• বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সুন্দরবনের কচিখালীতে ফাঁদে আটক হরিণসহ শিকারী আটক, পালিয়েছে দুই শিকারী পেনশন ফাইল আটকে ঘুষ-বদলি, শেষে টাকা দিয়ে দুদককে জানালেন শিক্ষক আওয়ামী লীগ যে বর্বরোচিত ঘটনা ঘটিয়েছে তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল : প্রধান উপদেষ্টা তিতাসে শীতার্তদের মাঝে ১২০০ কম্বল বিতরণ তিতাসে মজিব বেপারীর মৃত্যুবার্ষিকীতে মিলাদ ও দোয়া কুরআন শরীফ ও কম্বল বিতরণ বঙ্গোপসাগরে ৫০০ কিমি এলাকাজুড়ে নোটাম জারি ভারতের আটলান্টিক মহাসাগরে তেলবাহী ট্যাংকার ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা ইউক্রেনে যুদ্ধ থামলে সেনা পাঠাবে ফ্রান্স-যুক্তরাজ্য, সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্মীপুরে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারি সম্পত্তিতে স্থায়ী ইমারত নির্মান সুইজারল্যান্ডে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মূল্যের স্বর্ণ বিক্রি করেছে ভেনেজুয়েলা

জামানত ছাড়াই মিলছে ছোট অঙ্কের ‘ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ’

