• রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ন

বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব, কে পেলেন কোন পুরস্কার

প্রভাত রিপোর্ট / ৫ বার
আপডেট : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

প্রভাত বিনোদন: রাজনৈতিক বিতর্কে উত্তাল এক আসরেই সেরা ছবির মুকুট জিতল ‘ইয়েলো লেটার্স’। শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বর্ণভালুক (গোল্ডেন বিয়ার) হাতে তুললেন জার্মান-তুর্কি নির্মাতা ইলকার চাতাক। জুরিবোর্ডের সভাপতি ভিম ভেন্ডার্স তাঁর হাতেই তুলে দেন উৎসবের সর্বোচ্চ সম্মান।
‘ইয়েলো লেটার্স’ সমসাময়িক তুরস্কে বসবাসকারী এক নাট্যকার ও তাঁর অভিনেত্রী স্ত্রীর গল্প। প্রতিবাদী থিয়েটারের কারণে তাঁরা রাষ্ট্রের নিশানায় পড়েন। ব্যক্তিগত জীবন, পেশা ও সামাজিক অবস্থান—সবকিছু ভেঙে পড়তে থাকে। ছবিটির বিশেষত্ব হলো, কাহিনি পুরোপুরি তুরস্কে আবর্তিত হলেও শুটিং হয়েছে জার্মানিতে; এমনকি জার্মান শহরগুলোকে টাইটেল কার্ডে তুরস্কের শহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ফর্মাল কৌশলই ছবিটিকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা।
ভিম ভেন্ডার্স পুরস্কার দেয়ার সময় বলেন, ছবিটি ‘সর্বাধিনায়কতন্ত্রের রাজনৈতিক ভাষা’র বিপরীতে ‘সহমর্মিতার সিনেমার ভাষা’কে দাঁড় করিয়েছে এবং এটি ভবিষ্যতের এক ভীতিকর আভাস। ৪২ বছর বয়সী ইলকার চাতাকের জন্য এটি বড় সাফল্য। তাঁর আগের ছবি ‘দ্য টিচার্স লাউঞ্জ’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছিল এবং অস্কার মনোনয়নও পেয়েছিল। দীর্ঘ ২২ বছর পর কোনো জার্মান-তুর্কি নির্মাতা বার্লিনে শীর্ষ পুরস্কার জিতলেন-সবশেষে ২০০৪ সালে এই সম্মান পেয়েছিলেন ফাতেহ আকিন।
সিলভার বিয়ার গ্র্যান্ড জুরি প্রাইজ গেছে ‘স্যালভেশন’-এর ঝুলিতে। পরিচালক এমিন এললারের ছবিতে তুরস্কের কুর্দি অঞ্চলের ২০০৯ সালের এক বাস্তব ঘটনার প্রেরণা ব্যবহার করেছেন। তবে তিনি এটিকে বৃহত্তর জাতিগত সংঘাত ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গের রূপক হিসেবেও দেখেছেন। পুরস্কার গ্রহণের ভাষণে গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা একা নন’, যা হলে ব্যাপক করতালি তোলে।
তৃতীয় সর্বোচ্চ জুরি পুরস্কার পেয়েছে মার্কিন নির্মাতা ল্যান্স হ্যামারের ‘কুইন অ্যাট সি’। ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত এক দম্পতিকে ঘিরে নির্মিত এই পারিবারিক নাটকটি সেরা পার্শ্বচরিত্রের সিলভার বিয়ারও জিতেছে—অভিনেতা টম কোর্টনি ও আনা কাডলার-মার্শাল। সেরা পরিচালকের পুরস্কার গেছে ব্রিটিশ নির্মাতা গ্রান্ট গির হাতে ‘এভরিবডি ডিগস বিল ইভানস’ ছবির জন্য। মার্কিন জ্যাজ পিয়ানোবাদক বিল ইভানসকে নিয়ে নির্মিত এই জীবনীচিত্রে অভিনয় করেছেন নরওয়েজিয়ান তারকা অ্যান্ডার্স ড্যানিয়েলসেন লাই। জেন্ডার-নিরপেক্ষ সেরা প্রধান অভিনয়ের সিলভার বেয়ার পেয়েছেন জার্মান অভিনেত্রী সান্দ্রা হুলার।
মার্কুস শ্লাইনৎসার পরিচালিত ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি ‘রোজ’-এ সপ্তদশ শতকের এক নারী, যিনি পুরুষ সেজে জীবন যাপন করেন, এই জটিল চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি সম্মানিত হন। ২০ বছর আগে বার্লিনেই প্রথম পুরস্কার জেতার স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘তখন মনে হয়েছিল আমি বোধ হয় মরে যাব’—তাঁর কথায় হাসির রোল ওঠে হলে।
এবারের বার্লিন উৎসবজুড়ে শিল্প ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে তুমুল আলোচনা হয়েছে। গাজা যুদ্ধ নিয়ে জার্মান সরকারের অবস্থান এবং উৎসব কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সমাপনী বক্তব্যে উৎসব পরিচালক ট্রিসিলা টাটল ‘সমালোচনা গণতন্ত্রের অংশ। আবেগঘন হলে সেটি ব্যর্থতা নয়—এটাই বার্লিনালের কাজ, এটাই সিনেমার কাজ।’ ভ্যারাইটি অবলম্বনে


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও