• শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ঢাকা বাইক শো-তে সিএফএমওটিও নিয়ে এলো ‘জিহো’ এবং নতুন মোটরসাইকেল লাইনআপ রাজশাহী ব্যাংকার্স ক্লাব ক্রিকেট টুর্নামেন্টের হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন এনআরবিসি ব্যাংক চট্টগ্রাম নগরে এক দিনে তিন স্থানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার যোগ দিলেন এনসিপিতে শরণখোলায় জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য লম্বা লাইন ছোট হয়ে আসছে শূন্যে নামবে সেশনজট, অনেক কলেজে বন্ধ হতে পারে স্নাতক-স্নাতকোত্তর কোর্স তীব্র গরমে পুড়ছে দেশ, অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে বিচার বিভাগের দুর্নীতির সব শিকড় তুলে আনতে চাই: আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ এখন হামের উচ্চ ঝুঁকিতে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

গ্যাস সিলিন্ডার দ্বিগুণ দামে বিক্রি হলেও রসিদ দেন না বিক্রেতারা

প্রভাত রিপোর্ট / ৭২ বার
আপডেট : সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: বাজারে ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের। সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩০৬ টাকার ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। কোথাও কোথাও আরও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী ক্রেতারা জানান, নির্ধারিত দামের কথা বললে অনেক দোকানদার সিলিন্ডার দিতে অস্বীকৃতি জানান। আবার অতিরিক্ত দামে কিনলেও খুচরা বিক্রেতারা কোনো রসিদ দিচ্ছেন না। তাদের ভাষ্য, অতিরিক্ত দাম নেওয়া অবৈধ হওয়ায় রসিদ দিলে প্রমাণ থেকে যাবে। এদিকে অনেক দোকানে এলপিজি সিলিন্ডার একেবারেই নেই। সরবরাহ সংকটের কথা বলে ক্রেতাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট আর বাড়তি দামের কারণে ভোক্তাদের ভোগান্তির এমন চিত্র দেখা গেছে।
আজিমপুরের গৃহিণী রেহেনা আক্তার বলেন, সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে, সেই দামে কোথাও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে। আবার রসিদও দেয় না, অভিযোগ করবো কীভাবে? খুচরা বিক্রেতারা দাবি করছেন, পাইকারি পর্যায়েই তাদের বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত দামে বিক্রি করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
রাজধানীর হাতিরপুল এলাকার খুচরা সিলিন্ডার বিক্রেতা রমজান বলেন, আমাদের বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। সরকারি রেটে বিক্রি করবো কীভাবে? সিলিন্ডার তো পাওয়াই যাচ্ছে না, যা কয়েকটা পাই বাড়তি দামে কিনি, বাড়তি দামে বিক্রি করি। অনেক এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।
ঢাকার অদূরে টঙ্গীর সিলিন্ডার ব্যবসায়ী মিঠু মুঠোফোনে বলেন, সর্বশেষ গত সপ্তাহে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সিলিন্ডার বিক্রি করেছি (১২ কেজির)। এই সপ্তাহে পাচ্ছি না। দোকান একেবারেই খালি। মাহাজন দিতে না পারলে আমরা সিলিন্ডার কই পাবো!
রাজধানীর ধানমন্ডির বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, গতকাল ২ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার (১২ কেজির) কিনেছি। দোকানদারের কাছে রশিদ চাইলাম, দিলো না। এখন রশিদ চাইলে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না।
এদিকে দেশে চলমান সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে বেসরকারি খাতে এলপিজির একক নির্ভরশীলতা কাটাতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। সরকার থেকে সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।
ফাওজুল কবির খান বলেন, বিপিসিকে এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রক্রিয়া শুরুর জন্য বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসানকে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হচ্ছে। কাজ চলছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে এলপিজির সংকট দেখা দিলে এলপিজি আমদানির অনুমতি চেয়ে ১০ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছিল বিপিসি। চিঠিতে বলা হয়, দেশের এলপিজি বাজার পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় সংকটের সময় সরকারিভাবে বাজারে হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। ফলে সরবরাহ ঘাটতি ও কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে তা মোকাবিলার কার্যকর কোনো হাতিয়ার সরকারের হাতে থাকে না। বিপিসির ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটি যেন এলপিজি আমদানি করতে পারে সেই প্রক্রিয়া শুরু হলো।
দেশে চলমান সংকট কাটাতে এলপিজি আমদানির নীতিগত অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির জন্য এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে বিপিসিকে। ইতোমধ্যে প্রক্রিয়া শুরুর জন্য বিপিসির চেয়ারম্যানকে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হচ্ছে।
গত ১২ জানুয়ারি তিনি বলেছিলেন, সংকটে আমাদের পক্ষে যা যা করা দরকার ছিল, সবই আমরা করেছি। এখন একটাই সমাধান— সরকারকেই এলপিজি আমদানি শুরু করতে হবে। জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, গ্রাহকদের ভোগান্তির কথা ভেবেই আমরা এলপিজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসেছি, পরিবেশক সমিতির সঙ্গেও আলোচনা করেছি। কিন্তু সংকট কাটাতে এলপিজি আমদানি বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও