প্রভাত ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়াকে নিজেদের প্রযুক্তি ও উদ্যোগে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ‘অস্ত্র’ ও ‘ব্রহ্মোস’ সরবরাহ করবে ভারত। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার ইস্পাত শিল্প, দুর্লভ খনিজ উপাদান খাত, সাবাং বন্দর এবং ইলেকট্রিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) খাতেও ভারত বিনিয়োগ করবে।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের প্রবাও সুবিয়ান্তোর আমন্ত্রণে গতকাল ৬ জুলাই জাকার্তা সফরে গিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, শিল্পখাতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত একটি চুক্তির শর্ত অনুসারে, এখন থেকে ইন্দোনেশিয়া ভারতের তৈরি সারফেস টু এয়ার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘অস্ত্র’ আমদানি করবে। আরেকটি চুক্তিতে বলা হয়েছে, নিজেদের প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য ভারতের আরেক ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মোস উৎপাদন করবে ইন্দোনেশিয়া এবং ভারত এক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম ও পরামর্শ দিয়ে ইন্দোনেশিয়াকে সহযোগিতা করবে।
ইন্দোনেশিয়ার এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযান অপারেশন সিঁদুরে সারফেস টু এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ‘অস্ত্র’ ব্যবহার করেছিল ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনী। সে সময়েই এই ক্ষেপণাস্ত্রটির গতি, নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষমতা এবং এটিতে ব্যবহৃত উচ্চপ্রযুক্তি ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা বিভাগের নজরে আসে এবং দেশটির সরকার এই ক্ষেপণাস্ত্র আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। ওই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, ইন্দোনেশিয়া তার প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য ভারতের তৈরি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মোস উৎপাদন করতে আগ্রহী। প্রতিরক্ষা ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিতীয় চুক্তি অনুসারে, ব্রহ্মোস উৎপাদনে সহযোগিতা করতে ইন্দোনেশিয়াকে ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাটারি, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করবে ভারত।
এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার ইস্পাত, নিকেল এবং দুর্লভ খনিজ খাতে বিনিয়োগ করবে ভারত, সেই সঙ্গে ইলেকট্রিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম তৈরিতেও ভারতীয় বিনিয়োগ ও পরামর্শ আসবে।
অবকাঠামোগত যে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি স্বাক্ষর হয়েছে, সেটি ইন্দোনেশিয়ার সাবাং বন্দর সংলগ্ন। এই বন্দরটি মালাক্কা প্রণালীর কাছে অবস্থিত এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের যেখানে বন্দর তৈরির প্রকল্প নিয়েছে ভারত, সেখান থেকে সাবাংয়ের দূরত্ব মাত্র ১০০ মাইল।
রাষ্ট্রীয় সফর ‘থ্রি নেশন ডিপ্লোম্যাটিক ভিজিট’-এর অংশ হিসেবে গত ৬ জুলাই ইন্দোনেশিয়ায় গিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ৮ জুলাই ইন্দোনেশিয়া সফর শেষ করে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে যাওয়ার কথা আছে তার।
২০১৮ সালে নিজেদের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ককে ‘বিস্তৃত কৌশলগত’ সম্পর্কে উন্নীত করে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া। সেই চুক্তি স্বাক্ষরের পর এটিই ইন্দোনেশিয়ায় মোদির প্রথম সফর।

সূত্র : ইকোনমিক টাইমস