প্রভাত ডেস্ক: প্রাণঘাতী হান্টা ভাইরাস ও ইবোলার প্রাদুর্ভাব বিশ্বব্যাপী ‘বিপজ্জনক ও বিভাজনমূলক’ সময়ের সর্বশেষ সংকট মাত্র বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রস আধানম গেব্রেয়েসুস। সোমবার জেনেভায় সংস্থাটির বার্ষিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সভার উদ্বোধনী অধিবেশনে ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেন, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে নতুন ইবোলা প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তিনি গত সপ্তাহান্তে এটিকে আন্তর্জাতিক জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি হিসেবে ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি এমভি হন্ডিয়াস ক্রুজ জাহাজে বিরল হান্টা ভাইরাস সংক্রমণও উদ্বেগ বাড়িয়েছে বলে জানান টেড্রস।
তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সমাবেশে বলেন, এই দুটি ঘটনা আমাদের অস্থির বিশ্বের সর্বশেষ সংকটমাত্র।
টেড্রস বলেন, সংঘাত, অর্থনৈতিক সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে সহায়তা কমে যাওয়া পর্যন্ত সব মিলিয়ে আমরা এখন কঠিন, বিপজ্জনক ও বিভক্ত সময়ের মধ্যে বাস করছি। তিনি সপ্তাহব্যাপী বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের মূল বক্তব্যে এসব ঝুঁকি নিয়ে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সভায় স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, আক্রান্ত এমভি হন্ডিয়াস জাহাজকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে নোঙর করার অনুমতি দিয়ে যাত্রী ও ক্রুদের উদ্ধার করতে দেওয়া ছিল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তিনি আরও বলেন, অন্যদের সুরক্ষা করাই নিজেদের সুরক্ষার সেরা উপায়। কোনো দেশ একা নিজেকে রক্ষা করতে পারে না।’ এ সময় তার বক্তব্যে শুনে উপস্থিত প্রতিনিধিরা দাঁড়িয়ে করতালি দেন।
২০২৬ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন এমন সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন সংস্থাটি অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন সহায়তা প্রত্যাহার ঘোষণা এবং বড় ধরনের তহবিল কমে যাওয়ার কারণে ডব্লিউএইচও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
সুইজারল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এলিসাবেথ বাউমে-শ্নাইডার তার ভাষণে উল্লেখ করেন,‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাজেট প্রায় ২১ শতাংশ বা প্রায় এক বিলিয়ন ডলার কমানো হয়েছে। শত শত কর্মী চাকরি হারিয়েছেন ও একাধিক কর্মসূচি সংকুচিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, তবে সংকটের মধ্যেও সংস্থাটি বড় ধরনের সংস্কার করতে সক্ষম হয়েছে।
জেনেভা গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউটের গ্লোবাল হেলথ সেন্টারের সহ-পরিচালক সুয়েরি মুন বলেন, হান্টা ভাইরাস সংকট প্রমাণ করে যে কার্যকর, বিশ্বাসযোগ্য, নিরপেক্ষ ও পর্যাপ্ত অর্থায়ন ডব্লিউএইচও’র প্রয়োজন রয়েছে।’
সম্মেলনের প্রথম দিনেই দেশগুলো আবারও তাইওয়ানের একটি বিতর্কিত ইস্যু আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানায়। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং তাইওয়ান ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত যে পর্যবেক্ষক মর্যাদা পেয়েছিল, তা পুনরুদ্ধারের অনুরোধ জানিয়ে আসছে।
আলোচনার টেবিলে থাকা অন্যান্য সংবেদনশীল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ইউক্রেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও ইরান, যা তীব্র বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, ধনী ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতবিরোধের কারণে ২০২৫ সালের মহামারি চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন আটকে গেছে।
সূত্র : এএফপি।