প্রভাত বিনোদন: বাস্তব জীবনে বয়সের ব্যবধান মাত্র এক বছর, অথচ রুপালি পর্দায় একজন অভিনয় করবেন অন্যজনের মায়ের চরিত্রে! আসন্ন একটি কমেডি সিনেমায় বলিউড অভিনেতা বরুণ ধাওয়ানের মায়ের চরিত্রে জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌনি রায়কে কাস্ট করার খবর আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোরগোল পড়ে গেছে। বলিউডের এই খামখেয়ালি কাস্টিং নিয়ে নেটিজেনরা যেমন রসালো ট্রল ও মিম বানাচ্ছেন, তেমনি হিন্দি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে নারী ও পুরুষ অভিনেতাদের বয়সের বৈষম্য নিয়ে নতুন করে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, প্রখ্যাত নির্মাতা ডেভিড ধাওয়ানের পরিচালনায় ‌‘হ্যায় জাওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’ কমেডি সিনেমায় বরুণ ধাওয়ানের মায়ের চরিত্রে দেখা যাবে মৌনি রায়কে। বর্তমানে মৌনি রায়ের বয়স ৪০ বছর, আর বরুণ ধাওয়ানের বয়স ৩৯। পর্দার মা ও ছেলের এই ন্যূনতম বয়সের ব্যবধানটি নেটিজেনদের নজর এড়াতে পারেনি।
খবরটি জানাজানি হতেই নেটপাড়া ক্ষোভে ও উপহাসে ফেটে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, এটি ডেভিড ধাওয়ানের চরম মস্তিষ্ক বিকৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়। অন্য একজন লিখেছেন, বলিউডে অভিনেত্রীদের বয়স ৩৫ পার হতে না হতেই তাদের মায়ের চরিত্র দেওয়া শুরু হয়ে যায়। অনেকে আবার অতীতের এমন কিছু বলিউড সিনেমার উদাহরণ টেনেছেন, যেখানে প্রায় সমবয়সী অভিনেত্রীদের নায়কদের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এই কাস্টিংয়ের বিরোধিতা করে নেটিজেনদের বড় একটি অংশ যুক্তি দিয়েছেন যে, এটি বলিউডের দীর্ঘদিনের লিঙ্গ বৈষম্যের একটি নগ্ন রূপ। যেখানে বেশি বয়সী পুরুষ অভিনেতারা অনায়াসে নিজেদের চেয়ে দুই-তিন দশকের ছোট অভিনেত্রীদের সঙ্গে পর্দায় প্রেম করে যাচ্ছেন, সেখানে নারী অভিনেত্রীদের ক্যারিয়ারের শুরুতেই বা তুলনামূলক কম বয়সেই মাতৃত্বের চরিত্রে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। অবশ্য বিতর্কের মাঝে কিছু অনুরাগী এই সিদ্ধান্তের পক্ষেও দাঁড়িয়েছেন। তাদের মতে, একজন ভালো অভিনেতার কাজই হলো বয়সের তোয়াক্কা না করে যেকোনো চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করা। গ্ল্যামারাস চরিত্রের বাইরে গিয়ে মৌনি রায়ের এমন সাহসী সিদ্ধান্ত প্রশংসার দাবিদার বলেও মনে করছেন অনেকে। কেউ কেউ আবার ধারণা করছেন, সিনেমার গল্পে হয়তো কোনো জাদুকরি বা অদ্ভুত কমেডি উপাদান রয়েছে, যার কারণে এমন কাস্টিংয়ের প্রয়োজন পড়েছে।
এই তুমুল আলোচনা ও বিতর্কের বিষয়ে পরিচালক ডেভিড ধাওয়ান কিংবা বরুণ ও মৌনি রায়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে সিনেমার মুক্তির আগেই এই কাস্টিং বিতর্ক যে সিনেমাটিকে আলোচনার তুঙ্গে নিয়ে গেছে, তা বলাই বাহুল্য।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৫ জুন মুক্তি পাবে ‘হ্যায় জাওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’। এতে বরুণ-মৌনি ছাড়া আরও অভিনয় করেছেন ম্রুণাল ঠাকুর, পূজা হেগড়ে, মণিশ পাল, চাঙ্কি পাণ্ডে ও জিমি শেরগিলসহ অন্যান্যরা। ছবিটি প্রযোজনা করছে টিপস ফিল্মস ও সহ-প্রযোজনায় আছে ম্যাক্সিমিলিয়ান ফিল্মস। এটি ডেভিড ধাওয়ানের ৪৬তম সিনেমা।

সূত্র: মিড-ডে