মো.বিল্লাল মোল্লা, কুমিল্লা উত্তর: কুমিল্লার তিতাস ও মেঘনা উপজেলার মধ্যবর্তী চর দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত টেটাযুদ্ধে এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনায় ৬১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১৫০-২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় এজাহারভুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে মেঘনা থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার আতঙ্কে তিতাস উপজেলার নতুন ভাটেরারচর গ্রাম প্রায় নারী-পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
মেঘনা থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, নিহত কুহিনূর আক্তারের (৩৮) স্বামী মো. কাবিল মিয়া বাদী হয়ে ২৯ জুলাই রাতে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৬১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মাইনুদ্দিন (৪০), মো. হান্নান (২৬), কাশেম বেপারী (৬০), মো. রানা (২১) এবং মজিদপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মো. সুরুজ মিয়া (৬২)। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার দুপুরে তিতাস উপজেলার চরভাটেরা গ্রামের প্রবাসী মো. শাহবাজ ও মজনু মিয়া ব্যক্তিগত কাজে মেঘনা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গেলে চর বিনোদপুর গ্রামের আলী আকবর ও তার সহযোগীরা তাদের মারধর করে আটকে রাখে। খবর পেয়ে ভাটেরারচর গ্রামের লোকজন গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
এর জের ধরে বিকেলে মেঘনার আলীপুর ও চর বিনোদপুর গ্রামের লোকজনের সঙ্গে তিতাসের নতুন ভাটেরারচর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে টেটাযুদ্ধ শুরু হয়। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন। এ সময় চর বিনোদপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল মিয়ার স্ত্রী কুহিনূর আক্তার গলায় টেটাবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
ভাটেরারচর গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, কুহিনূরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চর বিনোদপুর ও আলীপুর গ্রামের লোকজন ট্রলারে করে নদী পাড়ি দিয়ে ভাটেরারচর গ্রামে এসে প্রায় ৩০টি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
গ্রামের বাসিন্দা আলতামুন নেছা, আফিয়া বেগম ও শামসুন্নাহার অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের গ্রামছাড়া করেছে এবং বাড়িঘর লুটপাট করেছে। ফলে তারা এখন নিজ গ্রামে ফিরতে পারছেন না। তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূইয়া ও তিতাস থানা পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কুহিনূর হত্যার বিচার এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে মেঘনা থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, চর দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কুহিনূর আক্তার নিহত হয়েছেন। ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।