• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
অধস্তন আদালতে বিচারাধীন ৪০ লাখ ৪২ হাজার মামলা : আইনমন্ত্রী অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্র পড়লে জনগণের অনেক ভোগান্তি হয় : স্পিকার ক্ষমতার পরিবর্তনের চেয়ে মানসিকতার পরিবর্তন বেশি জরুরি: প্রধানমন্ত্রী বিচারিক দায়িত্ব ফিরে পেলেন বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান আইনশৃঙ্খলার স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশ বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাস পরিবর্তন করা হবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা আমার এলাকার হাসপাতাল ‘নিজেই একটা রোগীর মতো’: সংসদে রুমিন ফারহানা ২০৩৩ সালের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী চীন

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় বরিশালে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট

প্রভাত রিপোর্ট / ৩৫ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা, বরিশাল: চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় বরিশালে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগর ও জেলার বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ঘনঘন লোডশেডিং করা হচ্ছে।
জানা গেছে, বরিশাল-ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলার একাংশের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ন্ত্রিত হয় বরিশালের ২টি গ্রিড সাব-স্টেশন থেকে। এখানে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ২৮০ মেগাওয়াট। তবে বিদ্যমান দুই সাব-স্টেশনের সক্ষমতা এখনো সেই চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।
বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, প্রতিবছর গ্রীষ্মে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি ছাড়ালেই কেবল এত বিদ্যুৎ দরকার হয় এখানে। বুধবার বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই সময়ে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল প্রায় ২৫০ মেগাওয়াট। অথচ দুদিন পিক আওয়ারে ১৫০ মেগাওয়াট করে পাচ্ছে বরিশাল। বাকি ১০০ মেগাওয়াটের চাহিদা সামাল দিতে চলছে লোডশেডিং।
বরিশাল নগরীতে থাকা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির দুটি বিভাগ সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এখানে ৩৫টি ফিডারের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয় বিদ্যুৎ। নগরীতে থাকা এই ৩৫টি ফিডারে বর্তমানে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ৯৫ মেগাওয়াট। কিন্তু বুধবার দুপুর থেকে ৬০ মেগাওয়াটের বেশি আসছে না জাতীয় গ্রিড থেকে। ফলে প্রতিটি ফিডারে গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ রাখা হচ্ছে বিদ্যুৎ। বরিশালের দুটি গ্রিড সাব-স্টেশন থেকে বরিশাল ছাড়াও বিদ্যুৎ যায় ঝালকাঠি, মাদারীপুরের একাংশ ও পিরোজপুরের স্বরূপকাঠীতে। ঝালকাঠি জেলা সদর ও নলছিটি উপজেলা মিলিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা ১২ মেগাওয়াট। স্বরূপকাঠীতে অবশ্য চাহিদা খুব একটা বেশি নয়।
বরিশালের দুটি গ্রিড সাব-স্টেশন থেকে বরিশাল নগরী ও জেলার ৯টি উপজেলাসহ মাদারীপুরের কিছু এলাকায়ও বিদ্যুৎ যায়। এসব উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ আবার নিয়ন্ত্রণ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এছাড়া বাকেরগঞ্জে থাকা গ্রিড সাব-স্টেশনের মাধ্যমে ১৫/২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় ওই উপজেলা ও সংলগ্ন কিছু এলাকায়।
বরিশালে যে দুটি গ্রিড সাব-স্টেশন রয়েছে, তার মধ্যে রূপাতলী সাব-স্টেশনের আওতাধীন এলাকায় বুধবার বিকেল ৩টায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল প্রায় ১২০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে তারা পেয়েছে ৮৯ মেগাওয়াটের কিছু বেশি। একই সময়ে কাশিপুর কলাডেমা সাব-স্টেশন চাহিদার ১৩০ মেগাওয়াটের বিপরীতে পেয়েছে ৬৬ মেগাওয়াট। হিসেব অনুযায়ী সরবরাহ কম ছিল প্রায় ৯৫ মেগাওয়াট। এক্ষেত্রে নগরাঞ্চলে চাহিদার প্রায় ৭০ ভাগ সরবরাহ করা হলেও গ্রামাঞ্চলে দেওয়া হয়েছে ৫০ ভাগেরও কম। ফলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় থাকা মানুষকে সইতে হয়েছে সবচেয়ে দুর্ভোগ।
এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়ছে সাধারণ মানুষ। বেশি ক্ষতির শিকার ব্যবসায়ীরা। এমনিতেই সন্ধ্যা ৭টা থেকে দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তার ওপর দিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ক্রেতা মিলছে না দোকানে। বিপাকে পড়ছে শিক্ষার্থীরাও। ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা। লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের লেখাপড়ায়ও ঘটছে বিঘ্ন।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি বরিশাল-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্নকার বলেন, দুদিন ধরে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছি না আমরা। হয়তো কোনো সমস্যা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু দেখছি না। ডিস্ট্রিবিউশন লাইনে সমস্যা কিংবা উৎপাদনকেন্দ্রের জটিলতার কারণে এটা হতেই পারে। শিগগির এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও