প্রভাত স্পোর্টস: দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হবে। দুই দল মাঠে। বদলি নামতে টাচলাইনের বাইরে দাঁড়িয়ে চার খেলোয়াড়। এক পাশে লিওনেল মেসি, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো ও রদ্রিগো দি পল। অন্য পাশে পাপা ইয়াদে। পরিচয় করিয়ে দেয়া যাক; মৌরিতানিয়ার উইঙ্গার, খেলেন মলদোভান লিগের দল শেরিফ তিরাসপোলে। অন্য তিনজনের নাম-পরিচয় নিশ্চয়ই বলতে হবে না! ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তৃতীয় ও ১১৫তম মুখোমুখি হলে শক্তির অসম লড়াইটা দেখতে কেমন লাগে, সেটা বুঝিয়ে দিচ্ছিল বদলির ওই মুহূর্ত।
স্কোরলাইনে পার্থক্য হয়ে গিয়েছিল তার আগেই, ১৭ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ ও ৩২ মিনিটে নিকো পাজের গোলে। তাতে লা বোমবোনেরা স্টেডিয়ামের দর্শকদের খুব তৃপ্ত হওয়ার কথা নয়। বিরতির পর মেসি-দি পলরা কেন গোল পেলেন না, সেই প্রশ্ন তো অবধারিত। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যোগ করা সময়ে (৯৪ মিনিট) শেষ বাঁশি বাজার আগে গোল হজম করেছে আর্জেন্টিনা!
শেষ মুহূর্তে মৌরিতানিয়ার ওই ‘ধাক্কা’য় ২-১ গোলের জয়টা আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির কাছে খুব একটা মধুর লাগবে না হয়তো। তবে মৌরিতানিয়ার ডিফেন্ডার জর্ডান লেফোর্ট এই ম্যাচ কখনো ভুলবেন না। মৌরিতানিয়ার হয়ে অভিষেকেই গোল পেলেন, সেটাও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে। দলীয় আক্রমণে আর্জেন্টিনার বক্সে জটলার ভেতর থেকে নেওয়া শটে গোল করেন লেফোর্ট।
মেসি ও দি পলের বেঞ্চে বসানোর ইঙ্গিত আগেই দিয়ে রেখেছিলেন স্কালোনি। একাদশে তাঁদের অনুপস্থিতিটা তাই অপ্রত্যাশিত ছিল না। বরং বেঞ্চে বসে প্রথমার্ধে ফার্নান্দেজদের খেলা উপভোগ করেছেন দুজন।
১৭ মিনিটে নাহুয়েল মলিনার ক্রসে ফার্নান্দেজের গোলের চেয়ে ৩২ মিনিটে ফ্রি–কিকে নিকো পাজের গোলে মেসির আনন্দটা বেশি বোঝা গেল। করতালির সঙ্গে দি পলকে কিছু একটা বললেন। সামনে বিশ্বকাপের দল গড়া হবে। মানবদেয়াল ফাঁকি দিয়ে নিচু শটে করা গোলে সেই দৌড়ে আরেকটু এগোলেন নিকো। তবে গোলটি তাঁর কাছে অন্য কারণেও গুরুত্বপূর্ণ। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোল বলে কথা!
মেসি মাঠে নামার কিছুক্ষণ পরই গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। ডান দিক থেকে কাট ইন করে ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শট—সেই চেনা মুভ, কিন্তু পোস্টে রাখতে পারেননি। ছোটখাটো আরও বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেছিলেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার-থিয়াগো আলমাদারা। কিন্তু আর্জেন্টিনার গোল করায় যে একটু অরুচি ধরেছিল, সেটা বুঝিয়ে দেয় মৌরিতানিয়ার পোস্টে মাত্র ৪টি শট রাখতে পারার পরিসংখ্যান। মৌরিতানিয়া এ জায়গায় সমান। তাঁরাও ৪টি শট রাখতে পেরেছে আর্জেন্টিনার পোস্টে। শেষ দিকে দুটি ভালো সুযোগও পেয়েছিল গোলের।
৮৯ মিনিটে মৌরিতানিয়া ফরোয়ার্ড সৌউলেমান অ্যানের বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শট সেভ করেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ৭৪ মিনিটে তাঁদের মিডফিল্ডার মাতা মাগাসার বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া কোনাকুনি শট ডান পোস্টের কাছ ঘেঁষে যায়।
প্রীতি ম্যাচ ও চোটের বিষয়টি মাথায় থাকায় সম্ভবত আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের খেলায় তেমন একটা ধার দেখা গেল না। বিশ্বকাপের আগে চোটমুক্ত থাকতে চায় সব দলই। আগামী ১ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় ভোরে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে জাম্বিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।