জুয়েল রানা,কালিয়াকৈর: গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পৌরসভা সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের হাটবাজারে রমজান মাসে লেবু,তরমুজ,ধনেপাতা সহ বিভিন্ন সবজি নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য বিক্রি করা হচ্ছে চড়া মুল্যে। চড়া মুল্যে রমজানের নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য বিক্রি করায় ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ হতাশা বিরাজ করছে। অনেক ক্রেতাকে দাম বেশি থাকায় পণ্য ক্রয় না করে ফিরে যেতে দেখা গেছে। বাড়তি মুল্যে সবজিসহ বিভিন্ন পন্য বিক্রি করলেও বাজার মনিটরিংয়ে নজর নেই উপজেলা প্রশাসনের। ক্রেতাদের দাবি প্রশাসের পক্ষ থেকে যদি বাজার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকতো তাহলে হয়তো ক্রেতাদের বাড়তি দামে পন্য ক্রয় করতে হতোনা।
খোজ নিয়ে জানা যায়, কালিয়াকৈর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার বিভিন্ন হাটবাজারে রমাজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্য বাড়তি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। লেবু বিক্রি করা হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি,তরমুজ বিক্রি করা হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি,ধনেপাতা ৬০ থেকে-৮০ টাকা কেজি। অথচ রোজার আগে এসব পন্যের দাম ছিল হাতের নাগালে।
সফিপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায় ক্রেতারা দোকানীদের সাথে দাম নিয়ে কষাকষি করছে। দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা মাল না কিনেই অনেকইে চলে যেতে দেখা গেছে।
এসময় কথা হয় দুলাল নামের এক ক্রেতার সাথে। তিনি বলেন, লেবু কিনতে আইছিলাম। কিন্তুু এত দাম কিনতে সাহস পাচ্ছি না। এক কেজী লেবু দাম চাচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। অত টাকা নাই। তাই ফিরে যাচ্ছি। এসময় তিনি আরো বলেন, বাজারেও যদি প্রশাসনের লোক সপ্তাহে একদিন করেও আসতো তাহলে দোকানদাররা মালের দাম বেশি নিতে পারতো না। কিন্ত তাদের ও কোন খোজঁ খবর নেই।
অপর ক্রেতা আব্দুল হাই বলেন, বাবা বাজারে সব জিনিসের দামে আগুন। একটা কিনলে আরেকটার টাকা থাকেনা। কিযে একটা অবস্থা। আমাদের গরিবের জন্য এটা জুলুম হয়ে যায়। তরমুজ বিক্রি করছে কেজি ধরে। এটা দেখার কেউ নেই। লেবু বিক্রি করা হচ্ছে কেজি ধরে। এটা কোনদিন দেখিনি। আগে দেখতাম রোজা আইলে প্রশাসনের লোকজন এসে বাজারে অভিযান চালাইত। কিন্ত এখনতো তারা আর আসেনা। ইফতারের বাজারও বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। তা আবার তেমন সুবিধার নয়। এরকম অভিযোগ বাজারে ক্রয় করতে আসা প্রায় সকল ক্রেতাদের।
তবে বিক্রেতাদের অভিযোগ আমরা বেশি দামে বাগান থেকে লেবু কিনে আনি। তাই আমাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। তরমুজের দোকান একই কথা। বেশি দামে কিনে আনতে হয়। তাই বেশি দামে বিক্রি করি।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন,নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে । কিছু কিছু পন্য বিক্রেতারা বেশি দামে কিনছে। তাই তারা বেশি দামে বিক্রি করছে। তারপরও তারা যেন বেশি দামে বিক্রি করতে না পারে সেজন্য আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।