প্রভাত রিপোর্ট: রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (কেআইবি) চত্বরে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জনপ্রিয় ও বিরল জাতের ফলের সমারোহ দেখা গেছে। নরসিংদীর বিখ্যাত ‘ঘোড়াশাল’ আনারস থেকে শুরু করে ‘থ্রি টেস্ট’ ও জাপানি জাতের মিয়াজাকি আম সব মিলিয়ে দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে মেলাটি।

শুক্রবার (১৯ জুন) মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, স্টলগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড়। তবে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন জাতের আম। ক্রেতারা ৫, ১০ এমনকি ২০ কেজি করেও আম কিনছেন। হিমসাগর, গোপালভোগ, আম্রপালি ও ল্যাংড়া জাতের আম আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মেলায় অংশ নেওয়া ন্যাচারস ফ্রুটের মালিক হাবিবুর রহমান নরসিংদীর পলাশ উপজেলার রাবান গ্রামের বিখ্যাত ‘ঘোড়াশাল’ জাতের আনারস নিয়ে এসেছেন। মিষ্টি স্বাদ, সুঘ্রাণ ও রসে ভরপুর এসব আনারস দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

হাবিবুর রহমান বলেন, নরসিংদীতে এই আনারসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে ঢাকায় বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছি। দেশের অনেক জায়গার আনারস খেয়েছি, তবে এ ধরনের মিষ্টি আনারস খুব কমই পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, আলহামদুলিল্লাহ এগ্রোর স্টলে ক্রেতাদের আগ্রহ দেখা যায় ‘ব্যানানা ম্যাঙ্গো’ ঘিরে। ক্রেতা সামসুদ্দিন বলেন, বাজারে ব্যানানা ম্যাঙ্গোর দাম সাধারণত ১৫০ থেকে ২০০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। এখানে ১০০ টাকায় ভালো মানের আম পাওয়া যাচ্ছে।

স্টলটির উদ্যোক্তা মুরাদ শেখ দর্শনার্থীদের ‘থ্রি টেস্ট’ নামে একটি বিশেষ জাতের আম দেখান। তিনি বলেন, এই আম কাঁচা অবস্থাতেই বেশ মিষ্টি এবং খোসাসহ খাওয়া যায়। পাকা অবস্থায়ও এর স্বাদ অত্যন্ত ভালো। গতকাল ১১০ টাকা কেজি দরে আনা সব আম বিক্রি হয়ে গেছে। দিনাজপুরে আমরা এই আমসহ বিভিন্ন বিদেশি জাতের আম চাষ করছি।

মেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জাপানি জাতের মিয়াজাকি আমও। বিভিন্ন স্টলে প্রদর্শন করা হলেও বিক্রি করছে মাস্টার এগ্রো নামে একটি প্রতিষ্ঠান। স্টলটির বিক্রয়কর্মী জানান, রাজশাহীর বাগানে চাষ হওয়া মিয়াজাকি আম প্রতি কেজি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া শাহরিয়ার এন্টারপ্রাইজের স্টলে মিয়াজাকি, দকমাই, চিয়ানমাই ও রেড পামারসহ বিভিন্ন বিদেশি জাতের আম প্রদর্শন করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আনসার আলী বলেন, বর্তমানে ব্যানানা ম্যাঙ্গো, কাটিমন ও বারি-৪ জাতের আমের বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জাতের আমের চাষও সম্প্রসারণ করা হবে।

মেলায় আম কিনতে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বাবুল আহমেদকে ২০ কেজি আম কিনতে দেখা যায়। তিনি বলেন, প্রতি বছর ফল মেলার জন্য অপেক্ষা করি। মেলা এলে বেশি করে আম কিনি এবং আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিতরণ করি। তুলনামূলকভাবে এখানে দাম কিছুটা কম। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ ফল মেলায় মোট ৬৭টি স্টল অংশ নিয়েছে। শনিবার পর্যন্ত চলবে মেলাটি।