• বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সুন্দরবনের কচিখালীতে ফাঁদে আটক হরিণসহ শিকারী আটক, পালিয়েছে দুই শিকারী পেনশন ফাইল আটকে ঘুষ-বদলি, শেষে টাকা দিয়ে দুদককে জানালেন শিক্ষক আওয়ামী লীগ যে বর্বরোচিত ঘটনা ঘটিয়েছে তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল : প্রধান উপদেষ্টা তিতাসে শীতার্তদের মাঝে ১২০০ কম্বল বিতরণ তিতাসে মজিব বেপারীর মৃত্যুবার্ষিকীতে মিলাদ ও দোয়া কুরআন শরীফ ও কম্বল বিতরণ বঙ্গোপসাগরে ৫০০ কিমি এলাকাজুড়ে নোটাম জারি ভারতের আটলান্টিক মহাসাগরে তেলবাহী ট্যাংকার ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা ইউক্রেনে যুদ্ধ থামলে সেনা পাঠাবে ফ্রান্স-যুক্তরাজ্য, সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্মীপুরে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারি সম্পত্তিতে স্থায়ী ইমারত নির্মান সুইজারল্যান্ডে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মূল্যের স্বর্ণ বিক্রি করেছে ভেনেজুয়েলা

বঙ্গোপসাগরের দুই হাজার মিটার গভীরে প্লাস্টিক পাওয়া গেছে’

প্রভাত রিপোর্ট / ২ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: গবেষণা জাহাজ আর.ভি. ড. ফ্রিডজোফ নানসেন কর্তৃক সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেমের ওপর পরিচালিত জরিপ ও গবেষণা প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিয়েছে এ সংক্রান্ত কমিটি। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস-এর অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী জানান, বাংলাদেশে গভীর সমুদ্রে জেলি ফিশের আধিক্য মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেছে। এটা ইমব্যালেন্সের লক্ষণ। ওভার ফিশিংয়ের কারণে এটি হয়েছে। এছাড়া দুই হাজার মিটার গভীরতায়ও প্লাস্টিক পাওয়া গেছে যা গভীর উদ্বেগের বলে জানান তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী ও মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। গত বছরের ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ জরিপ চালানো হয়। আট দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানী এ জরিপ পরিচালনা করেন, যার মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশের।
অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বৈঠকে গবেষণা-সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত তুলে ধরেন। তিনি জানান, নতুন ৬৫ প্রজাতির জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব এই গবেষণায় পাওয়া গেছে। ২০১৮ সালের এক গবেষণার সাথে তুলনায় দেখা গেছে, গভীর সমুদ্রে বড় বড় মাছ কমে যাচ্ছে। স্বল্প গভীরে সমুদ্রে আশঙ্কাজনকভাবে মাছ কমছে। জানা গেছে, ২৭০ থেকে ২৮০টি বড় ফিশিং ট্রলার গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ করে থাকে। এর মধ্যে ৭০টি সোনারের মাধ্যমে টার্গেটেড ফিশিং করছে। এটি অত্যন্ত আগ্রাসী একটি পদ্ধতি। এর ফলে গভীর সমুদ্রে বড় মাছ যারা ধরেন, তাদের লাভ হলেও যারা স্বল্প গভীর পানিতে মাছ ধরেন তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এভাবে টার্গেটেড ফিশিং হলে বঙ্গোপসাগর মাছ শূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সোনার ফিশিং নিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।’
বাংলাদেশে ডিপ সি ফিশিংয়ের টুনা মাছের আধিক্য পাওয়া গেছে এবং এর সম্ভাবনাও আছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণায় সুন্দরবনের নিচে একটি ফিশিং নার্সারি পাওয়া গেছে, যা সংরক্ষণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের দেশের স্থলভাগ যতটুকু তার সমপরিমাণ অঞ্চল জলভাগেও আছে। কিন্তু এই সম্পদগুলো আমরা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারিনি; এমনকি সম্পদের পরিমাণ কী, সম্ভাবনা কেমন তাও জানতে পারিনি। আমাদের এ সম্পদকে ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে। সেজন্য পর্যাপ্ত গবেষণা, পলিসি সাপোর্ট প্রয়োজন হবে।’
বৈঠকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির একটি বহুমুখী হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশেনোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ভেসেলটি সমুদ্রের তলদেশ, গভীরতা এবং অন্যান্য সামুদ্রিক তথ্য সংগ্রহ করবে, যা বাংলাদেশের সামুদ্রিক গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। জাপান, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপের সঙ্গে যৌথ গবেষণা সমন্বয় করতে গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। এ বিষয়ে যাদের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান আছে তাদের সঙ্গে গবেষণা সমন্বয় করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে।’


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও