• বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ইউনূস সরকারের নবীন সদস্যদের দুর্নীতির অভিযোগ শামার, প্রমাণ চান নাহিদ পাথরঘাটায় বর্জ্য-দূষন রোধে নীরব প্রতিবাদ জাপানে বিপুল জনশক্তি পাঠানোর প্রস্তুতি বাংলাদেশের ভারতীয় ভিসার বিষয়ে সুখবর দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সংসদে ক্ষুব্ধ জামায়াত আমির ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ চোখে পড়েনি, আরও ভালো নির্বাচনের জন্য ১৯ সুপারিশ অতীতে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য জঙ্গিবাদ শব্দটি ব্যবহার করা হতো : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভূগর্ভস্থ নয়, এখনই ভূপৃষ্ঠের পানির দিকে যেতে হবে: মির্জা ফখরুল রূপপুর প্রকল্পে জ্বালানি লোডিং শুরু, পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে বাংলাদেশ ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আইনের শাসন অপরিহার্য: প্রধানমন্ত্রী

আ. লীগ আমলে পাচার হয়েছে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী

প্রভাত রিপোর্ট / ৭২ বার
আপডেট : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বছরে গড় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা)। পাচার হওয়া এ অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।
তারেক রহমান জানান, অর্থ পাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশকে (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীন) চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি দেশের (মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত) সঙ্গে ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ (এমএলএটি) স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি মিলেছে। অপর ৭টি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্স কর্তৃক চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলাগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে এবং পুলিশের সিআইডি, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল ও শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল (জেআইটি) গঠন করা হয়েছে।
সম্পদ জব্দের পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক দেশে মোট ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। অপরদিকে, আদালতের নির্দেশে বিদেশে মোট ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ হাজার ১৩ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে সর্বমোট প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
মামলার হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ১৪১টি মামলা রুজু করা হয়েছে। যার মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং ৬টি মামলার রায় প্রদান করা হয়েছে। বর্তমান সরকার দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং এবং আর্থিক অপরাধ দমনে বৃহত্তর কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং এতে চিহ্নিত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী চার বছরের মধ্যে দেশব্যাপী চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে আগামী তিন মাসে আরও ৩০ হাজারটি পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানান।
বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেনের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১৫ (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম এই সাংবিধানিক দায়বদ্ধতাকে আধুনিক, ডিজিটাল কাঠামোর মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তরের প্রধান হাতিয়ার। এই কর্মসূচির মূল দর্শন হচ্ছে ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’। বর্তমানে দেশে প্রচলিত ৯৫টিরও বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন এই সহায়তা প্রদান করা হলেও, দারিদ্রতার হার কাঙ্ক্ষিত রূপে হ্রাস পায়নি এবং জনগোষ্ঠীর পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ঘটেনি। দেখা গেছে, কোনো পরিবারের মাকে এ জাতীয় সহায়তা প্রদান করা হলে সহায়তাটি পরিবারের শিশুসহ অন্যান্য সদস্যদের খাদ্য, পুষ্টি, জরুরি চিকিৎসা ও শিক্ষায় ব্যবহার হয় এবং অর্থের অপচয় বা অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় এর সুযোগ হ্রাস পায়। এ কারণে ফ্যামিলি কার্ড পরিবারের প্রধান নারী সদস্যকে প্রদান করা হবে। এতে একদিকে যেমন সহায়তাটি সরাসরি পরিবারের সদস্যদের খাদ্য, পুষ্টি, জরুরি চিকিৎসা ও শিক্ষায় ব্যয় হবে, অন্যদিকে ফ্যামিলি কার্ডটি পরিবারে নারী প্রধানের নামে হওয়ায় পরিবারের সম্পদের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবারে সিদ্ধান্ত প্রদান ও মর্যাদা বৃদ্ধি তথা পরিবার ও সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করবে।
তারেক রহমান বলেন, গত ১০ মার্চ দেশের ১৩টি জেলার তিন সিটি কর্পোরেশন/ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে। বর্তমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাকি তিন মাসে আরও ৩০ হাজারটি পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশব্যাপী চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, দেশের জনগণের আস্থার সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়ে তাদের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্পিকার এবং সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিশ্বাস করে এ দেশের জনগণই সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের প্রাথমিক কাজ বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছে।
