প্রভাত রিপোর্ট: বাংলাদেশে অবস্থিত চীন, তুরস্ক ও পাকিস্তানসহ ৪ দূতাবাসে এবং দেশের সরকারি কয়েকটি দপ্তরে চাঁদার দাবিতে ই-মেইল পাঠিয়ে হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দূতাবাসে হুমকির বিষয়টি নিশ্চিত করে এই তথ্য জানিয়েছেন। পরে ডিবি সূত্র নামগুলো নিশ্চিত করেছে।
ডিবি প্রধান বলেন, একটি অপরাধী চক্র ইন্টারনেটের মাধ্যমে ই-মেইল পাঠিয়ে কূটনৈতিক জোনের বিভিন্ন দূতাবাসে হুমকি দিচ্ছে এবং চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছে। এই চক্রটি সাধারণ ও নিরীহ মানুষের বিকাশ নম্বর ব্যবহার করে ই-মেইল পাঠায়, যারা নিজেরাও জানে না যে তাদের নম্বর এই কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ডিবি প্রধান আরও বলেন, আমাদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এটি কেবল চাঁদাবাজি নয়, বরং কাউকে হয়রানি করা বা ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরে হতে পারে। এ ছাড়া, বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসগুলোর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এই চক্রের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজধানীর কয়েকটি বিদেশি দূতাবাসে ই-মেইলের মাধ্যমে হুমকির ঘটনায় পুরো কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বারিধারা ও গুলশানে অবস্থিত দূতাবাসগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ডিএমপির কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আবু খায়ের গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের কাছে এ ধরনের কোনও লিখিত অভিযোগ আসেনি। চীনা দূতাবাস কর্তৃপক্ষ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দফতরকে বিষয়টি জানিয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের মাধ্যমে কাউন্টার টেরোরিজম বিষয়টি তদন্ত করছে।’তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জানার পর আগের চেয়ে নিরাপত্তা বাড়িয়েছি। বিশেষ করে চেকপোস্ট, টহল এবং দূতাবাসের সামনে নজরদারি; এগুলো বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের যে কুইক রেসপন্স টিম রয়েছে, সেগুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তবে আমরা মনে করি এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পুরো কূটনৈতিক এলাকায় যে পরিমাণ নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, তাতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আর কারা হুমকি দিল, কেন দিল, কোন কোন দূতাবাস এই হুমকি পেয়েছে—তা কিছুই আমরা জানি না বা আমাদের লিখিতভাবে কোনও কিছু জানানো হয়নি। ঘটনাটি শোনার পর আমরা আরও এলার্ট হয়েছি।’
প্রসঙ্গত, কয়েকটি বিদেশি দূতাবাসে ই-মেইল পাঠিয়ে হুমকি দেয় একটি গোষ্ঠী। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে দূতাবাসগুলোর প্রতিনিধিদের বৈঠকও হয়। এ ঘটনায় সিটিটিসি তদন্ত শুরু করেছে। সূত্র জানায়, গত সপ্তাহের শেষ দিকে ই-মেইল পাঠিয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত একাধিক দূতাবাসে হুমকি দেওয়া হয়। কোনও গোষ্ঠী আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এসব ই-মেইল পাঠিয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। ই-মেইলে হুমকির ঘটনায় গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা লিখিত অভিযোগ কেউ করেনি বলেও জানিয়েছে পুলিশ।