বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১
Proval Logo

শহরজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট : অচল শিল্প-কারখানা

প্রকাশিত - ০৬ জুলাই, ২০২৪   ০৯:৪১ পিএম
webnews24
অনলাইন ডেস্ক

প্রভাত রিপোর্ট : রাজধানী ঢাকা শহরের অধিকাংশ এলাকায় চলছে তীব্র গ্যাস সংকট। অনেকদিন যাবৎ আজিমপুর, কলাবাগান, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ফকিরাপুল, আরামবাগ, মগবাজার, ডেমরা, যাত্রাবাড়ীসহ রাজধানীর বিভিন্নস্থানে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। কেবল রাজধানী শহরেই নয়, বিভিন্ন  জেলায় গ্যাস সংকটে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দেশের মানুষ। বিশেষ করে গৃহস্থলির কাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিঘিœত হচ্ছে শিল্প কল-কারখানার উৎপাদন। স্পিনিং, উইভিং ও ডাইং-প্রিন্টিং-ফিনিশিং মিলসহ গার্মেন্টসখাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ও পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মে ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে একটি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সামিট গ্রুপের একটি ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ কমেছে। এলএনজি আমদানি করে তা গ্যাসে রূপান্তরের মাধ্যমে পাইপলাইনে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। এটি মেরামতের জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। ৬ অথবা ৭ জুলাই সামিটের এফএসআরইউ সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে। ১২ জুলাই এটি দেশে পৌঁছাবে। দেশে পৌঁছানোর পর কার্যক্রম শুরু করতে আরও ৩দিন সময় লাগতে পারে। এর আগে চলমান গ্যাস সংকট কাটছে না।
জানা যায়, ঘূর্ণিঝড়ের আগে ৩১০০ থেকে ৩১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ হতো। তখন কোনো সমস্যা ছিল না। এফএসআরইউ দেশে এলে সংকট কেটে যাবে। এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. হারুনুর রশীদ মোল্লাহ্ বলেন, এই লাইন তিতাস দেয় না বা কিছু করে না। এগুলো দেশের বিষয়, দেশে ইন্ডাস্ট্রিলাইজেশন করার স্বার্থে বোর্ড মিটিংয়ে ডিসিশন হয়। এটি ইচ্ছা করে কেউ কাউকে দেয় না। তিনি বলেন, আমরা তো গ্যাস আনি না, গ্যাস আনে পেট্রোবাংলা। আমাদের কাজ হলো ডিস্ট্রিবিউশন করা। একটি এফএসআরইউ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ৫০০ মিলিয়ন ফুট গ্যাস কাট হয়েছে। এজন্য সাফার করতে হচ্ছে। এটি এই মাসের মাঝামাঝি চলে এলে সংকট কেটে যাবে।
সংশ্লিষ্ট অনেকেই আশা করছেন, বর্তমান তীব্র গ্যাস সংকট হয়তো থাকবে না। কিন্তু জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের পরও গ্যাস সংকটমুক্ত হবে না বলে নগরবাসিসহ দেশের অনেক জায়গার মানুষ। তবে একটি পাইপলাইনে একাধিক শিল্প-কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়ায় লাইনের শেষ প্রান্তে থাকা কারখানাগুলো গ্যাস কম পাচ্ছে। আর গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি বলছে, তাদের কাজ শুধু গ্যাস সংযোগ ও সরবরাহ করা। পেট্রোবাংলা যে পরিমাণ গ্যাসের জোগান দিচ্ছে তারা সেই পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করছে। তবে চলতি মাসের মাঝামাঝি সংকট কেটে সমাধানের দিকে যাবে বলে দাবি করছে সরকারি প্রতিষ্ঠান দুটি। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এমনিতেই দীর্ঘদিন গ্যাস-সংকটে ভুগছে শিল্পখাত। এ সংকট থেকেই সরকার গ্যাস আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৮ সালের শেষ দিকে দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানি শুরু হয়। সূত্র জানায়, স্থানীয়ভাবে গ্যাসের উৎপাদন না বাড়ায় দেশের গ্যাস খাত অনেকটাই বিদেশ নির্ভর। 
কিউবিক মিটার প্রতি দাম প্রায় দ্বিগুণ হারে বাড়ানোর পরও গার্মেন্টসসহ বিভিন্নখাতের শিল্প-কারখানার মালিকরা বর্ধিত দামেই গ্যাস কিনছেন। কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পচ্ছেন না। গত দু’সপ্তাহের বেশি গ্যাসের সরবরাহ প্রায় বন্ধ।

প্রভাত/টুর
 

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
৭৭ প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি প্রদান
পাইকার ও উৎপাদনকারী একে অন্যকে দুষছেন