মো.নজরুল ইসলাম,গাইবান্ধা: কবির কবিতায় তাই তো বলেন, শান্ত দুপুর বেলার শেষে, বাগানে দাঁড়িয়ে একা, ক্যানা ফুলের পাতায় খেলা রোদ্দুর পড়ে থাকে ঢাকা। ক্যানা ফুলের সৌন্দর্য এবং প্রকৃতির সাথে তার সম্পর্ককে তুলে ধরেছেন কবি। ক্যানা ফুল সাধারণত উজ্জ্বল রঙের হয়ে থাকে, যেমন – লাল, কমলা, হলুদ ইত্যাদি। এটি গ্রীষ্মকালে ফোটে এবং এর বড়, সবুজ পাতা এটিকে আকর্ষণীয় করে তোলে। এই কবিতার মাধ্যমে ক্যানা ফুলের রূপ এবং প্রকৃতির সাথে তার সম্পর্ককে বর্ণনা করা হয়েছে।
ক্যানা ফুল (স্থানীয় ভাষায় বলেন,কলাবতী) গ্রামবাংলার রঙিন এক স্মৃতি শৈশবের উঠোন, কাদামাটির পথ আর পুকুরঘাটের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একেকটা ক্যানা ফুল যেন আমাদের ফেলে আসা দিনগুলোর নীরব সাক্ষী। উজ্জ্বল লাল, কমলা, হলুদ বা গোলাপি রঙের ক্যানা ফুল যখন সকালের রোদে ঝলমল করে ওঠে, তখন মনে হয় প্রকৃতি যেন আপন হাতে আঁকছে বাংলার এক জীবন্ত ছবি। কোনো বাগানের সৌন্দর্য বাড়াতে কিংবা সোজা রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা এই ফুলটাকে কখনোই কারও চোখ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। গ্রামের মা-চাচিরা ফুল তুলে রাখতেন ঠাকুরঘরের পূজায়, আবার কেউ কেউ শুধু শোভার জন্য বসার ঘরের কোণে সাজিয়ে রাখতেন। শিশুরা ক্যানা ফুলের ডাঁটা দিয়ে খেলতো বাঁশির মতো করে। তখনকার দিনে ফুল মানেই ছিল আবেগ, ক্যানা ছিল সেই আবেগের সহজ ও চেনা ভাষা। এখন যদিও উত্তরের জেলা গাইবান্ধার প্রায় সব উপজেলা শহরের কোলাহলে হাজার রকম বিদেশি ফুলের ভিড়ে ক্যানা অনেকটাই চাপা পড়ে গেছে, তবুও গ্রামবাংলায় সে এখনো মাথা উঁচু করে ঠাই দাঁড়িয়ে আছে – একটুকরো শেকড় হয়ে, একফালি রঙিন অতীত হয়ে। যেখানে ক্যানা ফুটে, সেখানে হৃদয়ের কোনে যেন এক টুকরো গ্রাম আজো বেঁচে থাকে।
গ্রাম বাংলার এক চিরচেনা রূপ— ক্যানা ফুলের আবেগমাখা গল্প মাঠের আইলে হেঁটে গেলে, নদীর পাড়ে বসে থাকলে কিংবা পুরনো কোনো কাঁচা রাস্তার ধারে হঠাৎই চোখে পড়ে যায় একটি উজ্জ্বল ক্যানা ফুল। অযত্নে, অবহেলায়ও এই ফুল যেন নিজ সৌন্দর্যে প্রকৃতিকে মাতিয়ে তোলে। এই ফুল শুধু একটা ফুল নয়… এটা আমাদের শৈশবের গল্প, দাদির হাতে বাঁধা ফুলের মালা, স্কুল ফাঁকি দিয়ে ভিজে মাটিতে দৌঁড়ানোর দিনগুলোর সঙ্গী। যখন শহরের কোলাহলে হারিয়ে ফেলি প্রকৃতির স্নেহস্পর্শ, তখন এই ক্যানা ফুলই মনে করিয়ে দেয়— আমরা এসেছি সবুজ বাংলারএকগ্রামের মাটির ঘ্রাণ থেকে। যেখানে ভালোবাসা ছিল নির্মল, জীবন ছিল সহজ, আর প্রকৃতির প্রতিটি স্পর্শ ছিলো আপন। আজ আবার ফিরে তাকাই গ্রামবাংলার বুকজোড়া সবুজে, যেখানে একফালি রোদ, একটুকরো আকাশ আর একটি ক্যানা ফুল মিলে তৈরি করে হাজারো আবেগের গল্প… যে গল্পে মিশে আছে ভালোবাসা, শিকড়, স্মৃতি আর এক টুকরো দেশ।
গাইবান্ধা জেলা শহরের ডিবিরোর্ডের ফামার নার্সারির কর্মী মোঃ সৈকত মিয়া বলেন, ক্যানা ফুল (স্থানীয় ভাষায় বলেন,কলাবতী) আগের মতো তেমন পাওয়া যায় না। ওই জাতীয় বিদেশী ফলের কদর বেশী এটা ১৫০থেকে ২০০টাকায় বিক্রিয় হয়। তবে স্থানীয় ক্যানাফুলের দাম কিচ্ছুটা কম।
৬জুলাই, রবিবার দুপুরে সরেজমিনে গাইবান্ধা জেলা শহরের কুঠিপাড়ায় ফুলপ্রেমী মোসাঃ ফরিদা ইয়াসমিনের বাড়ি গিয়ে অবশেষে দেখা মিলল ক্যানাফুলের। এর একটি টবে অন্যটি মাটি রোপন করা। তাঁর বাগানের বিভিন্ন জাতের ফুলের মধ্যে থেকে ছবি তুলি ক্যানা ফুলের (কলাবতীর)। এসময় তিনি বলেন, সখের বসে আমার এক বান্ধুবীর গ্রামের বাড়ি থেকে একটি চারা গাছ সংগ্রহ করে আমার ছেলে আহমেদ লিয়াস। সেই চারা গাছ থেকে এখন দুইটি গাছ হয়েছে। গত তিন বছর ধরে ক্যানাফুল পাচ্ছি।অনেকে এই ফুল দেখতে এসে ছবি তোলেন অনেক ভাল লাগে। তিনি আরও বলেন,একটু ইচ্ছে করলেই যে কেউ গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপ— এই ক্যানাফুলের চারা গাছ সংগ্রহ করে বাড়ি লাগাতে পারেন।