প্রভাত সংবাদদাতা, বেনাপোল
পবিত্র ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে ২৯ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৮ দিন দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। তবে এই ৮ দিনের ছুটিতে বেনাপোল-পেট্রাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। আগামী ৬ এপ্রিল থেকে যথারীতি কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রম চলবে। এদিকে, ঈদের দিন ছাড়া প্রতিদিন খোলা থাকবে দেশের সব কাস্টমস হাউস ও শুল্ক স্টেশন। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ও আমদানি-রফতানি কার্যক্রম সীমিত আকারে চলমান রাখার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দ্বিতীয় সচিব মুকিতুল ইসলাম এক পত্রে এ তথ্য জানান। পত্রে টানা ৮ দিন কাস্টমস ও বন্দর বন্ধ থাকলেও ঈদের দিন ছাড়া সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিন আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত কার্যক্রম সীমিত আকারে চলমান রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। চট্রগ্রাম কাস্টমস হাউসে এ ধরনের নির্দেশ পালন করা হলেও বেনাপোলসহ অন্যান্য কাস্টমস হাউস ও শুল্ক স্টেশনে তা পালন করা হয় না। এখানে বন্দর ব্যবহারকারীরা সবাই ছুটিতে চলে যাওয়ায় সব কিছু বন্ধ থাকে।
দেশের অর্থনীতিতে বেনাপোল বন্দরের ভূমিকা অপরিসীম। ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ৯০ ভাগই আসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। এলসি খোলার পর মাত্র সাত দিনের মধ্যে পণ্য আনা যায় এ বন্দর দিয়ে। বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। আড়াই ঘন্টায় চলে আসা যায় চেকপোস্টে। সে কারণে আমদানিকারকরা পণ্য আমদানির জন্য বেনাপোল বন্দর ব্যবহার করে থাকেন। তবে এ ছুটিতে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পাসপোর্ট যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।
বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি মহসিন মিলন বলেন, ‘ বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সারাদিন বন্দরে কাজ চলবে। তারপর থেকে বন্ধ হয়ে যাবে বেনাপোল পেট্রাপোলের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য। কাস্টমস ও বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ নিজ এলাকায় ঈদ করতে চলে যাবেন। অনেক আমদানিকারক ঈদের ছুটিতে পরিবার পরিজন নিয়ে দেশের বাড়িতে যাবেন। তারা ফিরে না আসা পর্যন্ত কোন পণ্যও খালাস নেবেন না।’ আগামী ৬ এপ্রিল থেকে পুনরায় বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম সচল হবে বলে তিনি জানান।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আহম্মদ জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকলেও স্বাভাবিক থাকবে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত। আগের বছরগুলোতে ঈদের ছুটিতে হাজার হাজার পাসপোর্ট যাত্রী ভারতে গেলেও এ বছর কোনও চাপ নেই।’
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সারা দিন আমদানি-রফতানিসহ সকল কার্যক্রম চলবে। সন্ধ্যার পর থেকে পুরোদমে ঈদের ছুটি শুরু হয়ে যাবে। ছুটিতে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ঈদের ছুটির মধ্যে বন্দরে যাতে কোনও ধরনের নাশকতামূলক বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী, আনসার সদস্যরা এবং পোর্ট থানা পুলিশ দিনে রাতে বন্দর এলাকায় টহল দেবে।’