প্রভাত সংবাদদাতা, যশোর: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে অসুস্থ হওয়া থেকে দূরে রাখা, মানুষকে সচেতন করে গড়ে তোলা। কারণ সুস্থ জাতি ছাড়া দেশকে সামনেএগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে ১০ তলাবিশিষ্ট যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই হাসপাতালের উদ্যোগ নতুন নয়। ২০০৬ সালে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এই কাজ অনুমোদন করেছিলেন। গত ২০ বছর যে কাজটি হয়নি, আজকে সেটি আবার শুরু হলো। হাসপাতালটি ৫০০ শয্যার হবে এবং নির্মাণে প্রায় আড়াই বছর সময় লাগবে।
চিকিৎসা সেবায় ‘প্রিভেনশন’ বা প্রতিরোধভিত্তিক নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমরা যদি প্রথমেই দেশের মানুষকে অসুস্থ হওয়া থেকে দূরে রাখতে পারি, তাহলে যারা অসুস্থ হবেন, তারা হাসপাতালে এসে আরও ভালো চিকিৎসা পাবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় সরকার দুটি নীতি নিয়েছে- চিকিৎসা অবকাঠামো বাড়ানো এবং ‘প্রিভেনশন’র ওপর জোর দেওয়া। এ জন্য সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এই স্বাস্থ্যকর্মীদের শতকরা ৮০ শতাংশ নারী হবেন। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে বোঝাবেন কীভাবে খাদ্যাভ্যাস ও সচেতনতার মাধ্যমে ডায়াবেটিস, হার্টের অসুখ, কিডনি সমস্যা কমানো যায়। এটি একদিন পাঁচদিনের বিষয় না। বছরের পর বছর সময় লাগবে। কিন্তু আমাদেরকে শুরু একদিক থেকে করতে হবে।
হাসপাতালে রোগীর চাপ কমানোর যুক্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ একজন ডাক্তার যদি ১০০ রোগী দেখেন, আমরা যদি সেটা কমিয়ে ৩০-এ আনতে পারি, তাহলে একজন রোগীকে বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হবে, বেটার চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।
সরকারি হাসপাতালের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অফিসিয়াল বেড ২৬০০, কিন্তু রোগী আসে ৪০০০-এর মতো। ফলে প্রতিদিন রোগী জমতে থাকে। সেজন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি প্রিভেনশনের ওপর জোর দেব।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রাইভেট হসপিটালের সক্ষমতা ব্যবহার করে আমরা রোগী পাঠাবো, খরচ সরকার বহন করবে। এতে আড়াই বছর অপেক্ষা না করে আড়াই-তিন মাসের মধ্যেই মানুষকে সার্ভিস দেওয়া শুরু করা যাবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহেদ আলম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, সদস্য সাবিরা নাজমুল প্রমুখ।