প্রভাত সংবাদদাতা, শিবচর : মাদারীপুরের শিবচরে পাচ্চর ক্লাস্টারের ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে ৭৫ নম্বর বড় বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে পাচ্চর ক্লাস্টারের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদযাপনের পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে আরও ভালো করার জন্য উৎসাহিত করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এ আর এম ওয়ায়েয মিয়া। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিবচর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সৈয়্যেদাতুন নেছা রুপা, ইন্সপেক্টর (ইউআরসি) শিবচর এস.এম. আমিন উদ্দিন মিয়া এবং শিবচর উপজেলার সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসাররা।
অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা তাদের সাফল্যের জন্য মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। একই সঙ্গে এ অর্জনের পেছনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের অবদানের কথা স্মরণ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা। ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন এবং জীবনে সফল হওয়ার জন্য উপস্থিত সবার কাছে দোয়া কামনা করেন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন খানকান্দি সৈয়দ আশরাফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলী ফকির। শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন,দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়। অজানাকে জানার নাম শিক্ষা, অচেনাকে চেনার নাম শিক্ষা এবং অজেয়কে জয় করার নাম শিক্ষা। যে শিক্ষা সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনে, সেই শিক্ষাই আমাদের কাম্য। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এ সাফল্যের পেছনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের পাশাপাশি তাদের নিজেদের মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্য তিনি শিক্ষক ও অভিভাবকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত সবাইকে অভিনন্দন জানান।
৭৫ নম্বর বড় বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম মিয়া বলেন,আমি ১৯৯৮ সাল থেকে এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছি। বিদ্যালয়ের জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা করে আসছি। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছরই এ বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা বৃত্তি অর্জন করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সুনাম অর্জন করে আসছে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন,একটি দেশ তখনই উন্নত হবে, যখন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ভালো থাকবে। শিক্ষাব্যবস্থা ভালো না থাকলে বাংলাদেশ ৫০ বছরেও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না।
তিনি বলেন, বর্তমানে যারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে, তারাই আগামী ৩০ বছর পর দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবে। দেশ পরিচালনা ও উন্নয়নে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। তাই শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষামুখী শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি শিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্মই পারে একটি দেশের ভবিষ্যৎকে এগিয়ে নিতে। এজন্য শিশুদের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে এ আর এম ওয়ায়েয মিয়া পাচ্চর ক্লাস্টারের সব বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তাদের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের উৎসাহব্যঞ্জক আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।