• শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন
নদীবেষ্টিত ১৬৫টি চর গ্রামে বাস করে প্রায় ৪ লাখ মানুষ

চরাঞ্চলে নারীর ঘামে সচল কৃষিকাজ

প্রভাত রিপোর্ট / ৫৮ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬

নজরুল ইসলাম, গাইবান্ধা: গাইবান্ধা জেলার সদর, সাঘাটা, ফুলছড়ি, ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের নদীবেষ্টিত ১৬৫টি চর গ্রামে বাস করে প্রায় ৪ লাখ মানুষ। জেলার মোট ভৌগোলিক এলাকার ৩৫ শতাংশই চরাঞ্চল। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে বর্ষা শেষে চরজুড়ে ভূট্টা, মরিচ, পেঁয়াজ, বাদাম, ডালসহ বিভিন্ন তরকারির চাষাবাদ। এসব চাষাবাদের ধাপে ধাপে জমি প্রস্তুত, ক্ষেতের পরিচর্যা, কাটা-মাড়াই-ঝাড়াই ও পরবর্তীতে শস্য ঘরে তোলা-এর প্রত্যেকটি কাজে সমান আবার কোনো ক্ষেত্রে নারীদের বিচরণ থাকে অনেক বেশি।
গাইবান্ধার তিস্তাপাড় ও ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলে কৃষি উৎপাদনের নীরব বিপ্লব ঘটছে। সেই বিপ্লবের বড় চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছেন নারীরা। ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘর থেকে বেরিয়ে জমিতে কাজ, সবজি বাগান, গবাদিপশু পালন, ফসল তোলা, কাটা-মাড়াই থেকে শুরু করে ফসল শুকানো-ফলানো, সব ক্ষেত্রেই এখন পুরুষদের পাশাপাশি সমান তালে কাজ করছেন তারা। তবুও কৃষিতে তাদের অবদান এখনও সেভাবে মূল্যায়ন পায় না।
তাদের পারিশ্রমিক, স্বীকৃতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে রয়েছে আকাশ-জমিন ফারাক। এই দৃশ্যমান ফারাকটা আরও সহজে ধরা পড়ে সরাসরি শ্রমজীবি নারীদের বেলায়। যারা মাথার ওপর কাঠফাটা রোদ, পায়ে তপ্ত মাটি কিংবা হাড় কাঁপানো শীত-কোনো কিছুরই তোয়াক্কা না করে জীবিকার তাগিদে বিচরণ করে শক্ত মাঠে।
গত ( ৯মার্চ সোমবার দুপুরে) সরেজমিনে জেলার ফুলছড়ি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বালাসীঘাটে গিয়ে দেখা যায়, এপার থেকে নৌকায় করে ওপারে (চরে) ছুটছে নৌকা ভর্তি নারী শ্রমিক। ভোরের আলো ফুটতেই কাজের সন্ধানে প্রতিদিন ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করেন শত শত নারী শ্রমিক।
এদিন উপজেলার ফুলছড়ি উপজেলার রসূলপুর, হারোডাঙা, গুপ্তমনি ও রতনপুরসহ বেশ কয়েকটি চর ঘুরে দেখা যায়, পাকা মরিচ তোলা ও শুকনা মরিচ বাছাই নিয়ে কর্মচাঞ্চল্যতা চলছে। নারীরা কোথাও দলবদ্ধভাবে কোথাও ছড়িয়ে ছিটিয়ে ক্ষেতের মরিচ তুলছেন, বস্তা করছেন। কোনো নারী তপ্ত রোদে মিল চাতালে রোদে শুকাতে দিচ্ছেন মরিচ। এছাড়া দলবদ্ধভাবে চলছে শুকনা মরিচ বাছাইয়ের কাজ। কেউ কেউ কাজ করছেন ভূট্টার জমিতে আগাছা বাছাইয়ের। যারা এসব কাজ করছেন তাদের বেশিরভাগ নারীই এপার থেকে যাওয়া।
চরাঞ্চলের মাঠে কাজের ব্যস্ততার মধ্যেই চোখে পড়ে গরিব ঘরের এক নারী সফিয়া বেগম। মাথায় রোদ, হাতে দড়ি, সামনে কয়েকটি গাভী আর ছাগল নিয়ে ধীরে ধীরে মাঠের দিকে যাচ্ছেন তিনি। স্বামী আশরাফ আলী জীবিকার তাগিদে ঢাকায় কাজ করেন। সফিয়া জানান, ঈদের সময় স্বামী বাড়ি ফিরলে এই ছাগলগুলো বিক্রি করে ভাঙাচোরা ঘর মেরামতের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ছোট ছোট স্বপ্ন নিয়েই তাই প্রতিদিনের সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি
চরাঞ্চল নদীভাঙন ও নদীর চরে গঠিত উর্বর জমি। এসব অঞ্চলে কৃষকেরা বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করেন, তার মধ্যে শুকনা মরিচ (শুট মরিচ) একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। মরিচ শুকানোর পর সেটিকে পরিষ্কার করা, বাছাই করা এবং বাজারজাত করার আগে যে প্রক্রিয়াগুলো করা হয় তাকে সাধারণভাবে মরিচের মাড়াই বা প্রক্রিয়াজাতকরণ বলা হয়।
চরাঞ্চলে মরিচের মাড়াইয়ের ধাপরোদে শুকানো ক্ষেত থেকে তোলা মরিচ প্রথমে খোলা জায়গায় বা মাদুরে রোদে শুকানো হয়।ঝাড়াই-বাছাই শুকনো মরিচ থেকে ডাঁটা, ধুলো ও খারাপ মরিচ আলাদা করা হয়। মাড়াই বা পরিষ্কার করা অনেক সময় বাঁশের চালুনি বা কুলা দিয়ে ঝেড়ে মরিচ পরিষ্কার করা হয়। বস্তাবন্দি করা শেষে শুকনো মরিচ বস্তায় ভরে হাট-বাজারে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়। রোদে শুকানো ক্ষেত থেকে তোলা মরিচ প্রথমে খোলা জায়গায় বা মাদুরে রোদে শুকানো হয়। ঝাড়াই-বাছাই শুকনো মরিচ থেকে ডাঁটা, ধুলো ও খারাপ মরিচ আলাদা করা হয়।
মাড়াই বা পরিষ্কার করা অনেক সময় বাঁশের চালুনি বা কুলা দিয়ে ঝেড়ে মরিচ পরিষ্কার করা হয়। বস্তাবন্দি করা শেষে শুকনো মরিচ বস্তায় ভরে হাট-বাজারে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়। চরাঞ্চলের কৃষকরা সাধারণত পরিবার বা গ্রামবাসীর সহায়তায় ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে এই কাজগুলো করেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ভালো অবদান রাখে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও