প্রভাত ডেস্ক: চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে টেলিফোনে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ‘অতিরিক্ত আশাবাদী’ অবস্থানের বিষয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদন থেকে এমনটা জানা গেছে।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে নেতানিয়াহুর আত্মবিশ্বাসের ব্যাপারে তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন ভ্যান্স। এক মার্কিন কর্মকর্তা এক্সিওসকে বলেন, ‘যুদ্ধের আগে বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) প্রেসিডেন্টকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন, এ কাজটি (সরকার পরিবর্তন) খুবই সহজ হবে। সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে বাস্তবের চেয়ে অনেক বেশি করে দেখিয়েছিলেন তিনি। আর ভাইস প্রেসিডেন্ট তাঁর (নেতানিয়াহুর) বক্তব্যগুলোকে সতর্ক ও বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করেছেন।’
ফোনালাপের পর এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইসরায়েল সক্রিয়ভাবে ভ্যান্সের কাজকে বিঘ্নিত করছে। ভ্যান্স ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় মুখ্য ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন। ভ্যান্স দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি হস্তক্ষেপের সমালোচক হিসেবে পরিচিত। দুই মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের পাশাপাশি তিনি যুদ্ধবিরতির আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।
একই মার্কিন কর্মকর্তা আরও অভিযোগ করেন, ইসরায়েল এমন সব প্রতিবেদন তৈরি করেছিল, যা পড়ে মনে হয়েছিল যে ইরান ভ্যান্সের সঙ্গে আলোচনায় বেশি আগ্রহী। কারণ, তাদের ধারণা, তিনি যুদ্ধ শেষ করার চুক্তির পক্ষপাতী হবেন।
ওই কর্মকর্তা এক্সিওসকে বলেন, ‘এটা ভ্যান্সের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের একধরনের অপপ্রচার।’
আরেক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা এক্সিওসকে বলেছেন, আলোচনার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে ভ্যান্সকেই সম্ভাব্য পথ বলে মনে করেন তাঁরা। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যদি ইরানিরা ভ্যান্সের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারে, তবে তারা কোনো চুক্তি পাবে না। তিনিই তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো বিকল্প।’