বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১
Proval Logo

খালেদা জিয়ার জীবন হুমকির মুখে, আরও আন্দোলন আসবে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত - ০৮ জুলাই, ২০২৪   ০৮:৪৩ পিএম
webnews24
অনলাইন ডেস্ক

প্রভাত রিপোর্ট : হঠাৎ করে সোমবার ভোরে এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘জীবন হুমকির মুখে’ বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘ভোরের দিকে হঠাৎ খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার অনেক অসুখ আছে, যা আমরা বার বার জাতির কাছে তুলে ধরেছি। কিন্তু সরকার কোনও কেয়ার করেনি। তার জীবন হুমকির মুখে। এটা এরা (সরকার) ইনটেনশনালি করছে বলে আমরা মনে করি।’
সোমবার দুপুরে এভার কেয়ার হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসনকে দেখে আসার পর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, এখন এটা জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে যে, খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। তার প্রতি যে অন্যায় করা হচ্ছে, চরম অন্যায়ৃ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটকে রেখে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য, আজ (সোমবার) বিএনপি চেয়ারপারসন হাসপাতালে এসেছেন। হঠাৎ হঠাৎ আসতে হচ্ছে। কয়েক দিন আগেও তাকে হাসপাতালে আসতে হয়েছে। জটিল অসুখগুলো ক্রমাগত তাকে আক্রমণ করেছে। আমরা বার বার বলেছি, তার চিকিৎসা দরকার বিদেশে মাল্টি ডিসিপ্লিনারি চিকিৎসাকেন্দ্রে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো, তারা (সরকার) প্রতিহিংসার কারণে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিচ্ছে না।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গুলশানের বাসা ফিরোজায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বিএনপি চেয়ারপারসন। পরে তাকে এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি মেডিক্যাল বোর্ডের নিবিড় তত্ত্বাবধানে কেবিনে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘গত ২৩ জুন খালেদা জিয়ার হৃদপি-ে পেসমেকার বসানো হয়। ২২ জুন গভীর রাতে গুলশানের বাসায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়। পরে ২ জুলাই এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসা ফিরোজায় ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিন জন লিভার বিশেষজ্ঞ এনে তার লিভারে অস্ত্রোপচার করা হয়। এভার কেয়ার হাসপাতালের অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্ব বিশেষ চিকিৎসকদের একটি দল খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দিচ্ছেন। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন সমন্বয় করছেন। 
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ম্যাডামকে চব্বিশ ঘণ্টা মনিটর করছেন চিকিৎসকরা। তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আন্দোলন আমরা করছি। ভবিষ্যতে আরও আন্দোলন হবে। আমরা চেষ্টা করবো এই আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার। কিন্তু তারা কতটা অমানবিক যে, খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়টাকে গুরুত্ব দিতে চায় না। তারা এমন কথা বলে, উনার সঠিক চিকিৎসা, সঠিক চিকিৎসা তো তার কোনও মতেই হচ্ছে না। যারা বাইরের থেকে চিকিৎসা দিতে এসেছিলেন, তারা পর্যন্ত বলেছেন, সি নিডস সার্জারি আউট সাইড দ্য কান্ট্রি, যেখানে মাল্টি ডিসিপ্ল্যানারি ট্রিটমেন্টটা হয় এখন। এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাস করি। কখনোই অগণতান্ত্রিক পথে কোনোকিছু করতে চাই না। কিন্তু সরকারের দায়িত্ব হলো, সেটাতে সাড়া দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যবস্থা করা। এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
ওবায়দুল কাদেরের বিবৃতি