প্রভাত স্পোর্টস: ২০২১-২২ মৌসুমের অ্যাশেজ। ট্রাভিস হেড তখনো সেভাবে নজর কাড়েননি। ১৯ টেস্টে ২ সেঞ্চুরি, স্ট্রাইক রেট ৫০–এর নিচে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স তাঁর মধ্যে কী দেখেছিলেন কে জানে! জেমস বন্ডের মতো হেডকে ‘লাইসেন্স টু কিল’–এর ছাড়পত্র দিয়েছিলেন কামিন্স।
সেই অ্যাশেজে দুটি সেঞ্চুরি করলেন হেড, এর মধ্যে প্রথমটি ছিল ১৪৮ বলে ১৫২। ইংল্যান্ডও ৪-০ ব্যবধানে অ্যাশেজ হারায় রদবদল আসে ব্যবস্থাপনায়। প্রধান কোচের পদ থেকে ক্রিস সিলভারউড ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক থেকে অ্যাশলে জাইলসকেও সরিয়ে দেয়া হয়। কিছুদিন পর জো রুটও টেস্টের অধিনায়কত্ব ছাড়েন। দায়িত্ব পান বেন স্টোকস। কোচ পদে আসেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। ব্যস, শুরু হলো ‘বাজবল’। চার বছর পরের কথা।
সেই ‘বাজবল’ দর্শন নিয়েই এবার অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ খেলছে স্টোকসের ইংল্যান্ড। কিন্তু সুবিধা করতে পারেনি মোটেও। সিডনিতে পঞ্চম ও শেষ টেস্টে আজ তৃতীয় দিনের খেলা চলাকালে শেষ খবরটি হলো—খেলার মাঠে ১১ দিনের লড়াইয়ে প্রথম তিন টেস্টেই অ্যাশেজ হার নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের। সিরিজে তারা এখন ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এ ঘটনা ঘটানোর পেছনে যাঁর ভূমিকা সবচেয়ে বড়, সেই হেডের ‘লাইসেন্স টু কিল’ ব্যাটে মোটামুটি ‘অপমৃত্যু’ই ঘটেছে বাজবল-দর্শনের। এই সিরিজে ৯ ইনিংসে হেডের সেঞ্চুরি ৩টি—প্রথমটির স্ট্রাইক রেট ছিল ১৪৮.১৯, দ্বিতীয়টি ৭৭.৬২ এবং আজ তৃতীয়টির স্ট্রাইক রেট ৯৮.১৯। কার ‘বাজবল’ আসলে কে খেলছেন!
চাইলে ইনিংসগুলোও একবার দেখে নিতে পারেন—১২৩, ১৭০ ও ১৬৩। সবই বড় সেঞ্চুরি এবং ৬৬.৬৬ গড়ের হেডের সিরিজে স্ট্রাইক রেট ৮৭.৫৯। বলতেই পারেন, চার বছরে আগে যে হেডের তাণ্ডবে ‘বাজবল’–এর জন্ম হয়েছিল, সে একই ‘মাথাব্যথা’য় ভুগে বাজবলের অবস্থা এখন মুমূর্ষু। সেটা কতটা বুঝিয়ে দিচ্ছে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের একটি পরিসংখ্যান—১৬৬ বলে ১৬৩ করে আউট হওয়া হেডের এই ইনিংসটি এসসিজিতে দ্রুততম ১৫০ রানের ইনিংস। এই পথে তিনি ভেঙেছেন ১৯১০ সালে গড়া অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি ক্লেম হিলের রেকর্ড।
শুধু তাই নয়, অ্যাশেজে এটি যৌথভাবে চতুর্থ দ্রুততম ১৫০ রানের কীর্তি। ১৫২ বলে ১৫০ রানের দেখা পান হেড। ২০২৩ অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের জ্যাক ক্রলিও ১৫২ বলে ১৫০ রানের দেখা পেয়েছিলেন। হেড আজ এই পথে পেছনে ফেলেছেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি স্যার ডন ব্র্যাডম্যানকে। ১৯৩০ সালের অ্যাশেজে ১৬৬ বলে ১৫০ রানের দেখা পেয়েছিলেন ব্র্যাডম্যান।
৯১ রানে গতকাল অপরাজিত থাকা হেডের কাছে আজ তৃতীয় দিনে প্রথম সেশনে মার খেয়েছেন ইংল্যান্ডের বোলাররা। এই সেশনে অস্ট্রেলিয়ার তোলা ১১৫ রানের মধ্যে ৭১ হেডের একারই। এই সেশনে শেষ ওভারে অবশ্য উইল জ্যাকসের কাছে ‘জীবন’ পান—যেটা সিরিজে ইংল্যান্ডের ১৬তম ক্যাচ মিস!
১০৫ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া হেডের ক্যারিয়ারে এটি ১২তম টেস্ট সেঞ্চুরি। এর মধ্যে সাতটি সেঞ্চুরিই ১৫০+ স্কোরের। টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম ১২ সেঞ্চুরির মধ্যে হেডের চেয়ে বেশি ১৫০+ স্কোরের ইনিংস যাঁদের, সেই নামগুলো একবার দেখুন—ডন ব্র্যাডম্যান (৮), জহির আব্বাস (৮), বীরেন্দর শেবাগ (৮) ও ডেনিস অ্যামিস (৮)। অস্ট্রেলিয়ানদের মধ্যে হেডের আগে এই তালিকায় ন্যূনতম ৭টি ১৫০+ রানের ইনিংস ব্র্যাডম্যান (৮) ও স্টিভ ওয়াহর (৭)।
শুধু তা–ই নয়, অস্ট্রেলিয়ায় যে সাতটি ভেন্যুতে হেড খেলেছেন, সব কটিতেই সেঞ্চুরি আছে তাঁর। স্টিভ ওয়াহ, জাস্টিন ল্যাঙ্গার, ম্যাথু হেইডেন ও ডেভিড ওয়ার্নারেরও অস্ট্রেলিয়ায় সাতটি ভেন্যুতে টেস্ট সেঞ্চুরি আছে। অ্যাশেজে এক সিরিজে চলতি শতাব্দীতে স্টিভেন স্মিথের পর দ্বিতীয় অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে ন্যূনতম ৬০০ রানের দেখাও পেলেন হেড। চা–বিরতি পর্যন্ত প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ৯১ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৭৭। ক্রিজে স্মিথ (৬৫*) ও ক্যামেরন গ্রিন (৮)। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস থেকে ৭ রানে পিছিয়ে ছিল অস্ট্রেলিয়া।