• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন

পিপল ম্যাগাজিনের ‘ওয়ার্ল্ডস মোস্ট বিউটিফুল’ কভার স্টার অ্যান হ্যাথাওয়ে

প্রভাত রিপোর্ট / ১৭ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬

প্রভাত বিনোদন : হলিউডের ঝলমলে দুনিয়ায় সৌন্দর্য, সাফল্য আর আত্মবিশ্বাসের মেলবন্ধনে যে কয়েকজন তারকা আজও সমান উজ্জ্বল, তাঁদের অন্যতম অ্যান হ্যাথাওয়ে। ২০২৬ সালে পিপল ম্যাগাজিনের ‘ওয়ার্ল্ডস মোস্ট বিউটিফুল’ কভার স্টার হিসেবে নির্বাচিত হওয়া যেন তাঁর দীর্ঘ পথচলারই এক নতুন স্বীকৃতি। তবে এই দীপ্তির পেছনে রয়েছে নিজের সঙ্গে লড়াই, বদলে যাওয়ার সাহস এবং নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তনের গল্প।
কভার শুটের সেটে তখন বাজছে ব্যাড বানি, বিলি আইলিশ, ম্যাডোনা—এই তিন তারকার মিশ্রণে তৈরি প্লে লিস্ট। বাতাসে উড়ছে তাঁর পোশাকের পালক, আলো-ছায়ার খেলায় তৈরি হচ্ছে এক অনায়াস সৌন্দর্য। কিন্তু এই স্বাচ্ছন্দ্য সব সময় ছিল না। একসময় নিজেকেই নিজের সবচেয়ে কঠোর সমালোচক মনে করতেন তিনি।
হ্যাথাওয়ে বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি বিশ্বাস করতেন, নিজেকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করলেই তিনি ভালো শিল্পী হতে পারবেন। কিন্তু চল্লিশে পা দেওয়ার পর যেন জীবনের গিয়ার বদলে যায়। তখন আর নিখুঁত হওয়ার চাপে নয়; বরং আনন্দ খুঁজে পাওয়ার দিকেই ঝুঁকেছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘অস্বস্তিকর জীবন আর নয়, আমি এখন শুধু মজার অংশটুকু উপভোগ করতে চাই।’
এ উপলব্ধি আসলে হ্যাথাওয়ের দীর্ঘ ক্যারিয়ারেরই ফল। ২০০১ সালে ‘দ্য প্রিন্সেস ডায়েরিজ’-এর মাধ্যমে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু। এরপর ‘ব্রোকব্যাক মাউন্টেন’, ‘বিকামিং জেইন’-এর মতো শিল্পধর্মী সিনেমা থেকে শুরু করে ‘এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’ কিংবা ‘লা মিজারেবলস’—সব জায়গাতেই নিজের ছাপ রেখেছেন তিনি। ‘লা মিজারেবলস’-এর জন্য জিতেছেন অস্কারও।
২০২৬ সালটা হ্যাথাওয়ের জন্য বিশেষ ব্যস্ততার। এক বছরে মুক্তি পাচ্ছে তাঁর পাঁচটি সিনেমা, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ‘দ্য ডেভিল ওয়ারস প্রাডা ২’। প্রায় দুই দশক পর আবারও অ্যান্ডি স্যাকস চরিত্রে ফেরা, এ যেন নস্টালজিয়া আর নতুন অভিজ্ঞতার এক মিশেল। তাঁর সঙ্গে ফিরেছেন আগের সহশিল্পীরাও—মেরিল স্ট্রিপ, এমিলি ব্লান্ট ও স্ট্যানলি টুচি। হ্যাথাওয়ের ভাষায়, এই পুনর্মিলন ছিল ‘আনন্দে ভরা, সুন্দর একটি অভিজ্ঞতা’।
ব্যক্তিগত জীবনে হ্যাথাওয়ে কৃতিত্ব দেন তাঁর স্বামী অ্যাডাম শুলমানকে। ১৩ বছরের দাম্পত্য জীবন, দুই সন্তান—সব মিলিয়ে তিনি তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা। হ্যাথাওয়ে স্বীকার করেন, এত সাফল্যের পরও জীবনে একটা ‘অবিরাম লড়াই’ থেকে যায়। কিন্তু সেই লড়াইটাকেই তিনি ভালোবাসেন।
সৌন্দর্য সম্পর্কে হ্যাথাওয়ের দৃষ্টিভঙ্গিও আলাদা। তাঁর মতে, ‘সৌন্দর্যের ভেতরে কুৎসিততাও থাকতে পারে, যদি সেখানে সত্য থাকে।’ এ সংজ্ঞা যেন তাঁর নিজের জীবনকেই প্রতিফলিত করে, যেখানে অপূর্ণতা লুকিয়ে না রেখে বরং তাকে গ্রহণ করেই এগিয়ে গেছেন তিনি।
শৈশব থেকেই অভিনয়ের প্রতি হ্যাথাওয়ের আগ্রহ। মাত্র তিন বছর বয়সে মঞ্চে মায়ের অভিনয় দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তিনিও একদিন অভিনেত্রী হবেন। তবে পথটা সহজ ছিল না। কৈশোর থেকে ত্রিশের শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেকে অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যেই দেখেছেন। এমনকি কথা বলতেও তাঁর অসুবিধা হতো।
ক্যারিয়ারের শুরুতে সৌন্দর্য নিয়েও ছিল নানা বিভ্রান্তি। কীভাবে নিজের চুল বা লুক ঠিক করতে হবে, এই ‘ভাষা’ বুঝতেই হ্যাথাওয়ের এক দশক লেগে গেছে। এখন অবশ্য তিনি জানেন, নিজের পছন্দ বোঝাতে হলে কল্পনার চেয়ে ছবিই বেশি কার্যকর।
‘দ্য ডেভিল ওয়াররস প্রাডা’র অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে হ্যাথাওয়ে বলেন, সেটি ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম মজার সময়। যদিও তখন তিনি চাপ আর উদ্বেগে ছিলেন, তবু সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে আজও আনন্দ দেয়। বিশেষ করে মেরিল স্ট্রিপের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা অপরিসীম, যিনি সব সময় নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে চান।
বয়স বাড়া নিয়েও হ্যাথাওয়ের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। চল্লিশের পর তিনি বুঝেছেন, জীবনের উত্থান-পতনকে একটু দূরত্ব থেকে দেখার ক্ষমতা তৈরি হয়। আগে যেখানে ছোট ঘটনাও বড় মনে হতো, এখন তিনি অনেক বেশি শান্ত ও স্থির।
নিজের সৌন্দর্যচর্চা নিয়েও হ্যাথাওয়ের সহজ স্বীকারোক্তি আছে। ভালো কিছু খুঁজে নেওয়া—এটাকেই তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তাঁর মতে, ‘খারাপ পরিবেশ খুব নিষ্ঠুর। এটা ভেতরে নেতিবাচকতা তৈরি করে।’ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

পিপল ডটকম অবলম্বনে


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও