাবে কীভাবে?”
খুচরা বিক্রেতারা এই চড়া দামের জন্য সরবরাহ সংকট ও পাইকারি বাজারের উচ্চমূল্যকে দায়ী করছেন। তাদের দাবি, আড়ত থেকে বেশি দামে লেবু কিনতে হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়া এবং আসন্ন রমজানের বাড়তি চাহিদাকে দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, লেবুর এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূলত একটি ‘কৃত্রিম সংকট’ কাজ করছে। স্থানীয় বাজার বিশ্লেষণে উঠে আসা প্রধান কারণগুলো হলো:
রমজানের চাহিদাকে পুঁজি করে অনেক আড়তদার লেবু মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সরবরাহ সংকট তৈরি করেছেন। বাগান মালিক ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি অংশ বেশি লাভের আশায় পরিপক্ক লেবু বাজারে না ছেড়ে গাছেই আটকে রাখছেন। এছারা মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজির কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াও দাম বাড়ার পেছনে একটি প্রচ্ছন্ন কারণ হিসেবে কাজ করছে।
নাটোর জেলা প্রশাসন বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতোমধ্যে সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) নাটোর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালাউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে প্রধান বাজারগুলোতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির দায়ে বেশ কিছু দোকানিকে জরিমানা করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রমজান মাসজুড়ে এই তদারকি অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে লেবু, বেগুন, শসা এবং চিনির মতো পণ্যের দামে কারসাজি ঠেকাতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। অসাধু মজুতদারদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানাসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
নাটোরের সাধারণ ক্রেতারা মনে করছেন, শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, বরং নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং সরবরাহ চেইন নিশ্চিত না করলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জন্য নিত্যপণ্য কেনা দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে। তারা অবিলম্বে লেবুসহ অন্যান্য পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।