প্রভাত বিনোদন : আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে এখন তুমুল উন্মাদনা। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত এই টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন কলম্বিয়ান পপ কুইন শাকিরা। বিশ্বকাপ আমেজের এমন সময়ে নিজের কিছু নতুন গ্ল্যামারাস ছবি শেয়ার করে নেটদুনিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন এই শিল্পী। বিশ্বকাপের থিম সং ও ফাইনালের পারফরম্যান্স নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখন তুমুল উন্মাদনা; যার কেন্দ্রে রয়েছে শাকিরা। মঙ্গলবার তার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে কিছু ছবি পোস্ট করলেন। যেখানে তার খোলামেলা লুক ও পোশাক ভক্তদের নজর কেড়েছে।
ছবিগুলোতে দেখা যায়, একটি বর্ণিল ও ব্যতিক্রমী ডিজাইনের করসেট স্টাইলের টপস এবং ম্যাচিং ফিটিং প্যান্ট পরেছেন শাকিরা। উজ্জ্বল সোনালী ব্যাকগ্রাউন্ডে ভিন্ন ভিন্ন ভঙ্গিতে পোজ দিয়েছেন তিনি। সঙ্গে তার খোলা দীর্ঘ সোনালী চুল এবং আত্মবিশ্বাসী চাহনি ছবিগুলোকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে। মূলত বিশ্বমঞ্চে বড় দুটি খবরের আবহেই শাকিরার এই নতুন অবতার সামনে এলো। ভক্তদের প্রসংসামূলক মন্তব্য এবং প্রতিক্রিয়ায় মুখর হয়ে উঠেছে তার কমেন্ট বক্স। অনেকেই তার এই ফিটনেসের প্রশংসাও করেছেন। সম্প্রতি নাইজেরিয়ান গায়ক বুর্না বয়ের সঙ্গে শাকিরার গাওয়া বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’ মুক্তি পেয়েছে। এছাড়া আগামী জুনে শুরু হতে যাওয়া মেগা বিশ্বকাপের ফাইনালের হাফ টাইমে নিউ জার্সির মাঠে ম্যাডোনা এবং কোরিয়ান পপ গ্রুপ বিটিএস-এর সঙ্গে মঞ্চ কাঁপাবেন শাকিরা। এমন বড় ধামাকার আবহেই তার এই গ্ল্যামারাস লুকের প্রকাশ ঘটল। ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে শাকিরা সবসময়ই একটি অতি পরিচিত ও জনপ্রিয় নাম। ২০১০ সালের ঐতিহাসিক ‘ওয়াকা ওয়াকা’ ছাড়াও ২০০৬ ও ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালেও পারফর্ম করে দর্শকদের মাতিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে দীর্ঘ আট বছরের মানসিক যন্ত্রণা আর আইনি লড়াই শেষে অবশেষে বড় স্বস্তি পেলেন কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা। স্পেনের উচ্চ আদালত এই গায়িকাকে কর ফাঁকির অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ খালাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে শাকিরার কাছ থেকে অন্যায়ভাবে নেয়া প্রায় ৭৬৫ কোটি টাকা (৫৫ মিলিয়ন ইউরো) সুদসহ ফেরত দেয়ার জন্য দেশটির রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্পেনের কর কর্মকর্তাদের দাবি ছিল ২০১১ সালে শাকিরা স্পেনে ১৮৩ দিন বসবাস করেছিলেন যা দেশটিতে কর দেওয়ার জন্য ন্যূনতম সময়সীমা। তবে আদালত রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, কর কর্তৃপক্ষ তাদের এই দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
আদালতের হিসাব অনুযায়ী, ওই অর্থবছরে শাকিরা স্পেনে মাত্র ১৬৩ দিন কাটিয়েছিলেন যা কর দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা থেকে ২০ দিন কম। ফলে তার ওপর আরোপিত জরিমানাকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এই অর্থ ফেরতের পরিমাণের মধ্যে রয়েছে প্রায় ৩৩৪ কোটি টাকা (২৪ মিলিয়ন ইউরো) আয়কর এবং প্রায় ৩৪৮ কোটি টাকা (২৫ মিলিয়ন ইউরো) জরিমানা।
এদিকে এক বিবৃতিতে শাকিরা বলেন, ‘আদালত অবশেষে সত্যকে সামনে এনেছেন। গত আটটি বছর আমার সুনাম নষ্ট করার জন্য সুপরিকল্পিত প্রচারণা চালানো হয়েছে। আমি অনেক রাত না ঘুমিয়ে কাটিয়েছি, যার প্রভাব আমার স্বাস্থ্য ও পরিবারের ওপর পড়েছে।’
তার কথায়, ‘এখানে কোনো কর ফাঁকি দেওয়া হয়নি এবং প্রশাসন নিজেও কখনো তা প্রমাণ করতে পারেনি। কারণ পুরো বিষয়টিই ছিল সাজানো। প্রায় এক দশক ধরে আমার সাথে অপরাধীর মতো আচরণ করা হয়েছে। সাধারণ করদাতাদের ভয় দেখানোর জন্য আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছিল।’