প্রভাত রিপোর্ট : চলছে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি। এ সময় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক প্রায় ফাঁকা। আর এই ফাঁকা সড়কেই বেপরোয়া গতিতে চলছে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও সিএনজিসহ নানা যানবাহন। ফলে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, হতাহতও হচ্ছেন অনেকে।
ঈদের আগের দিন রাত থেকে রবিবার (২২ মার্চ) বিকাল তিনটা পর্যন্ত শুধু রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে গিয়েছেন প্রায় ৪০০ রোগী। এর মধ্যে বেশিরভাগই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। রবিবার দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত নিটোরের জরুরি বিভাগে সরেজমিনে দেখা যায়, একের পর এক আহত রোগী চিকিৎসার জন্য আসছেন।
তাদের মধ্যে একজন বিপ্লব। তাকে ট্রলিতে করে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান তার বন্ধুরা। বিপ্লব জানান, তাদের বাসা যাত্রাবাড়ী এলাকায়। দুপুর ১২টার পর দুই বন্ধুকে নিয়ে (মোট তিনজন আরোহী) মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হন। এলাকার সড়কেই চলার সময় হঠাৎ একটি সিএনজি এসে ধাক্কা দিলে তারা ছিটকে পড়ে যান। এতে তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে গুরুতর জখম হয়।
মানিক নামের আরেক আহত ব্যক্তি জানান, তিনি মোটরসাইকেলে গাজীপুর যাচ্ছিলেন। পথে পেছন থেকে একটি সিএনজি ধাক্কা দিলে তিনি সড়কে পড়ে যান। এতে তার ডান পায়ের গোড়ালি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিটোরে আসেন।
শুধু এই দুজনই নন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে অনেকেই চিকিৎসা নিতে আসছেন এই হাসপাতালে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের বড় অংশই সড়ক দুর্ঘটনার শিকার, যার মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই বেশি। কারও হাত ভেঙেছে, কারও পা, আবার কেউ ছোটখাটো আঘাত নিয়েও চিকিৎসা নিচ্ছেন।
নিটোরের জরুরি বিভাগে ১০ শয্যার বেড থাকলেও রোগীর চাপ অনেক বেশি। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের স্ট্রেচারে রেখেই চিকিৎসা দিতে দেখা গেছে। জরুরি বিভাগে তিনজন চিকিৎসক রোগীদের দেখছেন। তাদের সঙ্গে ৭-৮ জন নার্স ও সহায়ক কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় কয়েকজন রোগীকে অপারেশনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
জরুরি বিভাগের এক নার্স জানান, অন্যান্য দিনের তুলনায় ঈদের দিন ও ছুটির সময়ে রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. এহসানুল কবির বলেন, “সাধারণ দিনের তুলনায় ঈদের ছুটিতে রোগীর চাপ অনেক বেশি। চাঁদ রাত ১২টা থেকে আজ বিকাল তিনটা পর্যন্ত প্রায় ৪০০ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ঈদের আগের দিন রাত ১২টা থেকে গত রাত ১২টা পর্যন্ত ২৬৬ জন চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬১ জন ভর্তি রয়েছেন। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ঈদের দিন রাত ১২টা থেকে আজ বিকাল তিনটা পর্যন্ত ১২৭ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৪১ জনকে ভর্তি করা হয়েছে, বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।
নিটোরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান বলেন, “ঈদের ছুটিতে প্রতিবছরই সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যায়, ফলে রোগীর চাপও বাড়ে। গত বছর তিন চাকার যানবাহনের দুর্ঘটনা বেশি থাকলেও এবার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই বেশি দেখা যাচ্ছে।”তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতি শিফটে ১৮ জন করে চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত জনবল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. ফারুক জানান, প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্নভাবে প্রচুর আহত মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। শুধুমাত্র ঈদের দিন ঢামেকের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৫১ জন। যাদের বেশিরভাগই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন।