প্রভাত সংবাদদাতা, রংপুর: দরজায় কড়া নাড়ছে কোরবানির ঈদ। এরই মধ্যে কোরবানির জন্য গরু-ছাগল কেনাবেচা শুরু হলেও রংপুরের পশুর হাটগুলো তেমন জমে ওঠেনি এখনো। বিগত সময়ে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে ইজারাদারের লোকজন ও দালাল কর্তৃক নানাভাবে হয়রানির শিকার হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতারা হাটবিমুখ হচ্ছেন। ঈদকে ঘিরে অবস্থাপন্ন বিভিন্ন খামারে পছন্দের গরু বুকিং দিয়ে রেখেছেন। আর সাধারণ ক্রেতাসহ দূর থেকে আসা পাইকাররা হাটে ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে হাটকেন্দ্রিক বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে হাটের উদ্দেশ্যে আসা গরু-ছাগল আটকিয়ে দরদাম করে কেনার চেষ্টা করছেন।
কোথাও কোথাও ওজন মেপে চলছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। হাটের ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে এবং স্টেরয়েডমুক্ত পশু কিনতে ক্রেতারা ভিড় করছেন। ওজন দরে বিক্রি হচ্ছে এমন গরুর ফার্মে। রংপুর মহানগরীর মাহিগঞ্জের দেওয়ানটুলি এলাকায় জমজম ক্যাটল ফার্মে চার বছর ধরে এই পদ্ধতিতে গরু বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিনই ফার্মে আগ্রহী ক্রেতারা আসছেন এবং গরু দেখছেন। পছন্দ হলে ওজন স্কেলে উঠিয়ে পরিমাণ দেখে খামারেই গরু রেখে যাচ্ছেন। ঈদুল আজহার এক দিন বা দুই দিন আগে গরু নিয়ে যাবেন।
বর্তমানে ক্রেতারা ঝক্কি-ঝামেলামুক্ত এবং ফ্রেশ গরু কিনতে ছুটছেন এমন খামারে। তবে এভাবে গরু বিক্রি করে ক্রেতা-বিক্রেতা লাভবান হলেও রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। ক্রেতারা বলছেন, ওজন স্কেলে গরু বেচাকেনায় সুবিধা অনেক। ওজন স্কেলে গরু মেপে বেচাকেনার কারণে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে ঠকে যাওয়ার চিন্তা নেই। বাজেট অনুযায়ী সুস্থ-সবল পশু কিনতে পারছেন তারা।
রংপুর জেলার পশুর হাটগুলোর মধ্যে অন্যতম গঙ্গাচড়ার বেতগাড়ি হাট। সপ্তাহে দু’দিন প্রতি শনি ও মঙ্গলবার এই হাট বসে। গতকাল বেতগাড়ি হাট ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য বছরের তুলনায় গরুর আমদানি কম, দামও বেশি চাওয়া হচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে এই হাটে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারদের পাশাপাশি স্থানীয় ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও এবারে তেমনটা চোখে পড়েনি। হাতেগোনা কিছু পাইকারের দেখা মিললেও কেনা-বেচা আগের মতো নেই।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এর আগে বেতগাড়ি হাটের ইজারায় সরকারি দর ৩ কোটি ৭০ লাখ ৯৮ হাজার ৭২৯ টাকা হলেও এবারে ২ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রংপুর মহানগরীর অন্যতম লালবাগ হাটে গত রবিবারের মতো বুধবার (২৮ মে) দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ হাটবারের চেয়েও গরু কম। হাত গুটিয়ে বসে আছেন ইজারাদারের লোকজন। হাতেগোনা কিছু গরু উঠলেও ক্রেতা নেই।
অন্যদিকে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে রংপুর বিভাগে পশুর চাহিদা রয়েছে ১৩ লাখ ১৮ হাজার ১১৭টি। তবে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২১ লাখ ৫২ হাজার ৩১৯টি পশু। চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে আরও আট লাখের বেশি পশু। বিভাগের আট জেলার দেড় লক্ষাধিক খামারির মাধ্যমে পশুগুলো পাওয়া যাবে। তবে খামারিরা বলছেন, পশুখাদ্যের দাম বাড়ায় গত বছরের তুলনায় এবার বাড়তি দামে কোরবানির পশু কিনতে হবে ক্রেতাকে।