• বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৩:০০ অপরাহ্ন
Headline
ফটিকছড়িতে বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু কলমাকান্দায় ‘আপনি তিন লাখ টাকা দেন’ বলা এসআই প্রত্যাহার হঠাৎ বৃষ্টির বিড়ম্বনায় কিশোরগঞ্জের কৃষকরা কিশোরগঞ্জে ছাত্রদলের কমিটি বাতিলের দাবিতে সড়ক অবরোধ এক বছর পর টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমার যাচ্ছে আলু ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা মাদরাসাছাত্রী: সেই শিক্ষক ৩ দিনের রিমান্ডে শরনখোলায় দখলকৃত জমি উদ্ধার, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও নতুন বিমানঘাঁটির ঘোষণা এনরিকে–আরতেতা: চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে স্প্যানিশ ইতিহাস চ্যাম্পিয়নস লিগে এবার রিয়াল মাদ্রিদ হওয়ার অপেক্ষায় পিএসজি

বিসিসি’র জলাবদ্ধতায় কোটি টাকা ব্যয়েও কমেনি নগরবাসীর দুর্ভোগ

Reporter Name / ৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা, বরিশাল: বরিশাল নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে গত দুই বছরে খাল খনন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। সামান্য থেকে মাঝারি বৃষ্টিতেই নগরীর অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হাঁটুপানি জমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নগরীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে বরিশাল নগরীর বেশিরভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে বগুড়া রোড, আমানতগঞ্জ, সদর রোড, মুন্সী গ্যারেজ এলাকা এবং নবগ্রাম রোডের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নগরীর সাতটি খাল, আমানতগঞ্জ, জেল খাল, রূপাতলী, পলাশপুর, সাগরদী, চাঁদমারী ও ভাটার খাল খননের উদ্যোগ নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ প্রকল্পে ব্যয় হয় প্রায় ৭ কোটি টাকা। তবে দুই বছর না পেরোতেই খালগুলো আবার ভরাট হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) সূত্রে জানা যায়, গত বছর নগরীর গুরুত্বপূর্ণ খালগুলো পরিষ্কার করা হলেও অলিগলির ড্রেনেজ ও নালা সংস্কারে পর্যাপ্ত নজর দেওয়া হয়নি। ফলে বর্ষার শুরুতেই পানি নিষ্কাশনে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।
এছাড়া নগরীর নিম্নাঞ্চল হিসেবে পরিচিত রসুলপুর, পলাশপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় দুই দিনের বৃষ্টির পরও এখনো পানি জমে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৃষ্টি হলেই এসব এলাকায় সড়ক তলিয়ে যায় এবং স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়।
বিসিসির হিসাব শাখার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পরিচ্ছন্নতা খাতে ৬০ লাখ টাকা বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া জরুরি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের জন্য চলতি অর্থবছর আরও ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, এ বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
বিসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, জলাবদ্ধতা রোধে ড্রেন, নালা ও খাল পরিষ্কারের জন্য নিয়মিত বাজেট বরাদ্দ থাকে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল খনন প্রকল্প কতটা কার্যকর হয়েছে, সে বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবে।
এ ব্যাপারে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী গণমাধ্যমকে বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বড় পরিসরে খাল খনন প্রয়োজন। এজন্য নগরীর ২৯টি খাল পুনঃখননের লক্ষ্যে ৭৫৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে নাগরিক সংগঠন বরিশাল সাধারণ নাগরিক সমাজ (বসানাস) এর আহ্বায়ক কাজী মিজানুর রহমান বলেন, শুধু খাল খনন নয়, অপরিকল্পিত নগরায়ণ নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তিনি নগরীর মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category