• মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ন

শেষ হলো বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনের সব প্রচার-প্রচারণা

প্রভাত রিপোর্ট / ২৫ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা,বগুড়া: বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনের সব ধরণের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল)। এদিন সকাল ৭টা সাতটা থেকে নির্বাচনি এলাকায় সব ধরনের জনসভা, মিছিল ও শোভাযাত্রাসহ সব প্রকার প্রচার-প্রচারণা বন্ধ রয়েছে।
এর আগে সোমবার (৬ এপ্রিল) সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার মো. ফজলুল করিম সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১১ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টার পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় কোনো ব্যক্তি কোনো জনসভা আহ্বান বা তাতে যোগদান করতে পারবেন না।
আগামী ৯ এপ্রিল এই আসনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় এটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরপরই উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
এবারের উপনির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন তিন প্রার্থী। তারা হলেন- বিএনপির মো. রেজাউল করিম বাদশা (ধানের শীষ), ১১-দলীয় ঐক্যজোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর শহর শাখার আমির আবিদুর রহমান সোহেল (দাঁড়িপাল্লা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রার্থী আল আমিন তালুকদার (ফুলকপি)।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া সদর আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ২৩৪ জন এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৭৯৯ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ১০ জন ভোটার রয়েছেন। মোট ১৫০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
রিটার্নিং অফিসার মো. ফজলুল করিম জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন রোধে মাঠে থাকবে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৪১ বগুড়া-৬ নির্বাচনি এলাকার শূন্য আসনে উপনির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনি এলাকায় বিভিন্ন ধরনের যান চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌফিকুর রহমানের সই করা গণবিজ্ঞপ্তিতে এই আদেশ জারি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিবসের পূর্ববর্তী মধ্যরাত অর্থাৎ ৮ এপ্রিল দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ৯ এপ্রিল মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় ট্যাক্সি ক্যাব, প্রাইভেট কার, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এছাড়া আজ ৭ এপ্রিল মধ্যরাত ১২টা থেকে ১০ এপ্রিল মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। তবে বেশ কিছু ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক, জরুরি সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন, ওষুধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি এবং সংবাদপত্র বহনকারী সব ধরনের যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী যানবাহন অথবা দূরপাল্লার যাত্রী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে যাতায়াতের জন্য যেকোনো যানবাহন চলাচল করতে পারবে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনি এজেন্টের জন্য রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন ও স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে একটি করে গাড়ি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে। সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক অথবা জরুরি কাজে ব্যবহৃত যানবাহন বা মোটরসাইকেল নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে।
জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর ছাড়াও আন্তঃজেলা বা মহানগর থেকে বের হওয়ার বা প্রবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক ও প্রধান রাস্তার সংযোগ সড়ক বা অনুরূপ সব রাস্তায় এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে সক্রিয় থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও