মো. দরাজ আলী , মুক্তাগাছা : ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় নিখোঁজের একদিন পর অপহৃত মাদরাসা ছাত্র আন্দালিব সাদমান রাফির (৮) বীভৎস মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে খোকন নামের এক প্রতিবেশীকে আটকের পর তার স্বীকারোক্তিতে আজ শনিবার দুপুর ৩টার দিকে ওই ব্যক্তির বাড়ির শৌচাগারের ট্যাংকি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত রাফি মুক্তাগাছা রেসিডেন্সিয়াল মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র এবং উপজেলার লাঙ্গুলিয়া গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার (৮ মে) জুম্মার নামাজের সময় যখন সবাই মসজিদে ছিল, ঠিক সেই সুযোগে পাশের বাড়ির খোকন পাখির বাচ্চা দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রাফিকে ডেকে নিয়ে যায়। ইতিপূর্বেও কয়েকবার তাকে প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নেওয়া হলেও গতকাল নির্জন পরিবেশে সুযোগ বুঝে রাফিকে নির্মমভাবে হত্যা করে প্লাস্টিকের বস্তায় বন্দি করে নিজের শৌচাগারের ট্যাংকির ভেতরে লুকিয়ে রাখে ঘাতক খোকন। আজ দুপুরে রাফির দাদি ও বাড়ির লোকজন ওই শৌচাগারের ট্যাংকির ভেতর প্লাস্টিকের বস্তা ও ওপরের দিকে পা দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে এলাকাবাসী জড়ো হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা মিলে ট্যাংকির স্লাব ও অংশবিশেষ কেটে বস্তাবন্দি অবস্থায় রাফির মরদেহ বের করে আনে। পুলিশ জানায়, নিখোঁজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে জিডি করা হলে তদন্তে নেমে সন্দেহের ভিত্তিতে খোকনকে আটক করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে হত্যার কথা স্বীকার করে।
এ ব্যাপারে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড; আটককৃত ব্যক্তির তথ্য মতেই মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে সোপর্দসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা-মাসহ পুরো এলাকায় এখন শোক ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের হোতা খোকনের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।