মো. বাবুল শেখ,পিরোজপুর : পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার দীঘিরজান বাজারের সরকারি খাস জমিতে অবৈধ ভাবে গৃহনির্মান করেছেন আওয়ামীলীগ নেতার ইন্ধনে গোপাল ঋষি, গৌতম, উত্তম, গৌরাঙ্গ। নাজিরপুর উপজেলার সর্বাধিক বৃহত্তম বাজার দীঘিরজান। প্রতি বছর প্রায় এক কোটি টাকার মত সরকারী রাজস্ব আদায় হয়। বাজারের নিজস্ব সরকারী খাস জমির স্বল্পতার জন্য দীঘিরজান মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে গরু-ছাগলের এবং টোহা বাজার বসে। ফলে ছেলেদের খেলার মাঠের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে ও ছাত্র- ছাত্রীদের পাঠদানের অনুকূল পরিবেশ হারাচ্ছে। বাজারের পশ্চিম ও পূর্ব পার্শ্বে রয়েছে সরকারি খাস জমি। পশ্চিম পার্শ্বের সরকারি খাস জমিতে স্হানীয় (সাবেক প্রভাবশালী) ১নং মাটিভাংগা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পদক বাপ্পি মজুমদার ও সুশীল মজুমদার অবৈধ ঘরবাড়ী নির্মান করে জবর দখলে আছেন।‌‌ ইজারাদার ও ভূক্তভূগীরা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সপথ বৈরাগীকে অবহিত করলে তিনি কোন কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহন করেন নাই ।
সম্প্রতি পূর্ব পার্শ্বের সরকারী খাস জমিতে কাসেম বালীর রাইচ মিল বিক্রি করায় জনৈক আসমত আলী হাওলাদার ব্যবসা পরিচালনা করেন।
আসমত আলী হাওলাদার উক্ত ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি থাকায় আওয়ামীলীগ সরকারের সময় ঘর সংস্কার করতে না দেওয়ার কারনে স্থাপনা ধ্বংস হয়ে পরিত্যক্ত জায়গায় পরিনত হলে সেখানে হাটের সময় টোহা বাজার বসতো । আর সেখানে আওয়ামীলীগ নেতার ইদ্বনে সুযোগ সন্ধানী গোপাল ঋষি , গৌতম, উত্তম, গৌরাঙ্গ সরকারী খাস ভূমিতে সরকারী বিধি নিষেধ অমান্য করে জ্ববর দখলে ঘর নির্মাণ করছেন। এ ব্যাপারে বাজার ইজারাদার ও ভূক্তভূগীরা কয়েক দফা নাজিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন । এক পর্যায়ে নাজিরপুর ভূমি অফিস থেকে তহসিলদার তাদের অবৈধ নির্মানের বাধা প্রদান করলে সঙ্গিও গ্রাম পুলিশ সহ সবাই কে গায়ে হাত তোলা সহ লাঞ্ছিত করেন এবং সরকারী খাস ভূমির গাছ কেটে টোহা বাজারের জায়গায় ঘর নির্মাণ করেন। এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নাই ।
গোপন সূত্রে জানা যায় নাজিরপুর ভুমি অফিসের এক শ্রেণীর দালালদের অবৈধ যোগসাজশে এই নির্মান কাজ করছেন।
বাজারের বনিক সমিতির সভাপতি অসুস্থ থাকায় নাজিরপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ রাসেল সিকদারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ।
চেয়ারম্যান রাসেল সিকদার বলেন, আমি সহকারী কমিশনার (ভূমি) সপথ বৈরাগী কে বার বার অবহিত করে কোন প্র্কার সহযোগিতা পাই নাই। তার কারনে অবৈধ দখলদার উৎসাহিত হচ্ছে ।
এ ব্যাপারে রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর ও এজ্রিকিউটিভ ম্যজিস্ট্রেট মোঃ রুবাইয়াত ফেরদৌস বলেন বিষয়টি আমি জেনেছি , সরজমিনে যাব । গোপাল ঋষি গং বাজারের সরকারী খাস জমি নিজের রেকর্ডিও জমি হিসেবে দাবী করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি ।