• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
উপকূলবাসীকে রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী ‘শ্রম আইনের ওপর বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অনেকাংশে নির্ভর’ এআইনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ ৯ অ্যাপ-সফটওয়্যার চালু জামায়াত নিজেই স্বীকার করে নিয়েছে কারা খুনি-ধর্ষক ছিল: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তি সংসদে আনা হোক: রুমিন ফারহানা দুই অঙ্ক থেকে কমিয়ে সুদহার বিনিয়োগবান্ধব করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী দাম বাড়লো সয়াবিন তেলের ‘মিনার-ই-দিল্লি’ সম্মাননায় ভূষিত রুনা লায়লা জুলাই থেকে ফ্রি ড্রেস-ব্যাগ-জুতা পাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা ৩৫ বছর পরও উপকূলে আতঙ্ক: ১৯৯১-এর ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষত আজও শুকায়নি

ভাঙ্গায় মাতুব্বরদের শপথ, দেশীয় অস্ত্র পোড়ালেন এমপি

প্রভাত রিপোর্ট / ৪৪ বার
আপডেট : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা, ফরিদপুর: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চার গ্রামের সংঘর্ষের দুই দিন পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি সংশ্লিষ্ট গ্রামের মাতুব্বরদের সংঘর্ষে না জড়ানোর শপথ করান এবং সংঘর্ষে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র পুড়িয়ে দেন। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজওয়ান দীপু এবং ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান।
সমাবেশে মুনসুরাবাদ, খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিংগারিয়া গ্রামের আটজন মাতুব্বরকে সংঘর্ষে না জড়ানোর শপথ করান এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল। এ সময় সমাবেশস্থলের পাশে সংঘর্ষে ব্যবহৃত ৩৫টি ঢাল ও পাঁচটি কাতরার বাঁশ আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়। এছাড়া টিনের তৈরি ছয়টি ঢাল পোড়ানো সম্ভব না হওয়ায় সেগুলো থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে বলেন, আইন সবার জন্য সমান—এমপি-মন্ত্রী কারও জন্য আলাদা নয়। কাইজ্জা-ফ্যাসাদ কোনো সমাধান নয়, আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান করতে হবে। তিনি স্থানীয়দের শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে সংঘর্ষে জড়ালে কোনো ধরনের তদবির গ্রহণ করা হবে না বলেও সতর্ক করেন। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে পুলিশসহ বহু মানুষ আহত হয়েছেন। সৌভাগ্যবশত কেউ নিহত হয়নি, তবে এমন পরিস্থিতি আবার হলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এ ধরনের ঘটনা এলাকায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম। এ সময় বিভিন্ন গ্রামের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দিয়ে ভবিষ্যতে আর সংঘর্ষে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে এমপির উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ বাজার এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে চার গ্রামের লোকজনের মধ্যে ৫-৬ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ৬০ জন আহত হন। পরদিন এ ঘটনায় ভাঙ্গা থানায় ৬৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। ইতিমধ্যে এজাহারভুক্ত ১২ জন আসামিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ভাঙ্গা থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, এমপির উদ্যোগে এলাকায় দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম চলছে এবং ভবিষ্যতে সংঘর্ষ এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। মামলার বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে বলেও তিনি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও