মো. নজরুল ইসলাম, গাইবান্ধা : গাইবান্ধা জেলার সাতটি উপজেলায় এখন ইরি-বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুম চলছে। বৈশাখ মাস জ্যৈষ্ঠ মাস শুরু হলেও মাঠজুড়ে এখনও পাকা ধান কাটার ব্যস্তত সময় পার করছে কৃষকরা । মৌসুমে তীব্র শ্রমিক সংকট ও ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গাইবান্ধা জেলার কৃষকরা।
কৃষকদের দাবি, একদিকে ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে বাজারে ধানের বর্তমানে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০-৯০০ থেকে টাকায়। কিন্তু একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরিই গুনতে হচ্ছে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। ফলে ধান বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরি দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের। অনেকে জমির ধান নষ্ট হওয়ার ভয়ে বেশী দামে বাহির থেকে শ্রমিক এনে ধান কাটার কাজ আগে ভাগেই শেষ করার চেষ্টা করছেন, বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি, গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী ও সাদুল্যাপুর উপজেলার বিভিন্ন খোঁজনিয়ে জানাযায়, ধান কাটার জন্য কৃষকরা শ্রমিক খুঁজে পাচ্ছেন না। যারা কাজ করছেন তারা বাড়তি মজুরি দাবি করছেন। শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক স্থানে পাকা ধান মাঠেই পড়ে আছে।
কৃষকদের ভাষ্য, আগে গ্রামের মানুষ কৃষি কাজের ওপর নির্ভরশীল । এখন অনেকেই কাজের সন্ধানে শহরমুখী হওয়ায় এ সমস্যা হচ্ছে । তরুণ শ্রমিকদের বড় একটি অংশ গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানায় কাজ করতে ঢাকা ও অন্যান্য শহরে চলে গেছেন। সেখানে সারা বছর কাজ ও নিয়মিত আয় থাকায় কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
এখন অনেকই বিকল্প পেশা হিসেবে পরিবারসহ স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে গার্মেন্টসে কাজ করছেন। কেউ কেউ ছেলে-মেয়েকেও সঙ্গে নিয়ে শহরে বসবাস করছেন। ফলে গ্রামে কৃষি মৌসুমে শ্রমিকের চাহিদা বাড়লেও সেই তুলনায় কৃষি শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।