প্রভাত ডেস্ক: মেরিটাইম ট্র্যাকারগুলো রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) নতুন করে হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে হামলার খবর পেয়েছে। এর জেরে এই পথ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি পেল। এদিকে দুদিন আগে ড্রোন হামলার শিকার হওয়ার পর সৌদি আরব তাদের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে।
ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি জাহাজে কোনো একটি অজ্ঞাতবস্তুর (ক্ষেপণাস্ত্র/ড্রোন) আঘাত হানার খবর তারা পেয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার ভোর পর্যন্ত জাহাজটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এর নাবিকদের অবস্থা কী, তা জানা যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইউকেএমটিওর এই প্রতিবেদন প্রকাশের এক দিন আগে গতকাল শনিবার সৌদি আরব জানিয়েছিল, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা সাময়িকভাবে তাদের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ওই পাইপলাইনে একটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। ইরাক থেকে ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ওই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে, বাগদাদ ও রিয়াদ। ইরাকে ইরানের সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই যুদ্ধে নতুন করে আবার হামলা জোরদার হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। গত এক সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। আর আরব উপদ্বীপজুড়ে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার (৭৪৫ মাইল) দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি ছয় মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের তেল বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহের প্রধান পথ হিসেবে কাজ করছিল। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে আছে।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন ৪০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ৪ থেকে ৫ শতাংশ। ফলে যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক দেশে যে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে, সৌদি আরবকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহে সে ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়নি। এই পাইপলাইন দেশটিকে এত দিন রক্ষা করে আসছিল।
পাইপলাইনে হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি। স্যাটেলাইটের ছবিতে পবিত্র শহর মদিনার দক্ষিণে একটি এলাকায় পাইপলাইনের একটি অংশ থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন ও কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। এর ফলে তেল রপ্তানিতে কী প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সৌদি আরবে তেলের পাইপলাইনে হামলার জন্য ‘সম্ভবত ইরানই দায়ী’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শনিবার আয়ারল্যান্ডে নিজের একটি রিসোর্টে আয়োজিত গলফ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাওয়া ট্রাম্প এ কথা বলেন।
শনিবার সৌদি সিভিল ডিফেন্স এক বিবৃতিতে জানায়, হুতিদের ছোড়া একটি প্রজেক্টাইলে জাজান অঞ্চলে দুজন আহত হয়েছেন। এতে একটি মসজিদসহ বেশ কয়েকটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।