• রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন

এখনও ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রভাত রিপোর্ট / ৩ বার
আপডেট : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাপ কমলেও ডলার কেনা বন্ধ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। রেমিট্যান্স প্রবাহে জোরালো প্রবৃদ্ধি এবং বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও ডলার কিনেছে। নীতিনির্ধারকদের মতে, এটি শুধু তাৎক্ষণিক বাজার স্থিতিশীলতার পদক্ষেপ নয়, বরং রিজার্ভ শক্তিশালী করা ও বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি কৌশলগত উদ্যোগ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২৩ ফেব্রুয়ারির জন্য আটটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ১২ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার কেনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কাট-অফ রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। এর ফলে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে এখন পর্যন্ত মোট ডলার কেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪৪ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) মোট ডলার ক্রয় হয়েছে ৫৩৮ কোটি ১৫ লাখ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক তা সংগ্রহ করে রিজার্ভে যোগ করছে।
ডলার কেনার পেছনে অন্যতম বড় কারণ প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক উত্থান। ১৯ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি— এই তিন দিনে দেশে এসেছে ১৮ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। আর ১ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৩০ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১৯১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এ সময়ে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ দশমিক ৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২,১৭৪ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১,৭৮৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সে হিসাবে অর্থবছরের প্রথম প্রায় আট মাসে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রফতানি আয়ের কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। ফলে বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে এবং অতিরিক্ত অস্থিরতা ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করছে।
একদিকে এটি রিজার্ভ পুনর্গঠনে সহায়তা করছে। অপরদিকে বাজারে অতিরিক্ত টাকার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখছে। কারণ, ডলার কেনার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে টাকার তারল্য কিছুটা শোষণ করতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ডলার কেনা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে কিনা, তা নির্ভর করবে রেমিট্যান্স প্রবাহ, আমদানি চাহিদা ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপের ওপর। যদি রেমিট্যান্সের প্রবাহ শক্তিশালী থাকে এবং আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রিত থাকে, তবে রিজার্ভ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। সব মিলিয়ে চিত্রটি বলছে— ডলার সংকটের তীব্র সময় পেরিয়ে বাজার এখন কিছুটা স্বস্তিতে। আর সেই সুযোগেই এখনও ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় এক ধরনের সতর্ক কিন্তু ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও