প্রভাত রিপোর্ট: অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শিশুদের হামের টিকা বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়নি বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছি। কিন্ত দুঃখজনকভাবে সেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শিশুদের হামের টিকা বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়নি। বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে অধিবেশন চলাকালীন প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ইউনিসেফ আমাদের অনেক হেল্প করেছে। তারা হামের যে ভ্যাক্সিনেশন, সেটি খুব দ্রুততার সঙ্গে পাঠিয়েছে, যার ফলে আমরা ওষুধগুলো পেয়েছি। প্রায় দুই কোটি শিশুকে এই হামের ভ্যাকসিনেশন আমরা দেব। তিনি বলেন, টেস্ট করার জন্য যে কিট রয়েছে, এটির স্বল্পতা রয়েছে, এটা সঠিক। এটির ব্যাপারেও সরকার কাজ করছে। এর মধ্যে অনেক কিট এসে পৌঁছেছে। খুব সম্ভবত একটি কিট দিয়ে তিন শিশুকে টেস্ট করা সম্ভব হয়। কিছু কিট এই মুহূর্তে সম্ভবত ঢাকার কাস্টমসে আছে, এয়ারপোর্টে আছে। সেগুলো আমরা দ্রুত ছাড়ানোর ব্যবস্থা ইনশ আল্লাহ করছি।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে জুতা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্ন উত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। ওই সংসদ সদস্যের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে গণতন্ত্র, সুশাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বিত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনের শাসন, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন, বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে উন্নয়ন জোরদার করে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এছাড়াও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির এই মূল দর্শনকে বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনগণের কল্যাণ সর্বাগ্রে প্রাধান্য দেওয়ার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সমতা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত কার্যগুলো বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ আগামী ১৮০ দিন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর এবং আগামী পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে বেশকিছু উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন এবং পুনঃখননের কার্যক্রম, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান, কৃষির উন্নয়নে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার/প্যাগোডা ও গির্জা/চার্চে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানি ও উৎসব ভাতা, ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা দেওয়া, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ ইত্যাদি। এছাড়া, সারা দেশে শহর ও গ্রাম অঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন, ‘ই-হেলথ কার্ড’ এর মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেওয়া, পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগ এবং এ অর্থবছরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণসহ অন্যান্য উদ্যোগ বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলমান।
দেশে তথ্যপ্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বহুল প্রতিক্ষিত অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপ্যাল’ (চধুঢ়ধষ) চালুর কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে আগামী ৫ বছরে ২ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড প্রদান এবং উচ্চপ্রযুক্তিতে কয়েক হাজার তরুণকে প্রশিক্ষিত করার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় বিভিন্ন সংস্থা/দপ্তর তথ্যপ্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নানাবিধ পরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর কর্তৃক ৫ বছরে ১০০০ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সার তৈরি করা হবে এবং ৫ বছরে ২ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে ৭৫০০ জন ফ্রিল্যান্সারকে ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ২০২৬ সালে ২৪০০ জনকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (অও), মেশিন লার্নিং (গখ), এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মতো উচ্চপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ত্বরান্বিত করতে ৮৩টি সেবা অনলাইনে প্রদান করা হচ্ছে এবং আগামী ১ বছরে আরও ১০টি নতুন সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হাই-টেক/সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারসমূহ কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য এবং বাংলাদেশে পেপালের কার্যক্রম আরম্ভে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মাধ্যমে ২০টি ব্যাচে প্রায় ১ হাজার আন্ডার গ্র্যাজুয়েট/গ্র্যাজুয়েটদের আইটিইই (ইনফরমেশন টেকনোলজি ইঞ্জিনিয়ার্স এক্সামিনেশন) প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে। বিসিসির মাধ্যমে ৫ হাজার ২০ জন চাকরি প্রার্থী এবং ছাত্র-ছাত্রীকে এআই, মোবাইল অ্যাপ্স ডেভেলপমেন্ট, পাইথন প্রোগ্রামিং, ডাটা অ্যানালাইটিক্স, সাইবার সিকিউরিটি ইত্যাদি স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণসহ ১ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় ৭০০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
উর্দু ভাষী বাংলাদেশি নাগরিকদের স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান৷
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্ন উত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. আব্দুল বাতেনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। এ সময় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের অধিক্ষেত্রাধীন পল্লবী থানায় বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাসকারী উর্দু ভাষী বাংলাদেশি নাগরিকদের স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য অদ্যাবধি কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। তবে বিস্তারিত সমীক্ষা করে পল্লবী থানার আওতাভুক্ত বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাসকারী উর্দু ভাষী বাংলাদেশি নাগরিকদের স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।. তিনি বলেন, উর্দু ভাষী বাংলাদেশি নাগরিকের বসবাসের ক্যাম্পসমূহে ২০১৬ সালের পূর্বে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিল বাবদ ৪০ কোটি ২৭ রাখ ৭৮ হাজার ১৫৩ টাকা বকেয়া ছিল। গত ২৬ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আয়োজনে আন্তঃমন্ত্রণালয় বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির ১ম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হচ্ছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে এ খাতে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে, যা পরিশোধের প্রক্রিয়াধীন।