• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১১ অপরাহ্ন
৪ লাখ ১৩ হাজার ২৯ টাকা বরাদ্দ, বিতরণ ৩ লাখ

নাজিরপুরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের টাকা বিতরণে অস্বচ্ছতার অভিযোগ

প্রভাত রিপোর্ট / ১১১ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬

মোঃ বাবুল শেখ, পিরোজপুর : পবিত্র ঈদুল ফিতর-২০২৬ উপলক্ষে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় অসহায়, দুস্থ ও অনগ্রসর মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ বিতরণকে ঘিরে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত উপকারভোগীদের পরিবর্তে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং বরাদ্দকৃত অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, মোট ৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও বুধবার (১৮ মার্চ) উপজেলা কৃষি হলরুমে ৯টি ইউনিয়নের ১০০ জনের মাঝে জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা করে মোট ৩ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়। তবে বাকি ১ লাখ ১৩ হাজার টাকার বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় জনমনে সন্দেহের দানা বেঁধেছে।
অনুষ্ঠানের ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর নাম থাকলেও তিনি উপস্থিত না থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমার নেতৃত্বে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আঃ রাজ্জাক এবং সেক্রেটারি মোসলেউদ্দিন কাজী উপস্থিত থাকলেও বিএনপির কোনো নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের অভিযোগ, তালিকা অনুযায়ী অর্থ প্রদানকালে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বচ্ছল ও কর্মক্ষম ব্যক্তিদের সহায়তা দেয়া হয়েছে। বিএনপির দলীয় পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের কোনো সদস্যকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তালিকা প্রণয়নে স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। ফলে অনেক প্রকৃত দরিদ্র ব্যক্তি এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে সরকারের মানবিক উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আঃ রাজ্জাক বলেন, আমরা নাজিরপুরে তিন লাখ টাকা পেয়েছি। ইউএনও মহোদয়ও আমাকে তিন লাখ টাকার কথাই জানিয়েছেন। দলীয় সূত্রেও জেনেছি, নাজিরপুরে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। সেই অনুযায়ী ১০০ জনের মাঝে জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা করে বিতরণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু হাসান খান জানান, বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া শাহনাজ তমার সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার হোয়াটসঅ্যাপে খুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও