প্রভাত ডেস্ক: বর্তমান সময়ের অধিকাংশ আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি। বিশ্বব্যাপী চলমান তেল সঙ্কট হয়তো কোনো এক সময় থিতিয়ে আসবে, কিন্তু পৃথিবী আর আগের রূপে ফিরবে না। বিশেষ করে আসিয়ান জোটভুক্ত দেশগুলোকে এখন থেকেই উপলব্ধি করতে হবে, সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া এই বিশ্ব পরিস্থিতিতে তাদের টিকে থাকার কৌশল ঠিক কী হবে।
আসিয়ানের প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রই এই বিশ্বব্যাপী তেল সঙ্কটের তপ্ত নিঃশ্বাস অনুভব করছে। এমনকি সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো, যাদের নিজস্ব শক্তিশালী আপৎকালীন মজুত বা ‘বাফার ইন্ডাস্ট্রি’ রয়েছে, তারাও এই সঙ্কটের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি।
কৌশলগত কারণে সিঙ্গাপুর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইরানের সাথে কোনো ধরনের আলোচনায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে, ফিলিপাইন আলোচনার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। কারণ দেশটির মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা তাদের জন্য অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর এশিয়ার বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, শুক্রবার এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ১.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১.৬০ ডলারে পৌঁছায়। দিনের শুরুতে এটি দুই শতাংশের বেশি বাড়লেও পরে কিছুটা স্থিতিশীল হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও ১.১ শতাংশ বেড়ে ৯৫.৮৭ ডলারে দাঁড়ায়।

সূত্র: আল-জাজিরা।