প্রভাত রিপোর্ট / ১০ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রভাত অর্থনীতি: বাংলাদেশের আর্থিক খাতে এক বড় পরিবর্তন শুরু হয়েছে চার বছর আগে। এর সুফল এখন মিলছে ঘরে বসেই। ছোট অঙ্কের ঋণের জন্য মানুষকে এখন আর ব্যাংক বা অন্য কারও কাছে ধরনা দিতে হচ্ছে না। স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের কল্যাণে কয়েক মিনিটেই মিলছে জামানতবিহীন ‘ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ’, যা সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আপৎকালীন ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশে তাৎক্ষণিক ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণের যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালের ডিসেম্বরে সিটি ব্যাংক ও বিকাশের হাত ধরে। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও নগদ লেনদেন কমানোর বৈশ্বিক প্রবণতা এই পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে এই সেবায় সিটি ব্যাংকের পাশাপাশি ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংক বেশ সক্রিয়। ব্যাংক এশিয়া ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকও পরীক্ষামূলক ধাপ পেরিয়ে বাণিজ্যিকভাবে এই সেবা চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সুবিধা কী: এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে ডিজিটাল ওয়ালেট। এই ডিজিটাল ওয়ালেটের কারণে একজন গ্রাহককে সশরীর ব্যাংক শাখায় যেতে হবে না। পাশাপাশি কাগজপত্রের ঝামেলা বা আমলাতান্ত্রিক ধীরগতির যাচাই–বাছাই ছাড়াই ঋণের সুযোগ মিলছে। লাগছে না কোনো জামানত বা জামিনদার। এই সুবিধা টাকা সম্পর্কে মানুষের ধারণা বদলে দিচ্ছে এবং পুরোনো ব্যাংকিং মডেল থেকে সরে আসাকে জোরদার করছে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত হচ্ছে প্রকৃত আর্থিক অন্তর্ভুক্তি। এ ছাড়া প্রযুক্তির মাধ্যমে ঋণ অনুমোদিত হওয়ায় ব্যাংকগুলো সহজেই তা তদারক করতে পারছে।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ক্ষুদ্রঋণের এই ডিজিটাল রূপান্তর সাধারণ মানুষকে মহাজনি ঋণ থেকে রক্ষা করছে। দেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে।
এগিয়ে সিটি ব্যাংক ও বিকাশ: এখন পর্যন্ত সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি ব্যাংক এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে। ঋণের সীমা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। সিটি ব্যাংক থেকে ঋণ পাচ্ছেন বিকাশের সক্রিয় গ্রাহকেরা। এ ছাড়া অন্য ব্যাংকগুলো মূলত তাদের ব্যাংকের সঞ্চয়ী হিসাব আছে বা তাদের মাধ্যমে বেতন হয়, এমন গ্রাহকদের ঋণ দিচ্ছে। এসব ঋণ অ্যাপের মাধ্যমে হিসাবে দেওয়া হয়, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঋণের কিস্তি হিসাব থেকে পরিশোধ করা হয়।
জরুরি প্রয়োজনে বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে সিটি ব্যাংক থেকে জামানতবিহীন ডিজিটাল অতি ক্ষুদ্রঋণ নিতে পারছেন গ্রাহকেরা। সেবাটি চালুর মাত্র তিন বছরের মধ্যেই গ্রাহকেরা বিকাশ থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি ডিজিটাল ঋণ নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত এই অতি ক্ষুদ্রঋণ নিয়েছেন ১৯ লাখের বেশি গ্রাহক। বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ১ কোটি ২৭ লাখের বেশিবার এই জামানতবিহীন ডিজিটাল ঋণ নেয়া হয়েছে।
বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশনস শামসুদ্দিন হায়দার বলেন, প্রয়োজনের সময় সরাসরি মুঠোফোনে জামানতবিহীন ডিজিটাল ঋণ পাওয়ার সুযোগ গ্রাহকদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে সুসংহত করছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও জরুরি অর্থের প্রয়োজনে থাকা মানুষের কাছে এই ঋণ বিশেষ ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে।
অন্যরাও এগোচ্ছে: ঢাকা ব্যাংকে হিসাব রয়েছে, এমন যেকোনো গ্রাহক মোবাইল অ্যাপ ঢাকা ব্যাংক গো প্লাসের মাধ্যমে ই-ঋণ অতি ক্ষুদ্রঋণের জন্য আবেদন করতে পারছেন। এখন পর্যন্ত ব্যাংকটির প্রায় ৩৫ হাজার গ্রাহক ঋণ নিয়েছেন। ব্যাংকটি প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।
ঢাকা ব্যাংকের রিটেইল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কম সময় ও স্বল্প প্রক্রিয়ায় তাৎক্ষণিক ঋণপ্রাপ্তির এই উদ্যোগ ইতিমধ্যে দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে একটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ, যা অন্য যেকোনো ঋণের চেয়ে কম। কোনো ধরনের জামানত বা কাগজপত্র ছাড়াই দ্রুত ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ সম্ভব হওয়ায় এই সেবা জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
প্রাইম ব্যাংক চালু করেছে ‘প্রাইম অগ্রিম’ নামে সেবা। এই ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন হয়, এমন গ্রাহকেরা প্রাইম অগ্রিম অ্যাপ ব্যবহার করে এই ঋণ পাচ্ছেন। এটি মূলত তৈরি পোশাক খাতের কর্মীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পোশাককর্মীরা তাঁদের বেতনের একটি অংশ মাসের যেকোনো সময় তাৎক্ষণিকভাবে নিতে পারছেন। এর মাধ্যমে ব্যাংকটি প্রায় ৫০ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। এখন পর্যন্ত ৭৫ হাজারবার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। গড়ে ঋণের পরিমাণ সাড়ে ছয় হাজার টাকা।
প্রাইম ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম এ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, প্রাইম অগ্রিম সেবাটি ক্রমবর্ধমান হারে আরও নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল হয়েছে। ফলে গ্রাহকেরা সহজে ও নিশ্চিন্তে এই সেবা ব্যবহার করতে পারছেন। প্রাইম ব্যাংক চলতি বছরে সব গ্রাহকের জন্য ডিজিটাল ঋণ সুবিধা চালু করার পরিকল্পনা করছে। এর আওতায় ডিজিটাল ডিভাইস ফাইন্যান্সিং, মুঠোফোন কেনার সুবিধাসহ বিভিন্ন প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণসেবা যুক্ত করা হবে।
এদিকে ব্র্যাক ব্যাংকও তাদের মাধ্যমে যাঁদের বেতন হয়, তাঁদের তাৎক্ষণিক ডিজিটাল ঋণ দিচ্ছে। ইতিমধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের ৪৫ হাজার গ্রাহক এমন ডিজিটাল ঋণ নিয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত এই ঋণ দেয়া হতো। এটি এখন বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে।
ব্র্যাক ব্যাংকের ডিএমডি মাহীয়ুল ইসলাম বলেন, এসব ঋণে খেলাপির হার কম। মানুষ মূলত জীবনধারণ ও মূল্যস্ফীতির কারণে এসব ঋণ নিয়ে থাকেন।
আরও আসছে: এদিকে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়া পরীক্ষামূলক তাৎক্ষণিক ডিজিটাল ঋণ দিচ্ছে। সামনে বড় আকারে এই সেবা আনার পরিকল্পনা করছে ব্যাংক দুটি।
ব্যাংক এশিয়ার এমডি সোহেল আর কে হুসেইন বলেন, ‘আমরা সেবাটি বাণিজ্যিকভাবে চালুর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। এমএফএস ও মুঠোফোন অপারেটরদের ডেটা ব্যবহার করে আমরা ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা করছি।’


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও