মো. মাহবুবুর রহমান, পাথরঘাটা : আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ওপর সরকারের আরোপিত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হতে যাচ্ছে। এর আগে শেষবারের মতো সাগরে গিয়ে কিছু মাছ ধরে সংসারের খরচ জোগানোর আশায় ছিলেন বরগুনার পাথরঘাটার জেলেরা। কিন্তু তীব্র জ্বালানি তেলের সংকটে সেই আশাও ভেঙে পড়েছে। ফলে ট্রলার প্রস্তুত থাকলেও সাগরে যেতে পারছেন না অধিকাংশ জেলে। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জেলেদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য বন্দর ঘুরে দেখা গেছে, সারি সারি ট্রলার নোঙর করে আছে ঘাটে। অনেক জেলে ট্রলার প্রস্তুত করেও তেলের অভাবে সাগরে যেতে পারছেন না। কেউ কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না।
স্থানীয় জেলে মো. বশির মিয়া বলেন, “নিষেধাজ্ঞার আগে এই সময়টা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই ট্রিপে যা আয় হয়, তা দিয়েই দুই মাস সংসার চালাতে হয়। কিন্তু তেল না থাকায় সাগরে যেতে পারছি না। পরিবার নিয়ে এখন কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না।”
আরেক জেলে আব্দুল কাদের জানান, “আমরা ধারদেনা করে ট্রলার প্রস্তুত করেছি। আশা ছিল শেষ ট্রিপে কিছু মাছ ধরে ঋণ শোধ করব। কিন্তু তেলের জন্য এখন সব কিছু অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।”
ট্রলার মালিক মো. সোহেল রানা বলেন, “একটি ট্রলার সাগরে পাঠাতে ১০ থেকে ২০ ব্যারেল জ্বালানি তেল প্রয়োজন। বাজারে তেলের সংকট থাকায় চাইলেও ট্রলার পাঠানো যাচ্ছে না। এতে আমাদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।”
পাথরঘাটার স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এই সংকট শুধু জেলেদের নয়, এর প্রভাব পড়বে পুরো এলাকার অর্থনীতিতে। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বাজারে মাছের সরবরাহ কমে যাবে এবং অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়বেন।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর প্রজনন মৌসুমে সামুদ্রিক মাছের বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাগরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে নিষেধাজ্ঞার আগে জ্বালানি সংকটের কারণে জেলেরা সাগরে যেতে না পারায় তাদের আর্থিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
স্থানীয় সমাজকর্মী মির্জা শহিদুল ইসলাম খালেদ বলেন, “নিষেধাজ্ঞা সামনে রেখে যখন জেলেদের শেষ ভরসা ছিল সাগরে যাওয়া, ঠিক তখনই জ্বালানি সংকট তাদের সেই পথ বন্ধ করে দিয়েছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে পাথরঘাটার শত শত ট্রলার মালিক ও হাজারো জেলে পরিবার মানবিক সংকটে পড়তে পারে।”
এ ব্যাপারে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, “পাথরঘাটা শহরের কিছু অসাধু তেল ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে প্রতি ব্যারেলে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বেশি দামে তেল বিক্রি করছে। সাগরেও মাছ কম, আবার বেশি দামে তেল কিনে কোনোভাবেই জেলেরা পোষাতে পারবে না। তাই অসহায় জেলেরা ঘাটে বসেই অলস সময় পার করছেন।”