মো.কামাল উদ্দিন, লক্ষ্মীপুর: বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড গোডাউন রোড এলাকার এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপর উত্তেজিত জনতার হাতে আটক হয়ে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ঘাতক। নিহতরা হলেন, শাহিনুর বেগম (৪০), তাঁর বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২০), মেঝো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। নিহতদের বাড়ি কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলায় বলে জানা গেছে। তারা দীর্ঘ বছর ধরে রায়পুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন। ঘাতক অন্তর মজুমদার (২৮) নোয়াখালী সুবর্ণচর উপজেলার কার্তিক মজুমদারের ছেলে বলে নিশ্চিত করেছেন রায়পুর থানা পুলিশ।
নিহত সায়মা কলেজ শিক্ষার্থী, ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী ও শিফা আক্তার রায়পুর মার্চেন্ট প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থী এবং তাদের মা একজন গৃহিণী বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঘটনার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকালে উত্তেজিত জনতার ইটপাটকেলে সাত পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বহুবছর ধরে শাহীনুর তার সন্তানদের নিয়ে ঘটনাস্থলে ভাড়া বাসায় থাকেন। বিগত ২০১৯ সালে রায়পুরের বামনী ইউনিয়নে রাস্তার উপরে পড়ে থাকা বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে নিহত হয়েছেন তাদের বাবা।। এরপর থেকে ৩ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শাহীনুর ওই বাসায় বসবাস করে আসছেন। আজ সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় উত্তেজিত জনতা ঐ যুবককে গণপিটুনি দেয় হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে ৫ জনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। এরমধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা আগেই মারা গেছেন। এছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় এক মেয়েকে ঢাকায় পাঠানো হলে পথেই সে মারা যায়। তাদের সবার শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। আহত এক যুবককে সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিন মিয়া এদিন প্রতিবেদক কে জানান, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। ঘটনাস্থলে মা ও দুই মেয়ে সহ তিনজন, পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়ার পথে অপর মেয়ে এবং অভিযুক্ত যুবকে গণপিটুনি দিয়েছে জনতা। হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাকেও মৃত ঘোষণা করে। এঘটনায় মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মরদেহ সুরতহাল প্রতিবেদনের জন্য সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।