• মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন

গতি নিয়ন্ত্রণে গণপরিবহনে চালু হচ্ছে জিপিএস : সড়কমন্ত্রী

প্রভাত রিপোর্ট / ২৩ বার
আপডেট : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে দেশের সব পাবলিক ও বাণিজ্যিক পরিবহনে জিপিএস সিস্টেম চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রবিবার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মন্ত্রী বলেন, জিপিএস প্রযুক্তি চালু হলে যানবাহনের গতি, অবস্থান এবং ট্রাফিক আইন মানা হচ্ছে কি না, সবকিছুই সহজে মনিটর করা যাবে। এছাড়া মাঝপথে যাত্রী ওঠানো, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে সব বাস ও কমার্শিয়াল যানবাহনে জিপিএস ডিভাইস স্থাপন করা হবে। নির্ধারিত গতিসীমা ৬০ বা ৮০ কিমি প্রতি ঘণ্টা অতিক্রম করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড সংরক্ষণ হবে এবং সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো গাড়ি ফিটনেস নবায়ন না করেও রাস্তায় নামলে জিপিএস ডাটার মাধ্যমে তা শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিআরটিএ ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করবে।
এবার ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা ও কর্মস্থলে ফেরা ‘স্মুথ’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, ‘দুটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া যানজট বলেন, মানুষের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অথবা যানবাহনের অভাবে বাড়ি যেতে পারছেন না, ঈদের দিনও রাস্তায় কেটেছে এরকম আগে ছিল। আমরা মনে করছি, যে কোনো সময়ের চেয়ে দেড় কোটি মানুষ নিরাপদে, স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করি। যদিও আমি বলছি যে, দু-তিনটি দুর্ঘটনা আমাদের ব্যথিত করেছে এবং আমাদের যেটা বলা হয় ভারাক্রান্ত করেছে। রবিবার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সভাকক্ষে দেশের সড়ক দুর্ঘটনা রোধ, সড়কে সার্বিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সরকারের কার্যক্রম জোরদার করতে উচ্চপর্যায়ের সভা শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ দাবি করেন মন্ত্রী।
শেখ রবিউল আলম বলেন, “ঈদের জার্নি স্মুথ হয়েছে বলেই আমি মনে করি। কারণ দেড় কোটি মানুষ তিনদিনের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে চেয়েছে, কোথাও কোনো বড় ধরনের দু-একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটার জন্য আমরা দুঃখিত, জাতি দুঃখিত, জাতি ভারাক্রান্ত, মর্মাহত। একটা প্রাণেরও ‘ডিপারচার’ কেউ চায় না।”
দুর্ঘটনার জন্য আসলে দায়ী কারা-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, দুর্ঘটনার জন্য কাউকে বিশেষভাবে দায়ী আমি করতে চাই না। তবে এর সঙ্গে যাদের প্রাথমিক পর্যায়ে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তদন্ত কমিটি করে তো এগুলো দেখতে হচ্ছে, যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছি, ডিপার্টমেন্টাল ব্যবস্থা যে যেখানে আছে সেটা কিন্তু আমরা নিয়েছি।’
রবিউল আলম বলেন, ‘যেমন রেলের আপনি জানেন ওই দুজন গার্ডকে বহিষ্কার করা হয়েছে, গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের যে বস ছিল সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার যিনি ওখানে ওই গার্ডগুলো রাখা এবং তারা ফাংশন করছে কি না, উপস্থিত আছে কি না, এ যে অফিসারের দায়িত্ব ছিল, তাকেও আমরা চাকরিচ্যুত করে ব্যবস্থা নিয়েছি। অর্থাৎ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রী নিয়ে পদ্মায় ডুবে যাওয়া সৌহার্দ্য পরিবহনের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না হলে শুধু ওই বাসটি না, ওই কোম্পানির সব বাসের রেজিস্ট্রেশন বা রুট পারমিট বাতিল হয়ে যাবে। যদি তাকে যে কারণ দর্শানো অথবা তার কাছে যে জবাব চাওয়া হয়েছে তার সন্তোষজনক উত্তর না হয়। সেই প্রক্রিয়ায় আমরা চলে গিয়েছি।’ এসময় দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে বেসরকারি সংগঠনের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘নিহত নিয়ে যেটা বলেছেন, আমার মনে হয় যে আপনাদের পরিসংখ্যানের সাথে আমার দ্বিমত হবে। আমরা বিআরটিএ, রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে অথরিটি সবকিছু মিলিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তথ্য-উপাত্ত কালেক্ট করি। সেখানে এবার আপনার মৃত্যুর সংখ্যা হচ্ছে রোড দুর্ঘটনায়, সড়ক এবং নৌপথে যে দুর্ঘটনা ঘটেছে, ১৭০ জন আমার কাছে। তার মধ্যে মহাসড়কে ৪৭ জন, ২৮ জন হচ্ছে নৌপথে, ১৭ জন সম্ভবত হচ্ছে রেলপথে।’ গত বছর ঈদের সময় ১১ দিনে দুর্ঘটনায় ১৮৭ জন মারা গেছেন বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি এ পরিসংখ্যান দিয়ে তুলনা করতে চাচ্ছি না, কোনো মৃত্যুই কাম্য না, আমি প্রথমে বলেছি। তবে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি এ কথা বলা ঠিক হবে না, নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, আগের চেয়ে কম হয়েছে, আগামীতে আমরা আরও কম করব। সেই জন্যই কিন্তু এই প্রস্তুতি সভা, আলোচনা সভা।’


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও