• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
উপকূলবাসীকে রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী ‘শ্রম আইনের ওপর বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অনেকাংশে নির্ভর’ এআইনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ ৯ অ্যাপ-সফটওয়্যার চালু জামায়াত নিজেই স্বীকার করে নিয়েছে কারা খুনি-ধর্ষক ছিল: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তি সংসদে আনা হোক: রুমিন ফারহানা দুই অঙ্ক থেকে কমিয়ে সুদহার বিনিয়োগবান্ধব করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী দাম বাড়লো সয়াবিন তেলের ‘মিনার-ই-দিল্লি’ সম্মাননায় ভূষিত রুনা লায়লা জুলাই থেকে ফ্রি ড্রেস-ব্যাগ-জুতা পাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা ৩৫ বছর পরও উপকূলে আতঙ্ক: ১৯৯১-এর ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষত আজও শুকায়নি

রাজশাহী বিভাগে ৬১টি চালকলের লাইসেন্স বাতিল

প্রভাত রিপোর্ট / ২৪৭ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ৬ মে, ২০২৫

প্রভাত সংবাদদাতা, রাজশাহী : রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার ৬১ চালকলের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করার পরও সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ না করার জেরে লাইসেন্স বাতিল করেছে রাজশাহীর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত আমন মৌসুমে সরকারি গুদামে চাল সরবরাহের জন্য খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করে বিভাগের ১৬২টি চালকল মালিক। তবে চুক্তি অনুযায়ী ৩০টি চালকলের মালিক প্রতিশ্রুতির ৮০ ভাগ চাল গুদামে সরবরাহ করেন। অন্যদিকে আরও ৭১টি চালকল মালিক প্রতিশ্রুতির ৫০ ভাগ চাল গুদামে সরবরাহ করেন। চুক্তি করে কোনও চালই দেয়নি ৬১টি চালকলের মালিক। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সম্প্রতি ১৬১ চালকল মালিকের লাইসেন্স বাতিল করলো খাদ্য বিভাগ। এসব চালকল মালিকরা আর রাইস মিলে চাল তৈরি, বিক্রি, বিপণন ও সরবরাহ করতে পারবে না। এর আগে, গত ১৯ মার্চ চুক্তিযোগ্য হলেও চাল সরবরাহের জন্য খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি না করায় রাজশাহী বিভাগের ৯১৩টি চালকলের মালিককে শোকজ করে আঞ্চলিক ও জেলা খাদ্য বিভাগ। এসব চালকল মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তরা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেন। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে গত ২ এপ্রিল ৬১ চালকল মালিকের খাদ্য উৎপাদনসংক্রান্ত লাইসেন্স বাতিল করলো।
রাজশাহীর আঞ্চলিক খাদ্যনিয়ন্ত্রক দফতরের তথ্যমতে, সদ্য সমাপ্ত আমন সংগ্রহ মৌসুমে বিভাগের আট জেলায় চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ১১ হাজার ২৬৩ টন। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংগ্রহ হয়েছে ৯৪ হাজার ৭০৭ টন। আর আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১ হাজার ৮৯১ টন। সংগ্রহ হয়েছে ১৯ হাজার ৫২৯ টন। জানা গেছে, ৬১টি চালকলের মধ্যে যারা সেদ্ধ চালের কোনও চাহিদা পূরণ করেনি তার মধ্যে রাজশাহীর একটি, নওগাঁর ৮টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি, পাবনার ১১টি, বগুড়ার ৩৪টি ও জয়পুরহাটের তিনটি চালকল রয়েছে। অন্যদিকে আতপ চাল দেয়নি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার একটি চালকল। লাইসেন্স বাতিলের আগে এসব চালকল মালিকদের ব্যাখ্যা তলব করা হয়। জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চাকদার বলেন, ‘সরকারনির্ধারিত দামে চাল সরবরাহ করে অনেক চালকল মালিক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরকারি খাদ্যগুদামে চাল দিতে গিয়ে অনেক চালকল মালিকের প্রতিটনে দুই হাজার টাকার মতো করে লোকসান হয়েছে। লোকসান দিয়ে অনেকের পক্ষে চাল সরবরাহ সম্ভব হয়নি। সরকার যদি সঠিক দাম দেয়, তাহলে সব মিল মালিক চাল সরবরাহ করবে।’
রাজশাহী খাদ্য অধিদফতরের বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী উপপরিচালক ওমর ফারুক বলেন, ‘রাজশাহী বিভাগের যেসব চালকল মালিক চাল দেয়নি বা চুক্তিযোগ্য ছিল কিন্তু চুক্তি করেনি এমন ৯১৩টি চালকল মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম। এদের মধ্যে ৬১টি চালকলের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। বাকিদের সতর্ক করা হয়েছে। যারা চাল সরবরাহে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।’


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও