প্রভাত ডেস্ক: ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) শীর্ষ নেতা আল-জুবাইদির নিজ প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট।
এএফপির প্রতিবেদন অনুসারে, বুধবার (৭ জানুয়ারি) ধালে প্রদেশে বিমান হামলা চালানোর আগে আল-জুবাইদিকে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল থেকেও বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে দেশভাগের চেষ্টা করার অর্থাৎ ‘রাষ্ট্রদ্রোহে’র অভিযোগ আনা হয়েছে। গত মাসে এসটিসি এই অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করলেও পরে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট ও সৌদপন্থী বাহিনীর পাল্টা অভিযানে তাদের অগ্রযাত্রা থেমে যায়। হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন বলে সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে।
সৌদি জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রিয়াদে নির্ধারিত আলোচনায় উপস্থিত না হয়ে আল-জুবাইদি পালিয়ে যান এবং ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে- বিশেষ করে এডেনের আশপাশে ‘বৃহৎ বাহিনী’ সমবেত করেন। সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি এডেন শহরকে কেন্দ্র করে আমিরাত-সমর্থিত এসটিসি ও সৌদিপন্থী বাহিনীর মধ্যে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
২০১৪ সালে ইরান-সমর্থিত হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকে এডেনই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের ঘাঁটি।
ইয়েমেনে প্রভাব বিস্তার নিয়ে এসটিসির অগ্রযাত্রার মধ্যে সৌদির কঠোর প্রতিক্রিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী তেলসমৃদ্ধ রাষ্ট্র আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্কের তীব্র অবনতি হয়েছে।
জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আল-জুবাইদি অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে গেছেন। তিনি যাতে সংঘাত আরও উসকে দিতে এবং তা ধালে প্রদেশে ছড়িয়ে দিতে না পারেন, সেজন্য নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ প্রশমনের লক্ষ্যে আলোচনার জন্য গতকাল মঙ্গলবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যাওয়ার কথা ছিল আল-জুবাইদির। তবে তার বিমান দেরিতে ছাড়ে এবং সেটি ছেড়ে যাওয়ার সময় তিনি বিমানে ছিলেন না বলে জানা গেছে।
এসটিসির এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, সৌদি আরবে গেলে তাকে সংগঠনটি ভেঙে দিতে বলা হবে— এমন তথ্য পাওয়ার পর আল-জুবাইদি সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তাকে ছাড়াই প্রতিনিধিদল রিয়াদে রওনা দেয়।