• সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ০১:২৪ অপরাহ্ন

জুলাইয়ের পর নারীদের প্রতি সাইবার বুলিং বেড়েছে: নাহিদ ইসলাম

প্রভাত রিপোর্ট / ৭ বার
আপডেট : রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে নারীদের লক্ষ্য করে সাইবার বুলিংয়ের প্রবণতা অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষ করে যেসব নারী রাজনৈতিকভাবে নিজেদের কণ্ঠস্বর জোরালো করার চেষ্টা করছেন, তাদের এমনভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে যে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। রবিবার (৮ মার্চ) এনসিপির সহযোগী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই পরিস্থিতির কারণে ছাত্র আন্দোলনের অনেক নারীই রাজনীতি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া সাংগঠনিকভাবে হয়তো আমরাও নারীদের জন্য সেই কাঙ্ক্ষিত স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারিনি। সাইবার জগতের বিষাক্ত প্রভাব এতটাই তীব্র ছিল যে আমাদের একজন নারী কর্মী নির্বাচনের আগে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে ভয়াবহভাবে সাইবার বুলিং করা হয়। হয়তো তার ব্যক্তিগত জীবনে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে, কিন্তু ওই ঘটনাটি তাকে এতটাই মানসিকভাবে আঘাত করেছিল যে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন। ঢাকা শহরেই যদি নারীদের এমন চাপ সহ্য করতে হয়, তবে ঢাকার বাইরের পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা সহজেই অনুমেয়।’
‘গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আমাদের সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে তা হলো- জুলাই আন্দোলনের সেই নারীরা এখন কোথায়? যারা রাজপথে সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে ছিলেন, পরবর্তীতে রাজনীতির মাঠে তাদের সেই হারে দেখা যাচ্ছে না কেন? আন্দোলনের নেতৃত্ব হিসেবে এর দায় আমাদের ওপর কতটুকু বর্তায়, সেটিও একটি বড় প্রশ্ন,’ যোগ করেন তিনি।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘এটি বাস্তবতা যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যেসব নারী রাজপথে নেমে এসেছিলেন, তাদের সবাই পরবর্তীতে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেননি। বড় একটি অংশকে আমরা রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে হারিয়ে ফেলেছি। তবে আমরা যখন জুলাই পদযাত্রায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়েছি, তখন আন্দোলনকারী সেই সব নারী ও বোনদের সঙ্গে আমাদের দেখা হয়েছে। তাদের মধ্যে পরিবর্তনের গভীর আকাঙ্ক্ষা এবং নিজেদের মতামত প্রকাশের প্রবল ইচ্ছা থাকলেও নানা পারিপার্শ্বিক বাস্তবতার কারণে তারা তা পেরে ওঠেননি।’
যে কোনো নির্বাচনের পরই হঠাৎ করেই যেন নারীদের প্রতি সহিংসতা বেড়ে যায় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবো, দৃঢ়ভাবে এটা বন্ধ করার এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। কারণ বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকেই সমাজে এই জিনিসগুলো বাড়তে থাকে। আমরা হাতিয়ার ঘটনা দেখেছি আরও বিভিন্ন জায়গায় দেখেছি। যে কোনো ক্ষমতা বদলের সঙ্গে সঙ্গেই নারীদের প্রতি সহিংসতা হঠাৎ করেই সমাজে বেড়ে যায়। এ জন্য নিজের দলকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং দলমত যেই হোক না কেন, অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। সরকারের প্রতি সেই আহ্বান আমাদের থাকবে।’ অনুষ্ঠানে জাতীয় নারীশক্তির আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন নাহিদ ইসলাম। এসময় সংগঠনটির আহ্বায়ক হিসেবে মনিরা শারমিন, সদস্যসচিব হিসেবে ডা. মাহমুদা আলম মিতু ও মুখ্য সংগঠক হিসেবে নুসরাত তাবাসসুমের নাম ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও