প্রভাত বিনোদন: মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরছেন ছেলে। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে মায়ের কাছে ফিরবেন তিনি, তবে এবার আর আগের মতো হবে না কিছুই। থাকবে না মায়ের মুখে আদরের ডাক, শোনা হবে না কোনো কথা। শেষবারের মতো দেখা হবে মা ও ছেলের, কিন্তু সেই দেখায় মা আর ছেলেকে চিনতে পারবেন না, জানাতে পারবেন না মনের কোনো আকুতি।
যে মায়ের কাছে ফিরে আসার কথা ছিল জীবনের নানা গল্প নিয়ে, সেই মায়ের কাছেই এবার ফিরতে হচ্ছে চিরবিদায়ের মুহূর্তে। ছেলের ফেরার অপেক্ষা যেন শেষবারের মতো মা ও সন্তানের মিলনের আয়োজন করছে। তবে এই অপেক্ষার নীরব ও বেদনাবিধুর।
বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাসিমা খান মারা গেছেন। রবিবার তিনি মারা যান। তার মরদেহ রাখা হয়েছে হিমঘরে। নিথর দেহে তিনি অপেক্ষা করছেন পুত্রের ফেরার জন্য। ছেলে ফিরলে সব হবে। জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে।
নাসিমা খানের ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল নিখোঁজ আছেন কয়েক মাস ধরে। ছোট ছেলেকে খুঁজে না পাওয়ার হাহাকার বুকে নিয়েই দুনিয়া ত্যাগ করলেন তিনি। জীবদ্দশায় শেষ দেখাটা হলো না বড় ছেলের সঙ্গেও। বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান যুক্তরাষ্ট্র থাকেন। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে দেশে ফিরতে রওনা হয়েছেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৫ অক্টোবর উপস্থিত থেকে মায়ের জানাজা ও দাফনের আয়োজনে অংশ নেবন তিনি।
অভিনেত্রীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে নাসিমা খানের মরদেহ রাজধানীর একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নাসিমা খান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
নাসিমা খানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমান।
ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের নিরিবিলি স্বপ্নবিলাস এলাকায় বসবাস করতেন নাসিমা খান। ১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে। বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে একসময় দর্শকের কাছে পরিচিতি পেয়েছিলেন নাসিমা খান। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি জায়গা করে নিয়েছিলেন দর্শকের মনে। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।