সংসদে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সারা দেশের মানুষ যাদের নির্বাচিত করেছেন, সেই নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সব কর্মসূচি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।
অতীতের রাজনৈতিক দলগুলোর ফাঁকা প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, অতীতে অনেক রাজনৈতিক দল বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কেউ কেউ তো টিকিটও বিলি করেছিল। তবে গত নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেটের মাধ্যমে এটিই প্রমাণিত হয়েছে যে, মানুষ বিএনপির ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’সহ অন্যান্য কল্যাণমুখী পরিকল্পনার প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জানিয়েছে। পরিশেষে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের এই আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দেবে। তাদের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে পালন করার ব্যাপারে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
তিনি বলেন, আগামী ১৮০ দিনের কার্যক্রমসহ নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন কার্যক্রম ও অগ্রগতি জানালানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে প্রশ্নের জবাবে সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয় বা বিভাগ আগামী ১৮০ দিন, আগামী অর্থবছর এবং আগামী ৫ বছরের কার্যক্রম তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী সরকারের ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারে কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নের জন্য সব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ আগামী ১৮০ দিন, আগামী অর্থবছর এবং আগামী ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত কার্যক্রম তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে ৩৭,৮১৪টি নারীপ্রধান পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
কৃষক কার্ড প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, কৃষকের সার্বিক সুরক্ষা প্রদানে সরকার কৃষক কার্ড প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাধ্যমে ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে পাইলটিং করা হবে। এছাড়া, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রাথমিক পর্যায়ে ইদুল ফিতরের পূর্বেই ৩২৯৫ জন ইমাম, ২ হাজার ৯৭৫ জন মুয়াজ্জিন, ২ হাজার ৬০৪ জন খাদেম এবং হিন্দু মন্দিরের ১১৪ জন পুরোহিত, ৮৩ জন সেবাইত, বৌদ্ধ বিহার বা প্যাগোডার ১৫ জন অধ্যক্ষ ও ১৬ জন উপাধ্যক্ষসহ সর্বমোট ৯ হাজার ১০২ জন উপকারভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সম্মানী প্রেরণ করা হয়েছে। ই-হেলথ কার্ড প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ই-হেলথ কার্ড প্রদান’ বিষয়ে পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় খুলনা জেলায় ২৫ লক্ষ ই-হেলথ কার্ড প্রদানের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
খাল খনন প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন/পুনঃখনন কর্মসূচি গত ১৬ মার্চ থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। গত জুন পর্যন্ত পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় ১২০৪ কিলোমিটার খাল খনন/পুনঃখনন করবে। এছাড়া, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় গত জুন পর্যন্ত কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য), কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা), টিআর (টেস্ট রিলিফ) এর মাধ্যমে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন/সংস্কার করা হবে।
পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বনায়ন সৃজনের জন্য ইতোমধ্যে এক কোটি ৫০ লক্ষ বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হয়েছে। উৎপাদিত চারাসমূহ চলতি বছর আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোপণ করা হবে। এ অর্থবছরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।
কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়নে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৯ হাজার শিক্ষককে ট্যাব প্রদান করা হবে, ৩৮৩২টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে এবং ১৭২ জন শিক্ষার্থীকে ইটালিয়ান ও জাপানিজ ভাষা শিক্ষা প্রদান করা হবে। ৪১৮টি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জুন, ২০২৬ এর মধ্যে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সারা দেশে শহর ও গ্রাম অঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কর্মকৌশল নির্ধারণে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। হাই-টেক বা সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারসমূহ কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য এবং বাংলাদেশে পেপাল এর কার্যক্রম আরম্ভে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নির্বাচনি ইশতেহারকে প্রাধান্য দিয়ে বেতন কাঠামোর আওতায় জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ‘ক্রীড়া ভাতা’ চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে যার মধ্যে প্রথম ধাপে ১২৯ জন আন্তর্জাতিক বিষয়ে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে।
ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় বিদ্যমান জামানতবিহীন ঋণ সীমা ০৩ লক্ষ হতে ১০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রাপ্তির পূর্বেই সার্টিফিটেক অব এলিজিলিটি (সিওই) এর ভিত্তিতে এ ঋণ প্রদান সহজীকরণ করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও