• শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৮:৪৬ অপরাহ্ন
Headline
পদ্মার বুকে বিচ্ছিন্ন জনপদ, বেঁচে থাকাই যেখানে সংগ্রাম মুক্তাগাছায় নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্রের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার টিকার সংকট এবং হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু: স্বাস্থ্যসচিব পুলিশ সপ্তাহ শুরু রবিবার, ১০৭ জনকে পদক দেবেন প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির বিদেশযাত্রা ও দেশে ফেরার রাষ্ট্রাচারে পরিবর্তন রাজধানীতে ফের বেড়েছে মশার উপদ্রব, ডেঙ্গুর ভয় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দেশের রাজনৈতিক ইকোসিস্টেমের প্রতিফলন: ড. ইফতেখারুজ্জামান জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে নির্বাচনের আগে দেয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে: তারেক রহমান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর বানানো ‘স্মার্ট কারে’ চড়লেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণে বরাদ্দ বাড়ছে

Reporter Name / ৭ Time View
Update : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

প্রভাত অর্থনীতি: বিএনপি সরকার তাদের ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে আগামী অর্থবছরের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া, দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীকে নগদ অর্থ দেয়ার বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায়, উপকারভোগীদের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ভাতার পরিমাণও বাড়াচ্ছে সরকার।
সব মিলিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায়, ১৮টি ভাতা প্রদান ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে চলতি অর্থবছর মোট ২ কোটি ৬০ লাখ উপকারভোগীর জন্য ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২১ হাজার ৭০১ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে এসব কর্মসূচির আওতায়, ৩৫ হাজার ৭০৮ কোটি টাকার সুবিধা পাবেন ৩.৬৩ কোটি মানুষ।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাজেট চূড়ান্তকরণ বিষয়ক এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
তারা জানান, আগামী অর্থবছরের বাজেটে বিএনপি সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্ট হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভূক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া, বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুত মসজিদ ও অন্যান্য উপসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমে প্রায় ২.৫৬ লাখ উপকারভোগী সুবিধা পাবেন।
আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ৯.৩০ লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট বক্তব্যে বাংলাদেশকে কল্যাণকর রাষ্ট্রে রূপান্তর করার রূপরেখা তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দের পরিমাণ ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এটি বেড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান– সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান গণমাধ্যমকে বলেন, “সরকার সামাজিক নিরাপত্তায় যে লাইফ সাইকেল ব্যবস্থা অন্তর্ভূক্ত করতে যাচ্ছে, তা পর্যায়ক্রমে ইউনিভার্সাল কাভারেজ হবে। তবে শুরুতে ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে উপকারভোগী বাছাই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হতে হবে। কারণ, সরকার প্রাথমিকভাবে যে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে, সেখানেও ১৮% উপকারভোগী রয়েছেন— যারা এটি পাওয়ার যোগ্য নন। সরকারের লক্ষ্য নির্ধারণের দক্ষতা নিয়ে যা উদ্বেগ সৃষ্টি করে।তিনি বলেন, “কল্যাণমুলক রাষ্ট্রে রূপান্তরের জন্য জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল পর্যালোচনা করতে হবে এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতিহারে এবিষয়ে অঙ্গীকারও রয়েছে। তবে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, কাক্ষিত রাজস্ব আহরণ করতে না পারলে— সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীর সংখ্যা ৪১ লাখে উন্নীত করতে চায় সরকার। গত ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ শুরু করে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন উদ্বোধনের মাধ্যমে।
ফ্যামিলি কার্ডধারীদের প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা ভাতা দিচ্ছে সরকার। আগামী অর্থবছরে এখাতে বরাদ্দ থাকছে ১২ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর ৮০ হাজার ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যাতে ব্যয় হবে ৭২.৯৫ কোটি টাকা।
সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম। চলতি অর্থবছরে সরকার ২,০৬৭ জন কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনতে কাজ করছে। আগামী অর্থবছর ৪২.৫০ লাখ কৃষককে এই কার্ড দেওয়া হবে। কার্ডধারী কৃষকরা বছরে ২,৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা পাবেন। এতে আগামী অর্থবছরে সরকারের ব্যয় হবে ১০৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
বর্তমান সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হচ্ছে খাল খনন কর্মসূচি। চলতি অর্থবছর এই কর্মসূচির আওতায়, উপকারভোগী রয়েছে ২৬.৬৭ লাখ, আগামী অর্থবছর উপকারভোগীর সংখ্যা আরও বাড়িয়ে ৩৪.০২ লাখে উন্নীত করতে চায় সরকার। খাল খনন কর্মসূচিতে চলতি অর্থবছর সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৮৮ কোটি টাকা, তবে আগামী অর্থবছর এই খরচ কমে ৭৫ কোটি টাকায় নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আগামী অর্থবছরের বাজেটে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি উপকারভোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। এসব ভাতার ক্ষেত্রে ৯০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য বাড়তি ভাতা দেবে সরকার। বর্তমানে ৬১ লাখ নাগরিক বয়স্ক ভাতা হিসেবে প্রতি মাসে ৬৫০ টাকা করে পাচ্ছেন। এতে সরকারের মোট ব্যয় হচ্ছে ৫ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা।
আগামী অর্থবছরের বাজেটে ৬২ লাখ বয়স্ক নাগরিককে ভাতার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এক্ষেত্রে ৯০ বছরের কম বয়সী বয়স্ক নাগরিকদের ভাতার পরিমাণ ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হচ্ছে। আর ৯০ বছর বা তার বেশি বয়সী ২.০৫ লাখ বয়স্কভাতাধারী প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা করে ভাতা পাবেন।
বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতাদের উপকারভোগী আগামী বছর বাড়াচ্ছে না সরকার। কারণ, এ ধরণের নারীদের ফ্যামিলি কার্ড নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে আগামী বছর এ কর্মসূচির আওতায় ২৯ লাখ নারী ভাতা সুবিধা পাবেন।
বর্তমানে এই কর্মসূচির আওতায়, একজন নারী মাসে ৬৫০ টাকা ভাতা পেয়ে থাকেন। আগামী বছর এটি বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হচ্ছে। তবে উপকারভোগীদের মধ্যে ৯০ বছর বা তার বেশি বয়সী ২৫ হাজার নারী মাসে ১,০০০ টাকা করে ভাতা পাবেন।
ভাতার পরিমাণ বাড়ার কারণে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতাদের ভাতা কর্মসূচিতে সরকারের ব্যয় হবে ২ হাজার ৪৫৯.৬৭ কোটি টাকা, চলতি অর্থবছর এর পরিমাণ ২ হাজার ২৭৭.৮৩ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৩৪.৫০ লাখ প্রতিবন্ধী মাসে ৯০০ টাকা হারে ভাতা পান। এতে সরকারের ব্যয় হবে ৩ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। আগামী বাজেটে প্রতিবন্ধী ভাতার উপকারভোগী ১.৫০ লাখ বাড়িয়ে ৩৬ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে। প্রতিবন্ধীদের মূল ভাতার পরিমাণ অপরিবর্তত রাখা হলেও— ৯০ বছর বা তার বেশি বয়সীরা আগামী বছর থেকে ১,০০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন।
উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা আগামী বছর বাড়ছে না। তবে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চতর স্তরে মাসিক ভাতার পরিমাণ ৫০ টাকা হারে বাড়ানো হচ্ছে। ফলে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা মাসে ৯৫০ টাকা, মাধ্যমিকে ১,০০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিকে ১,১০০ টাকা ও উচ্চতর স্তরে ১,৩৫০ টাকা পাবেন। আগামী বছর উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের উপবৃত্তি প্রাপ্তদের জন্য নতুন ভাতার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে, তারা পাবেন মাসে ১,১০০ টাকা।
হিজড়া, বেদে, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী ও চা শ্রমিকদের উপকারভোগীর সংখ্যা ৩,০০০-এরও বেশি বাড়ানো হয়েছে। তবে তাদের ভাতার পরিমাণ নতুন অর্থবছরও অপরিবর্তত থাকছে।
ক্যান্সার, কিডনি, লিভার-সিরোসিস, স্ট্রোকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় সরকার আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। চলতি অর্থবছর এখাতে ৬০ হাজার রোগীর জন্য ৫০ হাজার টাকা করে— মোট ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
আগামী অর্থবছরের বাজেটে এসব রোগে আক্রান্ত ৬৫ হাজার জনকে ১ লাখ টাকা করে ৬৫০ কোটি টাকা অনুদান দেবে সরকার।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র উপকারভোগীর সংখ্যা ১.১৯ লাখ বাড়ানো হচ্ছে। ফলে আগামী বছর এ কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা হবে ১৮.৯৫ লাখ জন। এর আওতায় সুবিধাভোগীরা প্রত্যেকে মাসে ৮৫০ টাকা হারে ভাতা পান, যা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আগামী অর্থবছরের বাজেটে বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক পরিবারের সদস্যদের মাসিক ভাতার পরিমাণ ৫,০০০ টাকা করে বাড়ানো হচ্ছে। তবে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাসহ অন্যদের ভাতা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আগামী অর্থবছর বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার মাসে ৪০,০০০ টাকা, বীর উত্তম পরিবার ৩০,০০০ টাকা, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক পরিবার ২৫,০০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। জুলাই গণঅভ্যূত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের ভাতার পরিমাণ অপরিবর্তত থাকলেও— উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ২,০০০ বাড়তে পারে।
চলমান খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায়, চলতি অর্থবছর ৫৫ লাখ পরিবারকে মাসে ১৫ টাকা দরে ৩০ কেজি করে ছয় মাস চাল সরবরাহ করে সরকার। আগামী বছর এ সুবিধা ৬০ লাখ পরিবারকে দেওয়া হবে। এছাড়া, ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চলতি অর্থবছর ১৩.২৬ লাখ মানুষ সুবিধা পাচ্ছে, আগামী বাজেটে এদের সংখ্যা ১৫ লাখে উন্নীত করা হতে পারে।
অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির অধীনে ৪ লাখ মানুষ দৈনিক ৫০০ টাকা করে ভাতা পান। পাশাপাশি ভিজিএফ কর্মসূচির অধীনে ১০.৪ লাখ নারী মাসে ৩০ কেজি চাল পান। এই কর্মসূচিগুলো আগামী অর্থবছরেও অব্যাহত থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category