• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
অধস্তন আদালতে বিচারাধীন ৪০ লাখ ৪২ হাজার মামলা : আইনমন্ত্রী অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্র পড়লে জনগণের অনেক ভোগান্তি হয় : স্পিকার ক্ষমতার পরিবর্তনের চেয়ে মানসিকতার পরিবর্তন বেশি জরুরি: প্রধানমন্ত্রী বিচারিক দায়িত্ব ফিরে পেলেন বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান আইনশৃঙ্খলার স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশ বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাস পরিবর্তন করা হবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা আমার এলাকার হাসপাতাল ‘নিজেই একটা রোগীর মতো’: সংসদে রুমিন ফারহানা ২০৩৩ সালের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী চীন

অপেক্ষার শেষ নেই, তারপরও মিলছে না তেল, ক্ষোভ চালকদের

প্রভাত রিপোর্ট / ৪৯ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: রাজধানীতে জ্বালানি তেলের সংকট ও সীমিত সরবরাহের কারণে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা দিয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন চালকরা। কোথাও নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম তেল দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও তেল শেষ হয়ে পাম্প বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটছে। রাজধানীর ৬০ ফিট এলাকা থেকে বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনে মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি সংগ্রহ করতে এসেছেন হুসাইন সাগর। অন্য পাম্পের তুলনায় এখানে যানবাহনের চাপ বেশি। কারণ, সেনা পরিচালিত এই পাম্পে চাহিদা অনুযায়ী ট্যাঙ্কি পূর্ণ করে তেল নেওয়ার সুযোগ থাকে। তবে বুধবার রাতেও মোটরসাইকেল প্রতি ১০০০ টাকার তেল দেয়া হলেও বৃহস্পতিবার তা কমিয়ে ৮০০ টাকায় নামানো হয়েছে। এতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
হুসাইন সাগর বলেন, বুধবার রাত ১১টায় লাইনে দাঁড়িয়েছি। মহাখালী ফ্লাইওভার থেকে নামার পর লাইন ধরেছি। প্রায় ১৩ ঘণ্টা অপেক্ষার পর পাম্পে পৌঁছেছি কিন্তু এখন ১০০০ টাকার বদলে ৮০০ টাকার তেল দিচ্ছে। কারণও জানায় না। কিছু বললে লাইন থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেয়।’
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশন, পরীবাগের মেঘনা সার্ভিস স্টেশনে গিয়ে তেল নিতে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অন্যদিকে, পরীবাগের পূর্বাচল ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকায় পাম্প বন্ধ পাওয়া যায়। ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনে মোটরসাইকেল প্রতি সর্বোচ্চ ৮০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে মেঘনা ফুয়েল পাম্পে তা আরও কমিয়ে ৬০০ টাকায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন নির্ধারিত সীমার মধ্যে তেল সরবরাহ করতে। চালকদের উদ্দেশে তারা বলেন, ‘নির্দেশনা অনুযায়ী তেল নিতে হবে। না নিলে লাইন থেকে বের হয়ে যেতে হবে।’
মেঘনা ফিলিং স্টেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মো. আশিক বলেন, ‘ভোর পৌনে ৬টা থেকে লাইনে আছি। এখনো তেল পাইনি। কখন পাব তাও নিশ্চিত না।’ মগবাজার থেকে আসা আরেক চালক মো. রাশেদুল হাসান বলেন, ‘ভোর ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। অন্তত আরও আধা ঘণ্টা লাগবে। আগে ১০ লিটার তেল দেওয়ার কথা ছিল, এখন শুনছি ৬০০ টাকার বেশি দিচ্ছে না। ৬-৭ ঘণ্টা অপেক্ষা করে এত কম তেল পাওয়া কষ্টকর।’ মেঘনা ফিলিং স্টেশনের বিক্রয়কর্মী মো. ইয়াসিন বলেন, ‘গতকাল রাত ২টা পর্যন্ত তেল দিয়েছি। একপর্যায়ে পাম্পে উত্তেজনা তৈরি হয়। রাতে চারবার পাম্প বন্ধ করে আবার চালু করতে হয়েছে। তখনও লাইনে হাজার হাজার মানুষ ছিল।’ জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুই দিন ধরেই রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য ঘুরছেন মোটরসাইকেল চালক ইমরান হোসেন। তিনি মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ার করেন। ফলে এই দুই দিন ধরে কোনো যাত্রীই পরিবহন করতে পারেননি ইমরান। বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে রাজধানীর মতিঝিলের কারিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে যখন এই চালকের সঙ্গে কথা হয়, তখন তাঁর সামনে তিন শতাধিক মোটরসাইকেল তেলের জন্য অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে। এদিকে পাম্পের মালিক জানান বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লাইনের বাইরে থেকে তেল নিতে আসা লোকজনের তিনবার পাম্পের কর্মীদের সঙ্গে ও লাইনে থাকা চালকদের সঙ্গে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মোটরসাইকেল চালক ইমরান হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দুই দিন ধরে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরছি। এখনো তেল নিতে পারিনি। আজও তেল পাব কি না, জানি না। আল্লাহ ভাগ্য রাখলে হয়তো পাব। কিন্তু ভোগান্তি অনেক। এই দুই দিন অফ ডে যাচ্ছে। একটা ভাড়াও নিতে পারিনি।’ এই রাইডশেয়ার চালক জানান, বুধবার রামপুরার হাজীপাড়া ফিলিং স্টেশনে আট ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাননি। ফিলিং স্টেশনের কাছাকাছি আসতেই তেল শেষ হয়ে যায়। এরপরে মহাখালী, তেজগাঁও, আসাদগেট এলাকায় ১০টির বেশি স্টেশন ঘুরেন। বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকার কারণে বন্ধ দেখতে পান। বাকি যেগুলো চালু ছিল সেগুলোতেও দীর্ঘ লাইন। ফলে তিনি আর লাইনে দাঁড়াননি।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত তেল না পাওয়া চালকের সংখ্যা অনেক। বেলা ১টার সময় রাজধানীর আরামবাগে অবস্থিত মেসার্স এইচ কে ফিলিং স্টেশনে কথা হয় প্রাইভেটকার চালক মোহাম্মদ সুলতানের সঙ্গে। তিনি জানান, বুধবার এই ফিলিং স্টেশনে ১১ ঘণ্টা অপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত তেল পাননি। বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটার সময় লাইনে দাঁড়িয়েছেন।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বিরতি চলছে। এই যুদ্ধ বিরতির সময়ে বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের সংকট কমার পরিবর্তে উল্টো বেড়েছে বলে মনে করেন চালক মোহাম্মদ সুলতান। তিনি বলেন, ‘দিনদিন দেখতেছি ভোগান্তি আরও বাড়ছে, তেল নিতে আমাদের আরও বেশি সময় লাগছে। ভোগান্তি কমার পরিবর্তে উলটো বেড়েছে।’
রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘুরে গত দুই সপ্তাহ তেলের জন্য যে লাইন দেখা গেছে, সে তুলনায় বৃহস্পতিবারের লাইন ছিল সবচেয়ে দীর্ঘ। বেলা ১১ টার সময় রাজধানীর রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে গত দুই সপ্তাহ ঘুরে দেখা গেছে, ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে মোটরসাকেলের লাইন সর্বোচ্চ শহীদবাগের বিএনএন হসপিটালের সামনে পর্যন্ত। কিন্তু সেই মোটরসাইকেলের লাইন আজ বিএনএন হসপিটাল অতিক্রম করে শান্তিবাগের গলির মাঝামাঝি পৌঁছে গেছে। এর আগে এই স্টেশনে মোটরসাইকেলের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১১৫টি দেখা গেলেও আজকে দেখা গেছে ২২৩টি। প্রাইভেটকারের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৮৯ দেখা গেলেও আজ ১৬৬টি দেখা গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে আরামবাগের মেসার্স এইচকে ফিলিং স্টেশনে। এই ফিলিং স্টেশনে গত দুই সপ্তাহ মোটরসাইকেলের লাইন স্টেশনের সামনে থেকে সর্বোচ্চ ফকিরাপুল পর্যন্ত দেখা গেছে। কিন্তু সেই মোটরসাইকেলের লাইন আজকে ফকিরাপুল ঘুরে রাজারবাগ পুলিশ বক্স ঘুরে এজিবি কলোনির গলি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এই ফিলিং স্টেশন এর আগে তেলের জন্য অপেক্ষা করা মোটরসাইকেলের সংখ্যা সর্বোচ্চ ২৩৭ দেখা গেলেও আজ দেখা গেছে ৩৯৪টি। ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা সর্বোচ্চ ২৩২ দেখা গেলেও আজ দেখা গেছে ৩২৯টি।
মতিঝিলের কারিম এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে গত দুই সপ্তাহ ধরে মোটরসাইকেলের লাইন সর্বোচ্চ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনের সামনে পর্যন্ত দেখা গেছে। আজকে সে মোটরসাইকেলের লাইন বাফুফে ভবন ঘুরে গাজী দস্তগীর সড়কের মাঝামাঝি পৌঁছে গেছে। এর আগে এই ফিলিং স্টেশনে বাইকের সংখ্যা সর্বোচ্চ ২৩৪টি দেখা গেলেও বৃহস্পতিবার দেখা গেছে ৩০২টি।
তিনটি ফিলিং স্টেশনে বিশৃঙ্খলা এড়াতে বৃহস্পতিবার পুলিশ মোতায়েন দেখা গেছে। বেলা ১টার দিকে আরামবাগের মেসার্স এইচ কে ফিলিং স্টেশনে লাইন অতিক্রম করে তেল নেওয়া চেষ্টা করা কয়েকজনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরিয়ে দিতে দেখা গেছে। বেলা ২টার সময় মতিঝিলের কারিম ফিলিং স্টেশনেও লাইনের বাইরে থেকে তেল নিতে আসা গাড়িগুলোকে পুলিশ সরিয়ে দেয়। এই ফিলিং স্টেশনের মালিক আব্দুস সালাম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনবার পাম্পের কর্মীদের সঙ্গে চালকদের ও লাইন অতিক্রম করা নিয়ে চালকেরা নিজেদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘এসব এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। পুলিশ সদস্যরা আছেন। তারা শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করছেন।’ চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না বলে জানান আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, আগে যেখানে ১৩ হাজার লিটার অকটেন পেতেন, সেখানে এখন সাড়ে ৪ হাজার লিটার পাচ্ছেন। এই তেল কয়েক ঘণ্টার ভেতর শেষ হয়ে যায়। এরপর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন তাদের (পাম্পের লোকজন) সঙ্গে ঝগড়া শুরু করে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও